যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা থামছে না। সাম্প্রতিক হামলায় বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলেছে।
প্রাণহানির বিস্তারিত চিত্র
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় চার হাজার সাতান্নজন নিহত এবং বারো হাজার একশ একুশজন আহত হয়েছেন। শনিবার একটি লক্ষ্যবস্তু হামলায় লেবাননের একজন সেনা সদস্য নিহত হন, যিনি তার মোটরসাইকেলে থাকা অবস্থায় আক্রান্ত হন। সাধারণত রাজনীতি থেকে দূরে থাকা লেবাননের সেনাবাহিনী এই ঘটনার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।
হিজবুল্লাহর কঠোর অবস্থান
লেবাননের পার্লামেন্টে হিজবুল্লাহর প্রতিনিধি আলি ফাইয়াদ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইসরায়েলি বাহিনী যতদিন লেবাননের ভূখণ্ডে অবস্থান করবে ততদিন তারা কোনো যুদ্ধবিরতি মেনে নেবে না। তিনি বলেন, শত্রুপক্ষ লক্ষ্যবস্তু হামলা ও হত্যাকাণ্ড অব্যাহত রাখা অবস্থায় কোনো যুদ্ধবিরতির অর্থ থাকে না। শনিবার রাতেও দক্ষিণ লেবাননে
শান্তি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত স্মারক চুক্তির প্রথম ধারায় স্পষ্টভাবে বলা আছে, লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ করা বৃহত্তর যুদ্ধবিরতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি বলছে ভিন্ন কথা। লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রাখার উদ্দেশ্য দেশের স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করা।
লেবাননের পার্লামেন্ট সদস্য নাজাত আউন সালিবা বলেছেন, দেশের মানুষ ক্রমাগত প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। তিনি জানান, এই সংঘাত সরকারের জন্য বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং জনগণের জন্য অসহনীয় কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ উভয়েই লেবাননের ভূখণ্ডকে নিজেদের কৌশলগত স্বার্থে ব্যবহার করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় বৈঠকের ফলাফল লেবাননের পরিস্থিতির ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















