যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনের ঐতিহাসিক লিংকন মেমোরিয়াল রিফ্লেক্টিং পুলে সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার পরপরই একের পর এক হাঁসের মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে। সম্প্রতি পুলে একটি মৃত হাঁস ভাসতে দেখা যায়। এর কিছুদিনের মধ্যেই কাছাকাছি কনস্টিটিউশন গার্ডেনসের একটি পুকুরে আরও দুটি মৃত হাঁস পাওয়া যায়।
নতুন করে সংস্কার করা এই জলাধারটি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল। বিশেষ করে ছোট ছোট হাঁসছানার পানিতে ভেসে বেড়ানোর দৃশ্য দর্শনার্থীদের আনন্দ দিচ্ছিল। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি পাল্টে যায়।
মৃত্যুর কারণ নিয়ে প্রশ্ন
প্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসনকর্মীরা জানিয়েছেন, কনস্টিটিউশন গার্ডেনসে পাওয়া মৃত দুটি হাঁসের মধ্যে একটি ছিল প্রাপ্তবয়স্ক এবং অন্যটি ছিল অল্পবয়সী। কী কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে তা এখনও নিশ্চিত নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রিফ্লেক্টিং পুল এবং কনস্টিটিউশন গার্ডেনসের পুকুরের মধ্যে হাঁসগুলো নিয়মিত যাতায়াত করে। ফলে এক জায়গায় থাকা কোনো দূষণ বা ক্ষতিকর উপাদান অন্য জায়গার প্রাণীকেও প্রভাবিত করতে পারে।
তাদের আশঙ্কা, পুলে জমে থাকা শৈবাল কিংবা সংস্কারকাজে ব্যবহৃত রঙ ও রাসায়নিক পদার্থের প্রভাব বন্যপ্রাণীর জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে কিছু ধরনের নীল-সবুজ শৈবাল প্রাণীদের জন্য বিষাক্ত হতে পারে।
তদন্ত শুরু
মৃত হাঁসগুলোর দেহ পরীক্ষার জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। প্রাণিবিজ্ঞানীরা ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ জানার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে স্থানীয় কর্তৃপক্ষও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যদি আরও মৃত জলচর পাখি পাওয়া যায়, তাহলে সেগুলো পরীক্ষাগারে পাঠিয়ে রোগ, রাসায়নিক দূষণ বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না তা পরীক্ষা করা হবে।

সংস্কারের পর নতুন সমস্যা
বহু মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে সম্প্রতি রিফ্লেক্টিং পুলের সংস্কার করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে পুলটিতে পানি লিক হওয়া এবং অতিরিক্ত শৈবাল বৃদ্ধির সমস্যা ছিল।
কিন্তু সংস্কারের পরও নতুন সমস্যা দেখা দিয়েছে। পুলের তলায় ব্যবহার করা বিশেষ নীল রঙ খসে পড়তে শুরু করে। একই সময়ে পানিতে শৈবালের মাত্রাও অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে কর্তৃপক্ষ বিশেষ রাসায়নিক ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে শৈবাল নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিয়েছে।
হাঁসের সংখ্যা কমছে
স্থানীয় বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষক দল জানিয়েছে, এ বছর এলাকায় হাঁসের সংখ্যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সাধারণত প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০টি হাঁস দেখা গেলেও এবার সেই সংখ্যা ৫০ থেকে ১০০-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ।
তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি নির্মাণকাজ, বারবার এলাকা বন্ধ রাখা এবং পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে হাঁসগুলো বিকল্প আবাসস্থল বেছে নিচ্ছে। এতে পুরো বাস্তুতন্ত্রের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে।
তবুও রিফ্লেক্টিং পুলে এখনও কিছু হাঁসের পরিবারকে দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি একটি মা হাঁস ও তার ছয়টি ছানাকে পুলে সাঁতার কাটতে দেখা গেছে। তবে পরিবেশবিদরা বলছেন, বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে আরও ক্ষতির আশঙ্কা থেকে যাবে।
ওয়াশিংটনের ঐতিহাসিক রিফ্লেক্টিং পুলে একাধিক হাঁসের মৃত্যুর পর দূষণ, শৈবাল ও সংস্কারকাজের প্রভাব নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















