মাত্র ১৮ বছর বয়সে নির্বাচনে জয় পেয়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন জার্সির তরুণ রাজনীতিক গ্যাব্রিয়েল রাইমন্ডো। নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি শুধু স্থানীয় মানুষের অভিনন্দনই পাননি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকেও পেয়েছেন শুভকামনার বার্তা। এই ঘটনাই তাকে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
জার্সির সেন্ট ব্রেলাড এলাকা থেকে প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে বিশ্বের অন্যতম কনিষ্ঠ রাজনীতিকদের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন রাইমন্ডো। নির্বাচনের সময় তার বয়স ছিল ১৮ বছর ১০ দিন।
ট্রাম্পের বার্তায় বিস্মিত তরুণ নেতা
নির্বাচনে জয়ের পর ট্রাম্প তার জন্য শুভকামনা জানান। তরুণদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণকে ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের কল্পনাশক্তি ও উদ্ভাবনী চিন্তা রাজনীতিকে সমৃদ্ধ করতে পারে।

রাইমন্ডো বলেন, এমন বার্তা পাওয়া তার জন্য বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা। তিনি মনে করেন, এর ফলে জার্সি আন্তর্জাতিকভাবে আরও পরিচিত হয়েছে এবং এতে তিনি নিজের দ্বীপ নিয়ে গর্ব অনুভব করেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, রাজনৈতিক বিভাজন তার পছন্দ নয়। তার মতে, কার্যকর রাজনীতির জন্য মতভেদ থাকলেও পারস্পরিক সহযোগিতা জরুরি।
রাজনীতিতে আসার পেছনের গল্প
রাইমন্ডোর পরিবারে রাজনীতির কোনো ঐতিহ্য নেই। তার মা একজন সৌন্দর্যসেবাকর্মী এবং বাবা একজন মেকানিক। অবসর সময়ে তিনি জাদু প্রদর্শন করতে পছন্দ করেন এবং পরিবারের পোষা কুকুরের সঙ্গে সময় কাটান।
তিনি জানান, ছোটবেলায় কখনও রাজনীতিবিদ হওয়ার স্বপ্ন দেখেননি। কিন্তু দ্বীপের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো তাকে নির্বাচনে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করে।
জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ
জার্সিতে জীবনযাত্রার ব্যয় দ্রুত বাড়ছে বলে মনে করেন রাইমন্ডো। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক পণ্যের দাম যুক্তরাজ্যের তুলনায় বেশি হলেও মানুষের আয় সেই হারে বাড়ছে না। ফলে পরিবারগুলো বাড়তি চাপের মুখে পড়ছে।

তিনি মনে করেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা জরুরি। বিশেষ করে প্রযুক্তি, জীবপ্রযুক্তি এবং সৃজনশীল শিল্পখাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
তরুণদের ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ
রাইমন্ডোর মতে, উচ্চশিক্ষার জন্য অনেক তরুণ জার্সি ছেড়ে বাইরে চলে যায় এবং পরবর্তীতে আর ফিরে আসে না। এর প্রধান কারণ পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাব।
তিনি বিশ্বাস করেন, নতুন শিল্প ও কর্মক্ষেত্র তৈরি করা গেলে তরুণদের দ্বীপে ধরে রাখা সম্ভব হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।
প্রচারণায় হুমকি ও হয়রানি
নির্বাচনী প্রচারণা সবসময় সুখকর ছিল না। রাইমন্ডো জানান, প্রচারণার সময় তিনি মৃত্যুর হুমকিসহ নানা ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছেন। কিছু ঘটনা এতটাই গুরুতর ছিল যে সেগুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আনা হয়।

বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাওয়ার সময় তাকে অপমানের মুখোমুখি হতে হয়েছে এবং তার প্রচারণার পোস্টারও নষ্ট করা হয়েছে।
তরুণদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরার অঙ্গীকার
নির্বাচনে জয়কে তিনি এক ধরনের পরিবর্তনের বার্তা হিসেবে দেখছেন। তার মতে, ভোটাররা নতুন চিন্তা ও নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব দেখতে চেয়েছেন।
তিনি মনে করেন, সংসদে তরুণদের কণ্ঠস্বর থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তিনি সেই দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আগামী শীতকালে তিনি স্থগিত রাখা শিক্ষাজীবনের পরীক্ষাগুলো দেবেন। একই সঙ্গে আগামী চার বছর জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তার। ভবিষ্যতে আবার নির্বাচিত হলে আরও দীর্ঘ সময় জনসেবায় থাকার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















