০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
‘মক্কা চুক্তি’: যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর নিরাপত্তার বাইরে নতুন মুসলিম শক্তির সমীকরণ ইসরায়েলে নির্বাচন সামনে, অথচ অকার্যকর রাষ্ট্রীয় তদারকি: গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক সংকেত পাচার করা অর্থ ফেরত আনা কি সম্ভব? মধ্যম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দৌড়েও অবিশ্বাস্য গতি, রেকর্ড ভাঙল একের পর এক স্বাধীন ভারতের প্রথম জাতিভিত্তিক জনগণনায় নেতৃত্ব দেবে লাদাখ বিহারের ধাক্কার পর উত্তরপ্রদেশে উচ্চবর্ণের ক্ষোভ কি চাপে ফেলবে বিজেপিকে? দিল্লির অভিজাতদের স্বপ্নের বাড়ি দেখিয়ে ২০০ কোটি টাকার প্রতারণা! সন্তানদের ভবিষ্যৎ বোঝার ক্ষমতা অভিভাবকদের চেয়েও এগিয়ে অর্থনৈতিক সংকটে বদলে যাচ্ছে প্রেমের হিসাব, ‘রেড ফ্ল্যাগ’ও কি শ্রেণির পরিচয়? কৃষ্ণসাগরের বন্দর ঘিরে রাশিয়ার নতুন চাপ, শস্য রপ্তানি থমকে গেলে বিশ্বজুড়ে বাড়বে খাদ্যঝুঁকি

ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপের বজ্রগতির ফাঁদ ধরার রহস্য উন্মোচন, শত বছরের প্রশ্নের উত্তর পেলেন বিজ্ঞানীরা

প্রকৃতির সবচেয়ে বিস্ময়কর শিকারি উদ্ভিদগুলোর একটি হলো ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপ। মিষ্টি মধুর গন্ধে পোকামাকড়কে কাছে টেনে এনে মুহূর্তের মধ্যে পাতার মতো চোয়াল বন্ধ করে শিকার ধরে ফেলে এই উদ্ভিদ। দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীদের কৌতূহল ছিল, কীভাবে এত দ্রুত এই কাজটি করতে পারে ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপ। অবশেষে সেই রহস্যের জট খুলতে সক্ষম হয়েছেন গবেষকরা।

নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, পাতার ভেতরে থাকা সংবেদনশীল সূক্ষ্ম লোমে কোনো পোকা স্পর্শ করলেই একটি দ্রুত প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। এর ফলে পাতার বাইরের অংশের কোষগুলো খুব অল্প সময়ে নরম হয়ে যায় এবং পুরো পাতাটি হঠাৎ উল্টে গিয়ে ফাঁদের মতো বন্ধ হয়ে পড়ে। পুরো প্রক্রিয়াটি এক সেকেন্ডেরও কম সময়ে সম্পন্ন হয়।

শত বছরের ধাঁধার সমাধান

বিজ্ঞানীরা জানান, বহু বছর আগে চার্লস ডারউইনও এই উদ্ভিদের দ্রুত নড়াচড়া দেখে বিস্মিত হয়েছিলেন। তিনি ধারণা করেছিলেন, হয়তো উদ্ভিদের ভেতরে কোনো ধরনের পেশি রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে উদ্ভিদের পেশি বা স্নায়ুতন্ত্র নেই। ফলে এত দ্রুত প্রতিক্রিয়ার কারণ খুঁজে বের করা গবেষকদের জন্য দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জ হয়ে ছিল।

গবেষকরা বলেন, উদ্ভিদের কোষের যান্ত্রিক বৈশিষ্ট্য এত দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে—এটি সত্যিই বিস্ময়কর। এ কারণেই দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যাখ্যা সামনে এলেও নির্ভরযোগ্য উত্তর পাওয়া যায়নি।

Scientists prise open secret of how flytrap enjoys a quick bite | The  Guardian | PressReader

কঠিন ছিল গবেষণার কাজ

এই উদ্ভিদের ওপর গবেষণা করা সহজ ছিল না। কারণ সামান্য স্পর্শ পেলেই ফাঁদটি বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি পানির একটি ফোঁটাও কখনও কখনও ফাঁদকে সক্রিয় করে দিতে পারে। তাই গবেষকরা বিশেষ আঠা ব্যবহার করে পাতাকে স্থির অবস্থায় রেখে পরীক্ষা চালান, যাতে ফাঁদ সক্রিয় হলেও সেটি নড়াচড়া করতে না পারে।

এরপর তারা অত্যন্ত সূক্ষ্ম ধাতব যন্ত্রের সাহায্যে পাতার বাইরের অংশের চাপ ও দৃঢ়তা পরিমাপ করেন। পরীক্ষায় দেখা যায়, ফাঁদ সক্রিয় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পাতার বাইরের স্তর নরম হয়ে যায়।

কোষের দ্রুত পরিবর্তনই মূল রহস্য

দীর্ঘদিন ধরে ধারণা করা হতো, পাতার ভেতরে পানির চলাচলের কারণে এই দ্রুত নড়াচড়া ঘটে। কিন্তু নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, আসল কারণ হলো কোষগুলোর নমনীয়তা দ্রুত বেড়ে যাওয়া। কোষের এই পরিবর্তনের ফলে পাতাটি হঠাৎ ভেতরের দিকে উল্টে যায় এবং পোকামাকড়কে আটকে ফেলে।

গবেষকদের মতে, এটি অনেকটা এমন একটি খেলনার মতো, যা চাপ দিলে হঠাৎ উল্টে যায়। ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপ সেই একই নীতিকে জীবন্ত রূপে ব্যবহার করে।

প্রকৃতির এক অনন্য উদ্ভিদ

গবেষকরা আরও জানান, উদ্ভিদজগতে এত দ্রুত কোষের যান্ত্রিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তনের ঘটনা অত্যন্ত বিরল। ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপের এই ক্ষমতা তাকে অন্য সব উদ্ভিদ থেকে আলাদা করেছে।

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এই উদ্ভিদের কার্যপ্রণালী নিয়ে গবেষণা করা বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, নতুন এই আবিষ্কার শুধু ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপের রহস্যই উন্মোচন করেনি, বরং উদ্ভিদের গতিশীল আচরণ সম্পর্কে নতুন ধারণারও পথ খুলে দিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

‘মক্কা চুক্তি’: যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর নিরাপত্তার বাইরে নতুন মুসলিম শক্তির সমীকরণ

ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপের বজ্রগতির ফাঁদ ধরার রহস্য উন্মোচন, শত বছরের প্রশ্নের উত্তর পেলেন বিজ্ঞানীরা

০৭:৩৩:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

প্রকৃতির সবচেয়ে বিস্ময়কর শিকারি উদ্ভিদগুলোর একটি হলো ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপ। মিষ্টি মধুর গন্ধে পোকামাকড়কে কাছে টেনে এনে মুহূর্তের মধ্যে পাতার মতো চোয়াল বন্ধ করে শিকার ধরে ফেলে এই উদ্ভিদ। দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীদের কৌতূহল ছিল, কীভাবে এত দ্রুত এই কাজটি করতে পারে ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপ। অবশেষে সেই রহস্যের জট খুলতে সক্ষম হয়েছেন গবেষকরা।

নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, পাতার ভেতরে থাকা সংবেদনশীল সূক্ষ্ম লোমে কোনো পোকা স্পর্শ করলেই একটি দ্রুত প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। এর ফলে পাতার বাইরের অংশের কোষগুলো খুব অল্প সময়ে নরম হয়ে যায় এবং পুরো পাতাটি হঠাৎ উল্টে গিয়ে ফাঁদের মতো বন্ধ হয়ে পড়ে। পুরো প্রক্রিয়াটি এক সেকেন্ডেরও কম সময়ে সম্পন্ন হয়।

শত বছরের ধাঁধার সমাধান

বিজ্ঞানীরা জানান, বহু বছর আগে চার্লস ডারউইনও এই উদ্ভিদের দ্রুত নড়াচড়া দেখে বিস্মিত হয়েছিলেন। তিনি ধারণা করেছিলেন, হয়তো উদ্ভিদের ভেতরে কোনো ধরনের পেশি রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে উদ্ভিদের পেশি বা স্নায়ুতন্ত্র নেই। ফলে এত দ্রুত প্রতিক্রিয়ার কারণ খুঁজে বের করা গবেষকদের জন্য দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জ হয়ে ছিল।

গবেষকরা বলেন, উদ্ভিদের কোষের যান্ত্রিক বৈশিষ্ট্য এত দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে—এটি সত্যিই বিস্ময়কর। এ কারণেই দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যাখ্যা সামনে এলেও নির্ভরযোগ্য উত্তর পাওয়া যায়নি।

Scientists prise open secret of how flytrap enjoys a quick bite | The  Guardian | PressReader

কঠিন ছিল গবেষণার কাজ

এই উদ্ভিদের ওপর গবেষণা করা সহজ ছিল না। কারণ সামান্য স্পর্শ পেলেই ফাঁদটি বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি পানির একটি ফোঁটাও কখনও কখনও ফাঁদকে সক্রিয় করে দিতে পারে। তাই গবেষকরা বিশেষ আঠা ব্যবহার করে পাতাকে স্থির অবস্থায় রেখে পরীক্ষা চালান, যাতে ফাঁদ সক্রিয় হলেও সেটি নড়াচড়া করতে না পারে।

এরপর তারা অত্যন্ত সূক্ষ্ম ধাতব যন্ত্রের সাহায্যে পাতার বাইরের অংশের চাপ ও দৃঢ়তা পরিমাপ করেন। পরীক্ষায় দেখা যায়, ফাঁদ সক্রিয় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পাতার বাইরের স্তর নরম হয়ে যায়।

কোষের দ্রুত পরিবর্তনই মূল রহস্য

দীর্ঘদিন ধরে ধারণা করা হতো, পাতার ভেতরে পানির চলাচলের কারণে এই দ্রুত নড়াচড়া ঘটে। কিন্তু নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, আসল কারণ হলো কোষগুলোর নমনীয়তা দ্রুত বেড়ে যাওয়া। কোষের এই পরিবর্তনের ফলে পাতাটি হঠাৎ ভেতরের দিকে উল্টে যায় এবং পোকামাকড়কে আটকে ফেলে।

গবেষকদের মতে, এটি অনেকটা এমন একটি খেলনার মতো, যা চাপ দিলে হঠাৎ উল্টে যায়। ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপ সেই একই নীতিকে জীবন্ত রূপে ব্যবহার করে।

প্রকৃতির এক অনন্য উদ্ভিদ

গবেষকরা আরও জানান, উদ্ভিদজগতে এত দ্রুত কোষের যান্ত্রিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তনের ঘটনা অত্যন্ত বিরল। ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপের এই ক্ষমতা তাকে অন্য সব উদ্ভিদ থেকে আলাদা করেছে।

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এই উদ্ভিদের কার্যপ্রণালী নিয়ে গবেষণা করা বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, নতুন এই আবিষ্কার শুধু ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপের রহস্যই উন্মোচন করেনি, বরং উদ্ভিদের গতিশীল আচরণ সম্পর্কে নতুন ধারণারও পথ খুলে দিয়েছে।