০৩:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
মেসির হ্যাট্রিকে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ অভিযান শুরু, কিলোজের ১৬ গোলের রেকর্ড ছুঁলেন বৃষ্টির ৯০% আশঙ্কায় চট্টগ্রামের ম্যাচ, ডিএলএস নিয়মে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা ইতিহাসের পাতায় বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়াকে প্রথমবার ওডিআই সিরিজে হারাল টাইগাররা বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া প্রথম টি-টোয়েন্টি চট্টগ্রামে, টস জিতে ব্যাটিংয়ে টাইগাররা নতুন ঋণমওকুফেও অসন্তুষ্ট কৃষকরা, তামিলনাড়ুতে ৭৫ হাজার রুপি পর্যন্ত ফসলঋণ মওকুফ ঘোষণা সাভারকরের ১০টি ক্ষমা প্রার্থনার আবেদন আদালতে স্বীকার করলেন প্রপৌত্র রাশিয়া থেকে ইউরিয়া আমদানি ও চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের দুই চুক্তির অনুমোদন বাংলাদেশে হাম প্রাদুর্ভাব: আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৬১ চীনের হুয়াংইয়ান দাওয়ে মিলল ৫০টির বেশি বিপন্ন সবুজ সামুদ্রিক কচ্ছপ চীনের ‘গ্লোবাল গভর্ন্যান্স’ শ্বেতপত্র প্রকাশ, বহুপাক্ষিক বিশ্বব্যবস্থার পক্ষে নতুন বার্তা

নীট পুনঃপরীক্ষার আগে টেলিগ্রাম নিষেধাজ্ঞা ঘিরে আইনি লড়াই, দিল্লি হাইকোর্টে গেল প্ল্যাটফর্ম

ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট (NEET-UG) পুনঃপরীক্ষাকে ঘিরে টেলিগ্রামের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করায় কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে টেলিগ্রাম। আগামী ২১ জুন নির্ধারিত পুনঃপরীক্ষার আগে নেওয়া এই পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

বুধবার দিল্লি হাইকোর্টে দায়ের করা আবেদনে টেলিগ্রাম কেন্দ্রের আরোপিত সাময়িক নিষেধাজ্ঞার বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। বিচারপতি তেজাস কারিয়ার বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

কেন নিষেধাজ্ঞা?

ভারতের জাতীয় পরীক্ষণ সংস্থা (এনটিএ) জানিয়েছে, নিট পরীক্ষাকে ঘিরে প্রতারণা ও ভুয়া তথ্য ছড়ানো ঠেকাতে ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় (MeitY) ২২ জুন পর্যন্ত ভারতে টেলিগ্রামের প্রবেশাধিকার সাময়িকভাবে সীমিত করার নির্দেশ দেয়।

Telegram moves Delhi HC against government ban ahead of NEET re-test,  hearing today - India News | The Financial Express

এনটিএর দাবি, টেলিগ্রামভিত্তিক একটি বড় প্রতারণা চক্র পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১৪ হাজার থেকে ২৫ হাজার রুপি, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ১০ লাখ রুপিও আদায়ের চেষ্টা করছিল। তারা মিথ্যা দাবি করছিল যে তাদের কাছে পুনঃপরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে।

এনটিএ আরও জানায়, ৩০ জুন পর্যন্ত ভারতে টেলিগ্রামের ‘মেসেজ এডিট’ সুবিধাও বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। সংস্থাটির মতে, পুরোনো বার্তা সম্পাদনা করে একই টাইমস্ট্যাম্প বজায় রেখে ভুয়া ‘প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ’ তৈরির ঝুঁকি কমাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পরীক্ষার স্বচ্ছতা রক্ষার যুক্তি

এনটিএ বলছে, এই পদক্ষেপে ব্যবহারকারীদের কিছুটা অসুবিধা হলেও নিট-ইউজির স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষার জন্য এটি প্রয়োজনীয়। গত ৩ মে অনুষ্ঠিত মূল পরীক্ষা প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগের কারণে বাতিল করা হয়েছিল। এরপর পুনঃপরীক্ষার আয়োজন করা হয়।

সংস্থাটির মহাপরিচালক অভিষেক সিং বলেন, কিছু চ্যানেল ভিপিএন বা বিদেশ থেকে পরিচালিত হলেও দেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থী সেগুলোতে প্রবেশ করতে না পারলে প্রতারণার সুযোগ অনেকটাই কমে যাবে। এতে শিক্ষার্থীরা ভুয়া প্রশ্নপত্রের ফাঁদে পড়ে অর্থ ও সময় নষ্ট করা থেকে রক্ষা পাবে।

Telegram Moves Delhi High Court Against Government Ban Ahead Of NEET UG Re- Exam

ডুরভের সমালোচনা

অন্যদিকে টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল ডুরভ এই নিষেধাজ্ঞার কড়া সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, কয়েকজন ব্যবহারকারীর কর্মকাণ্ডের জন্য ১৫ কোটির বেশি সাধারণ ব্যবহারকারীকে ভোগান্তিতে ফেলা হয়েছে।

তার ভাষ্য, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে টেলিগ্রাম বন্ধ করলেও এতে সমস্যার সমাধান হয়নি। বরং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম অন্য অ্যাপগুলোতে স্থানান্তরিত হয়েছে। ফলে প্রকৃত অপরাধীদের বদলে সাধারণ ব্যবহারকারীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

এই পরিস্থিতিতে আদালতের সিদ্ধান্ত এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একদিকে পরীক্ষার নিরাপত্তা ও প্রতারণা প্রতিরোধের প্রশ্ন, অন্যদিকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের স্বাধীনতা—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা করা হবে, সেটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

এমবাপে ফ্রান্সের সর্বকালের সেরা গোলদাতা, সেনেগালের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত জোড়া গোলে রেকর্ড

নীট পুনঃপরীক্ষার আগে টেলিগ্রাম নিষেধাজ্ঞা ঘিরে আইনি লড়াই, দিল্লি হাইকোর্টে গেল প্ল্যাটফর্ম

১২:৫৩:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট (NEET-UG) পুনঃপরীক্ষাকে ঘিরে টেলিগ্রামের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করায় কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে টেলিগ্রাম। আগামী ২১ জুন নির্ধারিত পুনঃপরীক্ষার আগে নেওয়া এই পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

বুধবার দিল্লি হাইকোর্টে দায়ের করা আবেদনে টেলিগ্রাম কেন্দ্রের আরোপিত সাময়িক নিষেধাজ্ঞার বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। বিচারপতি তেজাস কারিয়ার বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

কেন নিষেধাজ্ঞা?

ভারতের জাতীয় পরীক্ষণ সংস্থা (এনটিএ) জানিয়েছে, নিট পরীক্ষাকে ঘিরে প্রতারণা ও ভুয়া তথ্য ছড়ানো ঠেকাতে ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় (MeitY) ২২ জুন পর্যন্ত ভারতে টেলিগ্রামের প্রবেশাধিকার সাময়িকভাবে সীমিত করার নির্দেশ দেয়।

Telegram moves Delhi HC against government ban ahead of NEET re-test,  hearing today - India News | The Financial Express

এনটিএর দাবি, টেলিগ্রামভিত্তিক একটি বড় প্রতারণা চক্র পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১৪ হাজার থেকে ২৫ হাজার রুপি, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ১০ লাখ রুপিও আদায়ের চেষ্টা করছিল। তারা মিথ্যা দাবি করছিল যে তাদের কাছে পুনঃপরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে।

এনটিএ আরও জানায়, ৩০ জুন পর্যন্ত ভারতে টেলিগ্রামের ‘মেসেজ এডিট’ সুবিধাও বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। সংস্থাটির মতে, পুরোনো বার্তা সম্পাদনা করে একই টাইমস্ট্যাম্প বজায় রেখে ভুয়া ‘প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ’ তৈরির ঝুঁকি কমাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পরীক্ষার স্বচ্ছতা রক্ষার যুক্তি

এনটিএ বলছে, এই পদক্ষেপে ব্যবহারকারীদের কিছুটা অসুবিধা হলেও নিট-ইউজির স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষার জন্য এটি প্রয়োজনীয়। গত ৩ মে অনুষ্ঠিত মূল পরীক্ষা প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগের কারণে বাতিল করা হয়েছিল। এরপর পুনঃপরীক্ষার আয়োজন করা হয়।

সংস্থাটির মহাপরিচালক অভিষেক সিং বলেন, কিছু চ্যানেল ভিপিএন বা বিদেশ থেকে পরিচালিত হলেও দেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থী সেগুলোতে প্রবেশ করতে না পারলে প্রতারণার সুযোগ অনেকটাই কমে যাবে। এতে শিক্ষার্থীরা ভুয়া প্রশ্নপত্রের ফাঁদে পড়ে অর্থ ও সময় নষ্ট করা থেকে রক্ষা পাবে।

Telegram Moves Delhi High Court Against Government Ban Ahead Of NEET UG Re- Exam

ডুরভের সমালোচনা

অন্যদিকে টেলিগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা পাভেল ডুরভ এই নিষেধাজ্ঞার কড়া সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, কয়েকজন ব্যবহারকারীর কর্মকাণ্ডের জন্য ১৫ কোটির বেশি সাধারণ ব্যবহারকারীকে ভোগান্তিতে ফেলা হয়েছে।

তার ভাষ্য, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে টেলিগ্রাম বন্ধ করলেও এতে সমস্যার সমাধান হয়নি। বরং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম অন্য অ্যাপগুলোতে স্থানান্তরিত হয়েছে। ফলে প্রকৃত অপরাধীদের বদলে সাধারণ ব্যবহারকারীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

এই পরিস্থিতিতে আদালতের সিদ্ধান্ত এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একদিকে পরীক্ষার নিরাপত্তা ও প্রতারণা প্রতিরোধের প্রশ্ন, অন্যদিকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের স্বাধীনতা—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা করা হবে, সেটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।