যুদ্ধ-পরবর্তী উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই ফুটবল বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করেছে দলটি। মাঠের খেলায় যেমন ছিল লড়াই, তেমনি মাঠের বাইরে ছিল রাজনৈতিক আবেগ, প্রতিবাদ এবং সমর্থনের মিশ্র চিত্র।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচকে ঘিরে ইরানের জন্য পরিস্থিতি ছিল ব্যতিক্রমী। কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসানে শান্তিচুক্তি ঘোষণার মাত্র একদিন পরই দলটি যুক্তরাষ্ট্রে মাঠে নামে। ফলে ম্যাচটি কেবল ফুটবল প্রতিযোগিতা নয়, বরং নানা রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতেও পরিণত হয়।
দুইবার পিছিয়ে থেকেও সমতা
ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। ক্রিস উডের পাস থেকে এলিজা জাস্ট গোল করে দলকে লিড এনে দেন। তবে প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে রামিন রেজাইয়ান গোল করে ইরানকে সমতায় ফেরান।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আবারও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে নিউজিল্যান্ড। উড ও জাস্টের সমন্বয়ে দ্বিতীয় গোলটি আসে এবং নিউজিল্যান্ড আবারও এগিয়ে যায়।

তবে ইরান দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায়। রেজাইয়ানের নিখুঁত ক্রস থেকে মোহাম্মদ মোহেব্বি দুর্দান্ত হেডে গোল করে ম্যাচে ২-২ সমতা ফেরান। শেষদিকে ইরান কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করলেও জয়সূচক গোল আর পাওয়া হয়নি।
মাঠের বাইরে উত্তেজনা
লস অ্যাঞ্জেলেসে ইরানি বংশোদ্ভূত মানুষের বড় একটি সম্প্রদায় রয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই বিভিন্ন সময়ে নিজ দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস শুরু করেছেন। ফলে ম্যাচটি ঘিরে আবেগ ছিল তুঙ্গে।
স্টেডিয়ামের ভেতরে বহু দর্শক ইরানকে সমর্থন করলেও অনেকে দেশটির বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান। কেউ কেউ পুরোনো জাতীয় প্রতীকসংবলিত পতাকা বহন করেন, আবার কেউ নিউজিল্যান্ডকে সমর্থন জানান।
স্টেডিয়ামের বাইরে কয়েকশ মানুষ বিক্ষোভও করেন। তবে সব ধরনের উত্তেজনার মধ্যেও ম্যাচটি নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সম্পন্ন হয় এবং বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

বিতর্কের মাঝেও বিশ্বকাপ মঞ্চ
সাম্প্রতিক সংঘাত, প্রাণহানি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ইরানের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ শুরু থেকেই আলোচনায় ছিল। প্রস্তুতি পর্যায়ে দলটির ঘাঁটি পরিবর্তন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভিসা জটিলতা এবং সমর্থকদের টিকিটসংক্রান্ত সমস্যাও নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়।
তবু সব বাধা অতিক্রম করে বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলেছে ইরান। জয় না পেলেও কঠিন পরিস্থিতিতে দুইবার পিছিয়ে থেকে সমতায় ফেরা দলটির জন্য ইতিবাচক দিক হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
এখন গ্রুপপর্বের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে আরও ভালো ফলের আশায় থাকবে ইরান, আর সমর্থকেরা চাইবেন মাঠের লড়াই যেন মাঠের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















