বিলম্বিত দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বৃষ্টি এবং দ্রুত কমে আসা জলাধারের মজুদের কারণে ভারতের আর্থিক রাজধানী মুম্বাই নতুন করে পানিসংকটের মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় শহর প্রশাসন বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন (বিএমসি) শিল্প, বাণিজ্যিক ও ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য পানির ব্যবহার সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বুধবার থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানে পানির সরবরাহ ২০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। শহরের পানির প্রধান উৎস সাতটি জলাধারে মোট মজুদ নেমে এসেছে ধারণক্ষমতার মাত্র ১০ দশমিক ৩৫ শতাংশে।
কেন বাড়ছে সংকট
মুম্বাইয়ের পানীয় জলের প্রধান ভরসা সাতটি জলাধার, যেগুলো মূলত বর্ষাকালে পূরণ হয়। কিন্তু এ বছর মৌসুমী বৃষ্টি প্রত্যাশার তুলনায় দেরিতে আসায় এবং জলাধারগুলোতে স্বাভাবিকের তুলনায় কম পানি প্রবেশ করায় মজুদ দ্রুত কমে গেছে।

মঙ্গলবার পর্যন্ত এসব জলাধারে মোট পানির পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৪৯ হাজার ৭৫০ মিলিয়ন লিটার। এর আগে পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে গত ১৫ মে থেকে ১০ শতাংশ পানি সাশ্রয়মূলক কাটছাঁট চালু করেছিল বিএমসি। তবু মজুদ কমতে থাকায় আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, পানযোগ্য পানি যেন অগ্রাধিকারভিত্তিতে মানুষের প্রয়োজন মেটাতে ব্যবহার করা যায় এবং অপচয় রোধ করা যায়, সে লক্ষ্যেই নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
কোন জলাধারের অবস্থা কতটা খারাপ
মুম্বাই ও আশপাশের এলাকার সাতটি জলাধার শহরের পানির চাহিদা পূরণ করে। এর মধ্যে কয়েকটির অবস্থা এখন উদ্বেগজনক।
বর্তমান মজুদের হার হলো—
ভিহার: ৪২.৪০ শতাংশ
মোদক সাগর: ৩০.৪৯ শতাংশ
তুলসি: ২৩.৩৩ শতাংশ

মিডল বৈতারণা: ১০.৪৬ শতাংশ
ভাটসা: ৯.৬৪ শতাংশ
তানসা: ৫.১৩ শতাংশ
আপার বৈতারণা: ০ শতাংশ
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আপার বৈতারণা কার্যত শুকিয়ে গেছে। অন্যদিকে তানসা ও ভাটসা, যা শহরের অন্যতম প্রধান পানির উৎস, সেগুলোর মজুদও আশঙ্কাজনকভাবে কমে এসেছে।
কারা পড়বে বিধিনিষেধের আওতায়
এ মুহূর্তে সাধারণ আবাসিক এলাকায় পানির সরবরাহ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতের ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে—
শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং ক্রীড়া ক্লাবগুলো ২০ শতাংশ কম পানি পাবে।
নির্মাণ প্রকল্প ও সুইমিং পুলের পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে।

নতুন নির্মাণ প্রকল্পে আপাতত কোনো নতুন মিঠা পানির সংযোগ দেওয়া হবে না।
পাবলিক টয়লেট ও ইউরিনালগুলোকে ট্যাংকার বা নলকূপের পানি ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।
অপানযোগ্য কাজে কূপ, টিউবওয়েল ও বোরওয়েলের পানি ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গাড়ি ধোয়া, বাগানে পানি দেওয়া এবং রাস্তা বা স্থাপনা পরিষ্কারে পানযোগ্য পানি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
বাড়ির পানির সরবরাহও কি কমবে?
বর্তমানে আবাসিক গ্রাহকদের জন্য কোনো পানিকাটার ঘোষণা নেই। তবে বিএমসি কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, যদি জলাধারের পানি আরও কমে যায় এবং বৃষ্টিপাত স্বাভাবিক না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর পদক্ষেপ বিবেচনা করা হতে পারে।
এদিকে প্রতিবেশী নবি মুম্বাইয়ে বিকল্প উৎস হিসেবে পুরোনো খোলা কূপ পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো পরিশোধিত পানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং কম বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতিতে প্রস্তুতি জোরদার করা।
সব মিলিয়ে আগামী কয়েক সপ্তাহে মৌসুমী বৃষ্টি কত দ্রুত এবং কতটা পরিমাণে জলাধারগুলো পূরণ করতে পারে, তার ওপরই নির্ভর করছে মুম্বাইয়ের পানিসংকটের ভবিষ্যৎ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















