২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। নতুন বাজেটে আমদানি শুল্ক, কাস্টমস শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক এবং বিভিন্ন কর কাঠামোয় পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে কিছু পণ্য ও সেবার দাম বাড়তে পারে, আবার কিছু ক্ষেত্রে দাম কমার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে
প্রস্তাবিত বাজেটে স্থানীয় শিল্প সুরক্ষা ও রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি পণ্যের ওপর শুল্ক ও কর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাইসাইকেল, সিগারেট, তেলচালিত গাড়ি, ট্রান্সফরমার, ওয়াশিং মেশিন এবং বিভিন্ন আমদানিনির্ভর ভোগ্যপণ্য।
স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বাইসাইকেলের যন্ত্রাংশ ‘ফ্রি হুইল’ আমদানিতে শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার পাশাপাশি ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রয়েছে। ফলে বাইসাইকেলের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে দাম বাড়তে পারে।
সিগারেট ও নিকোটিনজাত পণ্যের ক্ষেত্রেও করের বোঝা বাড়ানো হয়েছে। নিকোটিন গ্র্যানুলস ও নিকোটিন পাউচের ওপর সম্পূরক শুল্ক ৩০০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সিগারেটের ন্যূনতম খুচরা মূল্যও বিভিন্ন স্তরে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার উৎসাহিত করতে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ সিসি ক্ষমতার আমদানি করা তেলচালিত গাড়ির ওপর করভার বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। ফলে এসব গাড়ির দাম বাড়তে পারে।
এক কেভিএ পর্যন্ত ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সফরমার আমদানিতে শুল্ক বৃদ্ধি এবং নতুন সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একইভাবে সব ধরনের গৃহস্থালি ওয়াশিং মেশিন আমদানিতে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।
আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে রড, বিদেশি খাদ্যপণ্য, বিদেশি কাজুবাদাম, পাঙাশ মাছের ফিলেট, প্রাকৃতিক মধু, সুপারি, লিপ লাইনার ও লিপ জেলসহ বিভিন্ন পণ্যের দামও বাড়তে পারে। এছাড়া কম্পোজিট এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের ওপর ভ্যাট আরোপের ফলে বিদেশি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ছাড়া বিদেশি টাইলস, স্যানিটারিওয়্যার, বেসিন, মোটর, জিপসাম বোর্ড, ফোম, মাইক্রোওয়েভ ওভেন এবং খেলনার মতো পণ্যের ক্ষেত্রেও মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে
অন্যদিকে প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও শিল্প খাতকে উৎসাহ দিতে বেশ কিছু পণ্যে কর ও শুল্ক ছাড়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে মোবাইল সিম, স্বর্ণালঙ্কার, দেশীয়ভাবে তৈরি মোবাইল ফোন, ক্যানসারের ওষুধ, ওষুধের কাঁচামাল এবং কিডনি ডায়ালাইসিস-সংক্রান্ত সেবার খরচ কমতে পারে।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ব্যবহারের উপকরণ, লিপস্টিক, ত্বক পরিচর্যার বিভিন্ন পণ্য, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, কম্পিউটার মনিটর এবং ফ্ল্যাশ মেমোরি কার্ডের দামও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
সবুজ জ্বালানি ও পরিবহন খাতে বৈদ্যুতিক যানবাহন, চার্জার, চার্জিং স্টেশন, বৈদ্যুতিক বাস ও ট্রাকের চেসিস, ব্যাটারিচালিত তিন চাকার যান, সৌর প্যানেল এবং সংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশে কর-সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে এসব পণ্যের বাজারমূল্য কমতে পারে।
এ ছাড়া শিল্পের কাঁচামাল, প্যাকেজিং উপকরণ, লিথিয়াম-আয়ন ও সোডিয়াম-আয়ন ব্যাটারি, শিশুখাদ্যের কাঁচামাল, মসলা, খেজুর, কীটনাশক, পোলট্রি ও ডেইরি খাদ্যের কাঁচামাল, আমদানিকৃত মাংস ও সামুদ্রিক খাদ্য, রাইস ব্র্যান তেল, দেশীয়ভাবে সংযোজিত মোটরগাড়ি, বাদ্যযন্ত্র, ফ্লোট গ্লাস, রিফ্র্যাক্টরি সিমেন্ট এবং কার্পেট তৈরির উপকরণের দামও কমতে পারে।
প্রস্তাবিত বাজেট চূড়ান্তভাবে পাস হওয়ার আগে এসব পরিবর্তনে সংশোধন আসতে পারে। তবে বর্তমান প্রস্তাব অনুযায়ী শুল্ক ও কর কাঠামোর পরিবর্তন বাজারে বিভিন্ন পণ্যের দামে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















