০৭:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
BTS ফেস্তা ২০২৬: আজ ‘রান বিটিএস’ ফেরত, আগামীকাল বুসান স্টেডিয়ামে কনসার্ট ও নতুন সিঙ্গেল ‘কাম ওভার’ ময়ূর প্রজাপতি হলো ব্রিটেনের সবচেয়ে প্রিয় প্রজাপতি স্টারমারের নেতৃত্বে প্রশ্ন, প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে উন্মোচিত ব্রিটিশ সরকারের গভীর সংকট কানাডায় ‘বিগফুট’ রহস্যে নতুন বিতর্ক, বনজঙ্গলে কি সত্যিই ঘুরে বেড়ায় অজানা প্রাণী? ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপের বজ্রগতির ফাঁদ ধরার রহস্য উন্মোচন, শত বছরের প্রশ্নের উত্তর পেলেন বিজ্ঞানীরা টেলর সুইফটের নতুন ইতিহাস, গীতিকারদের সম্মানসূচক তালিকায় সর্বকনিষ্ঠ নারী বিশ্বকাপকে ঘিরে বিজ্ঞাপনের জোয়ার, টেলিভিশনের জন্য ‘ছয় সপ্তাহের সোনালি সময়’ বেলফাস্ট দাঙ্গার আগে পুলিশের কাছে ছিল হামলার তালিকা, অভিযোগে নতুন বিতর্ক বিশ্বকাপে গোলাপি বুটের ঝড়, ফুটবলের নতুন ফ্যাশন ট্রেন্ডে নজর সবার ব্যাংকক মন্দিরে বোমা হামলা: দুই উইঘুর নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড

ঢাকার বৃষ্টি, জলাবদ্ধতার শহর আর ছুটির দিনের দীর্ঘশ্বাস

শুক্রবার। সাপ্তাহিক ছুটির দিন। কর্মব্যস্ত রাজধানীর মানুষের জন্য পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানো, আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে যাওয়া, কাঁচাবাজার করা কিংবা শপিং মলে ঘুরে কেনাকাটার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। কিন্তু আজকের টানা বৃষ্টি সেই পরিকল্পনার অনেকটাই ভেস্তে দিয়েছে।

সকাল থেকেই আকাশ ছিল মেঘলা। কখনও হালকা, কখনও ভারী বৃষ্টিতে ঢাকার বিভিন্ন সড়কে পানি জমতে শুরু করে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজধানীর অনেক এলাকায় তৈরি হয় জলাবদ্ধতা। ফলে স্বাভাবিক ছুটির দিনের প্রাণচাঞ্চল্য অনেকটাই কমে যায়। যারা আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করতে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাদের অনেকেই পথে বের হতে দ্বিধায় পড়েন। কেউ কেউ আবার দীর্ঘ যানজট ও জলাবদ্ধতার কারণে পরিকল্পনা বাতিল করেন।

শুক্রবার সাধারণত রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বেশি থাকে। পরিবারের সাপ্তাহিক বাজারের জন্য অনেকেই সকালেই বের হন। কিন্তু আজ অনেক বাজারে যেতে মানুষকে ভেজা রাস্তা, কাদাপানি আর জলাবদ্ধতার সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে। বাজার থেকে প্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে ফেরার সময়ও দুর্ভোগ ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেক এলাকায় রিকশা ও ছোট যানবাহনের চলাচল ধীর হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।

ঢাকার জলভোগান্তি দ্রুতই কাটছে না

একই চিত্র দেখা গেছে বিভিন্ন শপিং মল ও বাণিজ্যিক এলাকায়। ছুটির দিনে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কেনাকাটা কিংবা অবসর কাটানোর পরিকল্পনা থাকলেও অনেকেই ঘরেই থাকতে বাধ্য হয়েছেন। যারা বের হয়েছেন, তাদেরও গন্তব্যে পৌঁছাতে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সময় লেগেছে। ফলে নগরজীবনের স্বাভাবিক ছন্দে স্পষ্ট প্রভাব পড়েছে।

বৃষ্টির দিনে ঢাকার সৌন্দর্যের একটি আলাদা রূপ রয়েছে। গাছপালা ধুয়ে-মুছে সতেজ হয়ে ওঠে, তাপমাত্রা কমে আসে, প্রকৃতি ফিরে পায় স্বস্তির ছোঁয়া। কিন্তু সেই সৌন্দর্যকে ম্লান করে দেয় সড়কে জমে থাকা পানি ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা। রাজধানীর বহু এলাকার মানুষ বছরের পর বছর ধরে একই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। ড্রেনেজ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, খাল ও জলাধারের সংকোচন এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

আজকের শুক্রবারও তার ব্যতিক্রম ছিল না। আত্মীয়দের সঙ্গে মিলনমেলা, পরিবারের সঙ্গে বাজার ও কেনাকাটার পরিকল্পনা কিংবা ছুটির দিনের স্বস্তিদায়ক ভ্রমণ—সবকিছুর মাঝখানে বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবু সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ আশায় থাকে, পানি সরে যাবে, শহর আবার স্বাভাবিক হবে। কিন্তু প্রতি বর্ষায় ফিরে আসা এই দৃশ্য আবারও মনে করিয়ে দেয়, ঢাকায় বৃষ্টি এখনও শুধু প্রকৃতির আশীর্বাদ নয়, নাগরিক ব্যবস্থাপনার এক বড় পরীক্ষাও।

জনপ্রিয় সংবাদ

BTS ফেস্তা ২০২৬: আজ ‘রান বিটিএস’ ফেরত, আগামীকাল বুসান স্টেডিয়ামে কনসার্ট ও নতুন সিঙ্গেল ‘কাম ওভার’

ঢাকার বৃষ্টি, জলাবদ্ধতার শহর আর ছুটির দিনের দীর্ঘশ্বাস

০৬:২৮:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

শুক্রবার। সাপ্তাহিক ছুটির দিন। কর্মব্যস্ত রাজধানীর মানুষের জন্য পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানো, আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে যাওয়া, কাঁচাবাজার করা কিংবা শপিং মলে ঘুরে কেনাকাটার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। কিন্তু আজকের টানা বৃষ্টি সেই পরিকল্পনার অনেকটাই ভেস্তে দিয়েছে।

সকাল থেকেই আকাশ ছিল মেঘলা। কখনও হালকা, কখনও ভারী বৃষ্টিতে ঢাকার বিভিন্ন সড়কে পানি জমতে শুরু করে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজধানীর অনেক এলাকায় তৈরি হয় জলাবদ্ধতা। ফলে স্বাভাবিক ছুটির দিনের প্রাণচাঞ্চল্য অনেকটাই কমে যায়। যারা আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করতে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তাদের অনেকেই পথে বের হতে দ্বিধায় পড়েন। কেউ কেউ আবার দীর্ঘ যানজট ও জলাবদ্ধতার কারণে পরিকল্পনা বাতিল করেন।

শুক্রবার সাধারণত রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বেশি থাকে। পরিবারের সাপ্তাহিক বাজারের জন্য অনেকেই সকালেই বের হন। কিন্তু আজ অনেক বাজারে যেতে মানুষকে ভেজা রাস্তা, কাদাপানি আর জলাবদ্ধতার সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে। বাজার থেকে প্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে ফেরার সময়ও দুর্ভোগ ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেক এলাকায় রিকশা ও ছোট যানবাহনের চলাচল ধীর হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।

ঢাকার জলভোগান্তি দ্রুতই কাটছে না

একই চিত্র দেখা গেছে বিভিন্ন শপিং মল ও বাণিজ্যিক এলাকায়। ছুটির দিনে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কেনাকাটা কিংবা অবসর কাটানোর পরিকল্পনা থাকলেও অনেকেই ঘরেই থাকতে বাধ্য হয়েছেন। যারা বের হয়েছেন, তাদেরও গন্তব্যে পৌঁছাতে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সময় লেগেছে। ফলে নগরজীবনের স্বাভাবিক ছন্দে স্পষ্ট প্রভাব পড়েছে।

বৃষ্টির দিনে ঢাকার সৌন্দর্যের একটি আলাদা রূপ রয়েছে। গাছপালা ধুয়ে-মুছে সতেজ হয়ে ওঠে, তাপমাত্রা কমে আসে, প্রকৃতি ফিরে পায় স্বস্তির ছোঁয়া। কিন্তু সেই সৌন্দর্যকে ম্লান করে দেয় সড়কে জমে থাকা পানি ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা। রাজধানীর বহু এলাকার মানুষ বছরের পর বছর ধরে একই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। ড্রেনেজ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, খাল ও জলাধারের সংকোচন এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

আজকের শুক্রবারও তার ব্যতিক্রম ছিল না। আত্মীয়দের সঙ্গে মিলনমেলা, পরিবারের সঙ্গে বাজার ও কেনাকাটার পরিকল্পনা কিংবা ছুটির দিনের স্বস্তিদায়ক ভ্রমণ—সবকিছুর মাঝখানে বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবু সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ আশায় থাকে, পানি সরে যাবে, শহর আবার স্বাভাবিক হবে। কিন্তু প্রতি বর্ষায় ফিরে আসা এই দৃশ্য আবারও মনে করিয়ে দেয়, ঢাকায় বৃষ্টি এখনও শুধু প্রকৃতির আশীর্বাদ নয়, নাগরিক ব্যবস্থাপনার এক বড় পরীক্ষাও।