বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা জোরদার করতে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশ সন্ত্রাসবিরোধী গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ-সংক্রান্ত দুটি পৃথক দ্বিপক্ষীয় নথিও বিনিময় করেছে।
সোমবার মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ায় দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এসব চুক্তি ও নথি বিনিময়ের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের উপস্থিতিতে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারকে সই করা হয়। বৈঠকটি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
সাংস্কৃতিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়
সই হওয়া সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রের পাশাপাশি শিক্ষা, গবেষণা ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
সন্ত্রাসবিরোধী গবেষণা ও সক্ষমতা উন্নয়ন
সাংস্কৃতিক সহযোগিতা চুক্তির পাশাপাশি দুই দেশ সন্ত্রাসবিরোধী গবেষণা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিবিষয়ক একটি সহযোগিতা নথি বিনিময় করেছে।
এই নথির আওতায় সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে গবেষণা, জ্ঞান বিনিময় এবং দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে। উভয় দেশ নিরাপত্তা সহযোগিতাকে আরও কার্যকর করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বিনিয়োগ সহযোগিতার ক্ষেত্রও প্রসারিত
দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগসংক্রান্ত আরেকটি দ্বিপক্ষীয় নথিও বিনিময় করা হয়েছে। এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার পথ সুগম হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সহযোগিতা করে আসছে। নতুন এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে পারস্পরিক অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হতে পারে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মাধ্যমে নথি বিনিময়
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী উতামা হাজি মোহামাদ বিন হাজি হাসান নিজ নিজ সরকারের পক্ষে নথিগুলো বিনিময় করেন।
উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠক এবং পরবর্তী চুক্তি ও নথি বিনিময় দুই দেশের বহুমাত্রিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার সম্পর্ক নতুন গতি পাওয়ার এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে সাংস্কৃতিক, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারিত করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















