নোয়াখালীর সেনবাগে মাদক ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জেরে এক স্কুলছাত্রকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার রাতে সংঘটিত এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
নিহত আরাফাত হোসেন ফাহিম (১৬) দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তিনি বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার হাজীপুর এলাকার শাহজাহানের ছেলে।
মাদক ব্যবসা নিয়ে উত্তেজনা
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি দেবীসিংহপুর গ্রামে কয়েকজন তরুণ মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করেন। এক পর্যায়ে তারা মাদকসেবী এক ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এলাকার কয়েকজন কথিত মাদক ব্যবসায়ীর নাম সামনে আসে।
এর পর থেকেই স্থানীয় যুবকেরা রাতে এলাকায় পাহারা দেওয়া শুরু করেন। এতে অভিযুক্তদের কার্যক্রম কিছুদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যায় বলে জানা গেছে।

হামলার ঘটনায় নিহত ফাহিম
বুধবার রাত প্রায় ৮টার দিকে বাইতুন আমান মসজিদের কাছে একদল ব্যক্তি কয়েকজন তরুণের ওপর হামলা চালায়। হামলায় আলী হায়দার ফাহিম (১৮), রিফাত (২০) ও সাকিবসহ কয়েকজন আহত হন।
এ সময় দেবীসিংহপুর গ্রামে নানাবাড়িতে বেড়াতে আসা আরাফাত হোসেন ফাহিমও হামলার শিকার হন। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একই ঘটনায় আহত অন্যদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

একজন গ্রেপ্তার
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে মাদকসংক্রান্ত বিরোধ থেকেই এ হামলার সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
নোয়াখালীর এই হত্যাকাণ্ড নতুন করে এলাকায় মাদক ব্যবসা ও তা ঘিরে সহিংসতার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















