০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
সাগরে ১৬ ঘণ্টা ভেসে থাকার পর বাবা ও দুই ছেলেকে জীবিত উদ্ধার ব্রিটিশ ব্যবসার নীরবতা: রাজনীতিতে কথা না বলার খেসারত দিচ্ছে ব্যবসায়ীরা মোগাদিশুতে ফিরছে স্বস্তি, তবে শান্তির আড়ালে রয়ে গেছে বড় শঙ্কা জাম্বিয়ার তামার সমৃদ্ধি, কিন্তু মানুষের ঘরে স্বস্তি কোথায়? মক্কা চুক্তি: সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের নতুন প্রতিরক্ষা জোটে বদলে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ কলম্বিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে ২৬৫ মৃত্যু, উদ্ধার তৎপরতায় বৈষম্যের অভিযোগ মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক ইসলামের পতন, তবু শেষ হয়ে যায়নি মুসলিম ব্রাদারহুড ইউরোপকে এক করার অদৃশ্য কারিগর কারা? লেবার ও ব্যবসা: অ্যান্ডি বার্নহামের সামনে সম্পর্ক মেরামতের নতুন সুযোগ শান্তির কথা বলাই এখন রাশিয়ায় অপরাধ, নির্বাচনের দৌড় থেকে বাদ উদারপন্থী ইয়াব্লোকো

স্থূলতার জন্য একক কোনো জিন নেই, জীবনধারাও নির্ধারণ করে ঝুঁকি

অনেকেই মনে করেন শরীরে কোনো বিশেষ ‘মোটা হওয়ার জিন’ থাকলে স্থূলতা এড়ানো সম্ভব নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ বলছে, বিষয়টি এতটা সরল নয়। গবেষকদের মতে, মানুষের জিন কিছু রোগ বা বৈশিষ্ট্যের ঝুঁকি বাড়াতে পারে ঠিকই, তবে সেটিই চূড়ান্ত ভাগ্য নির্ধারণ করে না।

জিন কীভাবে কাজ করে

মানবদেহের জিন মূলত ডিএনএ-এর অংশ, যা শরীরের বিভিন্ন প্রোটিন তৈরির নির্দেশনা বহন করে। কোষ বিভাজনের সময় ডিএনএ অনুলিপি তৈরির প্রক্রিয়ায় কখনও কখনও পরিবর্তন বা মিউটেশন ঘটে। এসব পরিবর্তনের কিছু কিছু মানুষের রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত জিন শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন। কিছু বিরল রোগের ক্ষেত্রে একটি মাত্র জিনের পরিবর্তনই বড় ভূমিকা রাখে। তবে অধিকাংশ সাধারণ রোগের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি অনেক বেশি জটিল।

স্থূলতা বহু জিনের সম্মিলিত প্রভাব

গবেষণায় দেখা গেছে, স্থূলতা কোনো একক জিনের কারণে হয় না। বরং শতাধিক জিনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রভাব একত্রে একজন মানুষের ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকিকে প্রভাবিত করতে পারে। একইভাবে টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ কিংবা মানসিক রোগের ক্ষেত্রেও বহু জিন একসঙ্গে কাজ করে।

একসময় এফটিও নামের একটি জিনকে ‘স্থূলতার জিন’ হিসেবে উল্লেখ করা হতো। কিন্তু পরবর্তী গবেষণায় দেখা যায়, এই জিনের প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত। এটি ওজন বাড়ার প্রবণতা কিছুটা বাড়াতে পারে, তবে একজন ব্যক্তি অবশ্যই স্থূল হবেন—এমন নিশ্চয়তা দেয় না।

স্থূলতা | ভালো, মন্দ, বিতর্ক, যুক্তি, BMI, রোগ ও স্বাস্থ্য | ব্রিটানিকা

জীবনধারা বদলাতে পারে ফলাফল

বিশেষজ্ঞদের মতে, জিনের পাশাপাশি পরিবেশ, খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রম এবং সামাজিক পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ এবং সঠিক জীবনধারা অনেক ক্ষেত্রে জিনগত ঝুঁকির প্রভাব কমিয়ে দিতে পারে।

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের মধ্যে স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ানো জিনগত বৈশিষ্ট্য রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও উচ্চমাত্রার শারীরিক কার্যক্রম ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। শিশু ও কিশোরদের খাদ্যাভ্যাসেও একই ধরনের ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে।

জিন পরীক্ষা কতটা কার্যকর

বর্তমানে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান জিনগত পরীক্ষা করে স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার দাবি করে। তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, এসব পরীক্ষার ফলাফলকে ভবিষ্যতের নির্ভুল পূর্বাভাস হিসেবে দেখা উচিত নয়।

জিনগত তথ্য একজন ব্যক্তির সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে, কিন্তু রোগটি আদৌ হবে কি না, কখন হবে বা কতটা গুরুতর হবে—এসব প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর দেয় না। তাই বিশেষজ্ঞরা জিন পরীক্ষা করালে পরবর্তী পর্যায়ে জিনগত পরামর্শ গ্রহণের ওপর জোর দেন।

অসম্পূর্ণ হলেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

বিজ্ঞানীদের মতে, জিন নিয়ে গবেষণা এখনো অত্যন্ত মূল্যবান। এর মাধ্যমে রোগের জৈবিক কারণ বোঝা সহজ হয় এবং নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবনের সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে কিছু উপকারী জিনগত বৈশিষ্ট্যও শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে, যা রোগ প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।

সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের বার্তা স্পষ্ট—জিন মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়, কিন্তু সেটিই শেষ কথা নয়। জিন ও জীবনধারার পারস্পরিক প্রভাবই শেষ পর্যন্ত একজন মানুষের স্বাস্থ্যগত ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে।

স্থূলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে জিন, তবে জীবনধারা ও পরিবেশের প্রভাবও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞানীরা বলছেন, কোনো একক ‘স্থূলতার জিন’ নেই।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাগরে ১৬ ঘণ্টা ভেসে থাকার পর বাবা ও দুই ছেলেকে জীবিত উদ্ধার

স্থূলতার জন্য একক কোনো জিন নেই, জীবনধারাও নির্ধারণ করে ঝুঁকি

০৭:৫৫:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

অনেকেই মনে করেন শরীরে কোনো বিশেষ ‘মোটা হওয়ার জিন’ থাকলে স্থূলতা এড়ানো সম্ভব নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ বলছে, বিষয়টি এতটা সরল নয়। গবেষকদের মতে, মানুষের জিন কিছু রোগ বা বৈশিষ্ট্যের ঝুঁকি বাড়াতে পারে ঠিকই, তবে সেটিই চূড়ান্ত ভাগ্য নির্ধারণ করে না।

জিন কীভাবে কাজ করে

মানবদেহের জিন মূলত ডিএনএ-এর অংশ, যা শরীরের বিভিন্ন প্রোটিন তৈরির নির্দেশনা বহন করে। কোষ বিভাজনের সময় ডিএনএ অনুলিপি তৈরির প্রক্রিয়ায় কখনও কখনও পরিবর্তন বা মিউটেশন ঘটে। এসব পরিবর্তনের কিছু কিছু মানুষের রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত জিন শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন। কিছু বিরল রোগের ক্ষেত্রে একটি মাত্র জিনের পরিবর্তনই বড় ভূমিকা রাখে। তবে অধিকাংশ সাধারণ রোগের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি অনেক বেশি জটিল।

স্থূলতা বহু জিনের সম্মিলিত প্রভাব

গবেষণায় দেখা গেছে, স্থূলতা কোনো একক জিনের কারণে হয় না। বরং শতাধিক জিনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রভাব একত্রে একজন মানুষের ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকিকে প্রভাবিত করতে পারে। একইভাবে টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ কিংবা মানসিক রোগের ক্ষেত্রেও বহু জিন একসঙ্গে কাজ করে।

একসময় এফটিও নামের একটি জিনকে ‘স্থূলতার জিন’ হিসেবে উল্লেখ করা হতো। কিন্তু পরবর্তী গবেষণায় দেখা যায়, এই জিনের প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত। এটি ওজন বাড়ার প্রবণতা কিছুটা বাড়াতে পারে, তবে একজন ব্যক্তি অবশ্যই স্থূল হবেন—এমন নিশ্চয়তা দেয় না।

স্থূলতা | ভালো, মন্দ, বিতর্ক, যুক্তি, BMI, রোগ ও স্বাস্থ্য | ব্রিটানিকা

জীবনধারা বদলাতে পারে ফলাফল

বিশেষজ্ঞদের মতে, জিনের পাশাপাশি পরিবেশ, খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রম এবং সামাজিক পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ এবং সঠিক জীবনধারা অনেক ক্ষেত্রে জিনগত ঝুঁকির প্রভাব কমিয়ে দিতে পারে।

কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের মধ্যে স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ানো জিনগত বৈশিষ্ট্য রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও উচ্চমাত্রার শারীরিক কার্যক্রম ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। শিশু ও কিশোরদের খাদ্যাভ্যাসেও একই ধরনের ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে।

জিন পরীক্ষা কতটা কার্যকর

বর্তমানে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান জিনগত পরীক্ষা করে স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার দাবি করে। তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, এসব পরীক্ষার ফলাফলকে ভবিষ্যতের নির্ভুল পূর্বাভাস হিসেবে দেখা উচিত নয়।

জিনগত তথ্য একজন ব্যক্তির সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে, কিন্তু রোগটি আদৌ হবে কি না, কখন হবে বা কতটা গুরুতর হবে—এসব প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর দেয় না। তাই বিশেষজ্ঞরা জিন পরীক্ষা করালে পরবর্তী পর্যায়ে জিনগত পরামর্শ গ্রহণের ওপর জোর দেন।

অসম্পূর্ণ হলেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

বিজ্ঞানীদের মতে, জিন নিয়ে গবেষণা এখনো অত্যন্ত মূল্যবান। এর মাধ্যমে রোগের জৈবিক কারণ বোঝা সহজ হয় এবং নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবনের সুযোগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে কিছু উপকারী জিনগত বৈশিষ্ট্যও শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে, যা রোগ প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।

সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের বার্তা স্পষ্ট—জিন মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়, কিন্তু সেটিই শেষ কথা নয়। জিন ও জীবনধারার পারস্পরিক প্রভাবই শেষ পর্যন্ত একজন মানুষের স্বাস্থ্যগত ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে।

স্থূলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে জিন, তবে জীবনধারা ও পরিবেশের প্রভাবও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞানীরা বলছেন, কোনো একক ‘স্থূলতার জিন’ নেই।