পেট্রোলে ইথানলের ব্যবহার বাড়াতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত সরকার। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় ইথানল মিশ্রিত চার ধরনের পেট্রোলের ওপর থেকে আবগারি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে নির্দিষ্ট মাত্রায় ইথানল মেশানো পেট্রোলের ক্ষেত্রে শুল্কের হার শূন্য হবে।
নতুন ঘোষণায় কী থাকছে
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ শতাংশ, ২৫ শতাংশ, ২৭ শতাংশ এবং ৩০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রোলের ওপর আর কোনো আবগারি শুল্ক আরোপ করা হবে না। এই পদক্ষেপকে জ্বালানিতে বিকল্প উপাদানের ব্যবহার বাড়ানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভারত দীর্ঘদিন ধরেই পেট্রোলের সঙ্গে ইথানল মিশ্রণের হার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়ে আসছে। এর লক্ষ্য হলো আমদানিনির্ভরতা কমানো, জ্বালানি নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার উৎসাহিত করা।
জ্বালানির দামের চাপের মধ্যে সিদ্ধান্ত

সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মে মাসের দ্বিতীয়ার্ধে প্রতি লিটারে প্রায় সাড়ে সাত রুপি পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে ইথানলভিত্তিক জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগকে বাজারে চাপ কমানোর একটি প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
এর আগে চলতি বছরের মার্চে ভারত সরকার পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর প্রতি লিটারে ১০ রুপি করে আবগারি শুল্ক কমিয়েছিল। ওই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারকে বছরে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ছাড় দিতে হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব থেকে সাধারণ ভোক্তাদের কিছুটা সুরক্ষা দেওয়াই ছিল সেই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি অনিশ্চয়তা
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্য নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও অব্যাহত রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে চাপ সৃষ্টি করেছে। এর প্রভাব বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো ভারতের জ্বালানি নীতিতেও পড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো হলে একদিকে যেমন তেল আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে, অন্যদিকে জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা অর্জনেও সহায়তা করবে। নতুন শুল্ক ছাড় সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















