বিশ্বকাপ শুরুর আগে কোস্টারিকার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে জয় পেয়েছে ইংল্যান্ড। তবে এই ম্যাচের গুরুত্ব শুধু ফলাফলে নয়, বরং কোচ থমাস টুখেলের কৌশলগত পরিকল্পনা কতটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, সেটিতেই। ফ্লোরিডায় অনুষ্ঠিত ম্যাচটি দেখিয়েছে, বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড কী ধরনের ফুটবল খেলতে চায় এবং কোন জায়গাগুলো এখনো উদ্বেগের কারণ হয়ে আছে।
স্পষ্ট হয়ে উঠেছে খেলার নকশা
টুখেলের অধীনে ইংল্যান্ডের খেলার ধরন এখন অনেকটাই নির্ধারিত। কোস্টারিকার বিপক্ষে ম্যাচে খেলোয়াড়রা নিজেদের স্বাভাবিক অবস্থানে খেলেছেন এবং বল দখলে রাখার সময় প্রত্যেকের দায়িত্ব ছিল পরিষ্কার।
রক্ষণভাগ থেকে আক্রমণ গড়ার দায়িত্ব ছিল সেন্টার-ব্যাক ও মাঝমাঠের রক্ষণাত্মক খেলোয়াড়দের ওপর। প্রতিপক্ষের রক্ষণে ফাঁক খুঁজে বের করে দ্রুত আক্রমণে যাওয়ার পরিকল্পনাই ছিল মূল লক্ষ্য। ফুল-ব্যাক, উইঙ্গার এবং মাঝমাঠের আক্রমণাত্মক খেলোয়াড়দের মধ্যে ত্রিভুজ তৈরি করে আক্রমণ গড়ে তোলার চেষ্টা দেখা গেছে।
এই ব্যবস্থায় একমাত্র স্বাধীন ভূমিকা পেয়েছেন অধিনায়ক হ্যারি কেন। তিনি মাঝেমধ্যে নিচে নেমে এসে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করেন, ফলে উইঙ্গারদের জন্য পেছনের ফাঁকা জায়গায় দৌড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়। ম্যাচে অ্যান্থনি গর্ডন ও ননি মাদুয়েকের কয়েকটি আক্রমণ এই কৌশলের সফল উদাহরণ ছিল।
বেলিংহ্যাম না রজার্স?
টুখেল জানিয়েছেন, তার মতে ১৪ থেকে ১৫ জন খেলোয়াড় নিয়মিত একাদশে জায়গা পাওয়ার মতো অবস্থানে রয়েছেন। তবে কিছু পজিশনে এখনো প্রতিযোগিতা খোলা রয়েছে।
বিশেষ করে দশ নম্বর ভূমিকায় জুড বেলিংহ্যাম ও মরগান রজার্সের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে। একইভাবে বাঁ প্রান্তেও অ্যান্থনি গর্ডন ও মার্কাস রাশফোর্ডের মধ্যে লড়াই চলছে। কেন্দ্রীয় রক্ষণেও জন স্টোনসের সম্ভাব্য সঙ্গী নিয়ে সিদ্ধান্ত পুরোপুরি চূড়ান্ত হয়নি।
সাকার বিকল্প নেই
ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় শক্তিগুলোর একটি হল বুকায়ো সাকা। কোস্টারিকার বিপক্ষে বদলি হিসেবে নেমেও তিনি আক্রমণে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেন।
ননি মাদুয়েকে গতিশীলতা ও ড্রিবলিং দক্ষতা দেখালেও সাকার মতো বহুমাত্রিক প্রভাব তৈরি করতে পারেন না। সাকা গোল করতে পারেন, সুযোগ তৈরি করতে পারেন এবং পাস কিংবা ড্রিবলিংয়ের মাধ্যমে দলকে সামনে এগিয়ে নিতে পারেন। গত কয়েক বছরে তিনি ইংল্যান্ডের সবচেয়ে ধারাবাহিক পারফরমারদের একজন।
তবে তার অ্যাকিলিসের সমস্যাই এখন টুখেলের বড় চিন্তার জায়গা। সাম্প্রতিক সময়ে এই চোটের কারণে তিনি কিছু ম্যাচ মিস করেছেন এবং বিশ্বকাপেও পুরো ৯০ মিনিট খেলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
সেট-পিসে বাড়তি গুরুত্ব
টুখেলের অধীনে ইংল্যান্ড সেট-পিস পরিস্থিতিতে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে তাদের এগিয়ে যাওয়ার অর্ধেক গোলই এসেছে সেট-পিস থেকে।
দলের কোচিং স্টাফ বিশেষ অনুশীলনের মাধ্যমে নতুন নতুন রুটিন তৈরি করেছেন। কোস্টারিকার বিপক্ষে ম্যাচেও কর্নার ও ফ্রি-কিক থেকে পরিকল্পিত আক্রমণের একাধিক উদাহরণ দেখা গেছে।
যদিও আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা নতুন কিছু নির্দেশনা দিয়েছে, যার ফলে কর্নার ও ফ্রি-কিকের সময় খেলোয়াড়দের ধাক্কাধাক্কি ও ব্লক করার কৌশল সীমিত হতে পারে। টুখেল এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বেঞ্চের শক্তি ও উদ্বেগ
কোস্টারিকার বিপক্ষে ম্যাচে বদলি খেলোয়াড়রা মাঠে নেমে দলের গতি ও আক্রমণাত্মক মানসিকতা আরও বাড়িয়ে দেন। ওলি ওয়াটকিনস গোল করে তার কার্যকারিতা দেখিয়েছেন। অন্যদিকে টিনো লিভরামেন্তো, জর্ডান হেন্ডারসন ও মাদুয়েকে ভিন্ন ধরনের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব।
তবে স্ট্রাইকার, ডান প্রান্ত ও কিছু রক্ষণাত্মক পজিশনে প্রথম একাদশের মানের বিকল্পের অভাব এখনো স্পষ্ট। বিশেষ করে হ্যারি কেন, বুকায়ো সাকা ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি হলে সেই শূন্যতা পূরণ করা কঠিন হতে পারে।
বিশ্বকাপের আগে ইতিবাচক বার্তা
ফ্লোরিডার গরম আবহাওয়ায় দীর্ঘ প্রস্তুতির পর ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থা সন্তোষজনক বলে মনে হচ্ছে। কোস্টারিকার বিপক্ষে ম্যাচে দলকে প্রাণবন্ত ও সংগঠিত দেখিয়েছে।
বিশ্বকাপের আগে সবচেয়ে বড় অর্জন সম্ভবত এটিই—টুখেলের দল এখন জানে তারা কীভাবে খেলতে চায়। তবে সাকার ফিটনেস, কেনের বিকল্পের অভাব এবং মৌসুমজুড়ে অতিরিক্ত খেলা কয়েকজন ফুটবলারের শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বিশ্বকাপে সেই প্রশ্নগুলোর উত্তরই নির্ধারণ করতে পারে ইংল্যান্ড কত দূর যেতে পারবে।
বিশ্বকাপের আগে থমাস টুখেলের কৌশল স্পষ্ট হলেও বুকায়ো সাকার ফিটনেস ও স্কোয়াড গভীরতা নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















