রাজস্থানের জয়পুরে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের ওপর হামলার ঘটনায় আটক দুই যুবককে পুলিশ মুক্তি দেওয়ার পর তাঁদের সংবর্ধনা ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, থানার বাইরে সমর্থকেরা ওই দুই যুবককে ফুলের মালা পরিয়ে বরণ করে নিচ্ছেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন।
ঘটনাটি এমন এক সময় সামনে এলো, যখন কয়েক দিন আগেই শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশ নিতে গিয়ে দিপক হামলার শিকার হন। সেই ঘটনার ভিডিও দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে এবং দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়।
মুক্তির পর সংবর্ধনা
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, থানার বাইরে জড়ো হওয়া সমর্থকেরা মুক্তি পাওয়া দুই যুবককে ঘিরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন। এ সময় “ইনকিলাব জিন্দাবাদ” এবং “ভারত মাতা কি জয়” স্লোগানও শোনা যায়। ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

হামলার পর দিপকের প্রতিক্রিয়া
হামলার ঘটনার পর অভিজিৎ দিপক সামাজিক মাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, ভয়ভীতি বা হামলা তাঁকে থামাতে পারবে না। শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়ম ও তরুণদের স্বার্থ নিয়ে তিনি আগের মতোই কথা বলে যাবেন।
দিপকের ভাষ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভস্থলে প্রবেশের সময় তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। তিনি বলেন, যত হামলাই হোক না কেন, তিনি কারও বিরুদ্ধে সহিংসতার পথ বেছে নেবেন না। তাঁর মতে, সহিংসতা দুর্বলতার প্রকাশ।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভিন্নমত প্রকাশকারীদের সহজেই দেশবিরোধী তকমা দেওয়া হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতেও তিনি এবং তাঁর সমর্থকেরা তরুণদের অধিকার ও শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সমস্যার বিষয়ে কথা বলে যাবেন বলে জানান।
কী ঘটেছিল ১৫ জুন?

গত ১৫ জুন জয়পুরে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিতে যান অভিজিৎ দিপক। সমর্থকেরা তাঁকে বিক্ষোভস্থলে নিয়ে যাওয়ার সময় দুই ব্যক্তি আচমকা তাঁর দিকে এগিয়ে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁরা প্রথমে দিপকের গলায় থাকা স্কার্ফ টানেন এবং পরে তাঁকে একাধিকবার চড় মারেন।
ঘটনার পর দিপকের সমর্থকেরা পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে অভিযুক্তদের আটক করেন এবং পরে পুলিশের হাতে তুলে দেন। এরপর পুলিশ তাঁদের হেফাজতে নেয়। তবে পরবর্তীতে ওই দুই যুবককে মুক্তি দেওয়া হলে তাঁদের সংবর্ধনা দেওয়ার ভিডিও নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে।
এই ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও দিপক স্পষ্ট করেছেন, তিনি তাঁর আন্দোলন ও বক্তব্য থেকে সরে দাঁড়াবেন না।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















