যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় নিজ বাড়ির একটি কক্ষ থেকে এক নারী ও তাঁর ছয় বছর বয়সী ছেলের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে উপজেলার দোহাকুলা ইউনিয়নের খালশি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাটিকে সন্দেহজনক হিসেবে দেখছে এবং এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে মনে হচ্ছে না বলে জানিয়েছে।
নিহতরা হলেন খালশি গ্রামের জাকির হোসেনের স্ত্রী জুবাইদা খাতুন (৩০) এবং তাঁদের ছয় বছর বয়সী ছেলে জিসান।
স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। রাত ১০টার দিকে জাকির হোসেনের বাড়ির একটি কক্ষ থেকে মা ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঘরের ভেতর মিলল মা-ছেলের মরদেহ
স্থানীয়রা জানান, জাকির হোসেনের বাড়ির একটি কক্ষের ভেতর মা ও ছেলের মরদেহ দেখতে পেয়ে তাঁরা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে বাঘারপাড়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, কীভাবে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ঘটনাটি সন্দেহজনক, বলছে পুলিশ
বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ জালাল আলম জানিয়েছেন, ঘটনাটি সন্দেহজনক বলে মনে হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে মনে হচ্ছে না। তাই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতিও বেরিয়ে আসবে বলে জানান তিনি।
ঘটনার সময় বাড়িতে ছিলেন না জাকির
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় জুবাইদার স্বামী জাকির হোসেন বাড়িতে ছিলেন না। তিনি বাঘারামপুর বাজারে তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ছিলেন।
পুলিশ এখন ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে। পাশাপাশি ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষা করা হচ্ছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মা ও ছেলের মৃত্যুর কারণ এবং ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও তথ্য জানা যেতে পারে।
মা-ছেলের একসঙ্গে মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ বা ঘটনার ধরন সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে যাচ্ছে না পুলিশ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















