দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবারও ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরছে দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রশাসনিক জটিলতা, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট কাটা এবং শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী নাইজেরিয়ার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেও দলটি ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে। ২০১০ সালে নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপ আয়োজনের পর এবারই প্রথম তারা আবার বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলবে।
বিশ্বকাপে চতুর্থ উপস্থিতি
২০২৬ আসর হবে দক্ষিণ আফ্রিকার চতুর্থ বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ। উদ্বোধনী ম্যাচেই তাদের প্রতিপক্ষ সহ-আয়োজক মেক্সিকো। ২০১০ সালের বিশ্বকাপেও প্রথম ম্যাচে এই দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল। সেই স্মৃতি এবার নতুন করে ফিরে আসছে দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবলপ্রেমীদের কাছে।
সম্ভাবনা থাকলেও সাফল্য কম
আফ্রিকার অন্যতম অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার শক্তিশালী পেশাদার লিগ ও সম্প্রচার আয়ের সুবিধা রয়েছে। তবুও আন্তর্জাতিক ফুটবলে দেশটি প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং কোচিং সংক্রান্ত ভুল সিদ্ধান্ত তাদের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করেছে।
বর্ণবাদী শাসনের কারণে একসময় আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল দেশটি। ১৯৯২ সালে সেই নিষেধাজ্ঞা কাটার পর নতুন যাত্রা শুরু হলেও কাঙ্ক্ষিত ধারাবাহিকতা গড়ে ওঠেনি।

এক ভুলে বড় বিপদ
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয় মিডফিল্ডার ও সহ-অধিনায়ক তেবোহো মোকোয়েনাকে ঘিরে। হলুদ কার্ডের কারণে এক ম্যাচ নিষিদ্ধ থাকার কথা থাকলেও তাকে লেসোথোর বিপক্ষে খেলানো হয়।
এই প্রশাসনিক ভুলের কারণে দক্ষিণ আফ্রিকার তিন পয়েন্ট কেটে নেওয়া হয়। তবে শাস্তি কার্যকর করতে দীর্ঘ সময় নেওয়ায় গ্রুপের অন্য দলগুলো ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায়। দেশের ভেতরেও ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত কোচ হুগো ব্রুস দায়িত্ব স্বীকার করেন, যদিও পরে তিনি বিষয়টি নিয়ে আর আলোচনা না বাড়ানোর আহ্বান জানান।
নাইজেরিয়াকে পেছনে ফেলার কৃতিত্ব
তিন পয়েন্ট হারানোর পরও দক্ষিণ আফ্রিকা বাছাইপর্ব শেষ করে নাইজেরিয়ার চেয়ে এক পয়েন্ট এগিয়ে। শুরুতে দুর্বল পারফরম্যান্সের কারণে নাইজেরিয়া পিছিয়ে পড়ে এবং শেষ দিকে ঘুরে দাঁড়িয়েও ব্যবধান ঘোচাতে পারেনি।
এটি প্রথম নয় যে দক্ষিণ আফ্রিকা বাছাইপর্বে নাইজেরিয়াকে পেছনে ফেলেছে। ফলে দলটির সামর্থ্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, সঠিক নেতৃত্ব ও সংগঠন পেলে তারা আরও বড় সাফল্য অর্জন করতে পারে।
![]()
আফ্রিকা কাপের আত্মবিশ্বাস
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দক্ষিণ আফ্রিকার পারফরম্যান্সে উন্নতির ছাপ দেখা গেছে। সর্বশেষ দুই আফ্রিকা কাপ অব নেশনস আসরেই তারা নকআউট পর্বে উঠেছে। ২০২৩ সালে তারা তৃতীয় স্থান অর্জন করে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছিল।
এই ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে সমর্থকদের বিশ্বাস, বহুদিনের অপূর্ণ সম্ভাবনা এবার বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে। বিশ্বকাপে দলটি কতটা এগোতে পারে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















