যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানা দ্বিতীয় দিনের সামরিক পাল্টাপাল্টি হামলার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতির জেরে বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, উত্তেজনা আরও বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।
উত্তেজনা বাড়াচ্ছে সামরিক সংঘাত
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না বলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক চাপ বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেই প্রেক্ষাপটে দেশটি ইরানের বিভিন্ন স্থানে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়।
এর জবাবে ইরান দাবি করেছে, তারা কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটিগুলোর দিকে দুই দফা হামলা চালিয়েছে। তবে এসব হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীন কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্ব তেলের বাজারে প্রভাব
![]()
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সংঘাত বাড়লেও তেলের বাজার তুলনামূলকভাবে শান্ত ছিল। বিশেষ করে সোমবার হরমুজ প্রণালির কাছে একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার পরও বাজারে বড় প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।
কিন্তু নতুন হামলা ও পাল্টা হামলার পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৫ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দামও প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলারে উঠেছে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে উদ্বেগ
বিনিয়োগকারী ও বাজার পর্যবেক্ষকদের প্রধান নজর এখন হরমুজ প্রণালির দিকে। ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ জলপথ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট।
বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে এ অঞ্চলে যেকোনো ধরনের সামরিক উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে দ্রুত প্রভাব ফেলতে পারে।
শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

তেলের দাম বাড়লেও শেয়ারবাজারে প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র। যুক্তরাষ্ট্রে শেয়ারবাজার পুনরায় লেনদেন শুরু হওয়ার আগে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকের ফিউচার কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী ছিল।
তবে এশিয়ার বাজারগুলোতে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস আমদানিনির্ভর দেশগুলোর বাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা লক্ষ করা যায়। তাইওয়ানের শেয়ারবাজার প্রায় ১ শতাংশ নিচে নেমে খোলে। একইভাবে জাপানের নিক্কেই ২২৫ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচকও নিম্নমুখী ছিল।
জ্বালানির খুচরা দামে ভিন্ন চিত্র
অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লেও যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের খুচরা দামে সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে। বুধবার দেশটির গড় পেট্রোল মূল্য গ্যালনপ্রতি ৪ দশমিক ১৫ ডলারে নেমে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিশোধিত তেলের দামের পরিবর্তন সাধারণত খুচরা জ্বালানি বাজারে কয়েক দিন পরে প্রতিফলিত হয়। ফলে সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ভবিষ্যতে পেট্রোলের দামে দেখা যেতে পারে।
অন্যদিকে ডিজেলের গড় মূল্য বুধবার গ্যালনপ্রতি ৫ দশমিক ৩০ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা যুদ্ধ শুরুর সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















