এশিয়ায় শরীরচর্চার জগতে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে নতুন ধরনের প্রতিযোগিতা ‘হাইরক্স’। সাধারণ শরীরচর্চাকে প্রতিযোগিতার মঞ্চে নিয়ে আসা এই আয়োজন ঘিরে জিমপ্রেমী ও শরীরচর্চাকারীদের আগ্রহ বাড়ছে। একই সঙ্গে এশিয়ার বিভিন্ন শহরে ক্রীড়া পর্যটনের নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে।
জাপানের চিবা শহরে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক আয়োজনে বিভিন্ন বয়স ও সক্ষমতার মানুষ অংশ নেন। সেখানে প্রতিযোগীদের শুধু দৌড়াতে হয়নি, পাশাপাশি ভারী ওজন সরানো, ধাক্কা দেওয়া, টানা, বহন করা এবং বিভিন্ন ধরনের শারীরিক কসরতও করতে হয়েছে। ফলে এটি প্রচলিত দৌড় প্রতিযোগিতা বা সাধারণ শরীরচর্চা—কোনোটির মধ্যেই পুরোপুরি সীমাবদ্ধ নয়।
শরীরচর্চা থেকে প্রতিযোগিতার মঞ্চে
হাইরক্সের মূল আকর্ষণ হলো সাধারণ মানুষের শরীরচর্চার অভ্যাসকে একটি প্রতিযোগিতামূলক খেলায় পরিণত করা। যারা নিয়মিত জিমে যান বা নিজেদের শারীরিক সক্ষমতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ নেন, তারাই এ ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
এর ফলে পেশাদার ক্রীড়াবিদদের পাশাপাশি সাধারণ শরীরচর্চাকারীরাও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় নিজেদের দক্ষতা যাচাই করতে পারছেন। শরীরচর্চাকে ঘিরে গড়ে ওঠা এই নতুন সংস্কৃতি বিশেষ করে এশিয়ার তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করছে।
এশিয়ার বড় শহরগুলোতে বিস্তারের পরিকল্পনা
হাইরক্স আয়োজকদের লক্ষ্য এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে এই প্রতিযোগিতার বিস্তার ঘটানো। এশিয়ায় জিম, দৌড় এবং ব্যক্তিগত শরীরচর্চার প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ার সুযোগকে কাজে লাগাতে চাইছে আয়োজক প্রতিষ্ঠানটি।
বিশেষ করে টোকিও, সিউল, হংকং, সিঙ্গাপুরসহ বড় শহরগুলোতে শরীরচর্চাকেন্দ্রিক সংস্কৃতি ইতোমধ্যে শক্তিশালী। ফলে এসব শহরে নতুন ধরনের প্রতিযোগিতামূলক শরীরচর্চার বাজার তৈরির যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

ক্রীড়া পর্যটনেও নতুন সুযোগ
হাইরক্সের বিস্তার শুধু শরীরচর্চার ক্ষেত্রেই পরিবর্তন আনছে না। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ক্রীড়া পর্যটনও। কোনো একটি শহরে বড় প্রতিযোগিতা হলে অংশগ্রহণকারীদের পাশাপাশি তাদের পরিবার, বন্ধু ও দর্শকরাও সেখানে ভ্রমণ করতে পারেন।
এতে হোটেল, পরিবহন, খাবার, বিনোদনসহ স্থানীয় বিভিন্ন ব্যবসায় অতিরিক্ত আয় হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। এ কারণে এশিয়ার শহরগুলোও এ ধরনের আন্তর্জাতিক শরীরচর্চা আয়োজনকে পর্যটন ও নগর অর্থনীতির নতুন ক্ষেত্র হিসেবে দেখছে।
বদলে যাচ্ছে শরীরচর্চার ধারণা
বিশ্বজুড়ে মানুষ এখন শুধু সুস্থ থাকার জন্য নয়, নিজেদের শারীরিক সক্ষমতা পরীক্ষা করার জন্যও নিয়মিত শরীরচর্চা করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শরীরচর্চার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, ব্যক্তিগত সাফল্য ও প্রতিযোগিতার ছবি-ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় এই প্রবণতা আরও শক্তিশালী হচ্ছে।
হাইরক্স সেই আগ্রহকে একটি নির্দিষ্ট প্রতিযোগিতামূলক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে এসেছে। ফলে জিমে প্রতিদিনের অনুশীলন এখন অনেকের কাছে ভবিষ্যতের একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার প্রস্তুতিও হয়ে উঠছে।
এশিয়ায় শরীরচর্চার বাজার যত বড় হচ্ছে, ততই এ ধরনের প্রতিযোগিতার বিস্তারের সুযোগ বাড়ছে। হাইরক্সের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা তাই শুধু একটি নতুন ক্রীড়া আয়োজনের সাফল্য নয়; বরং এশিয়ায় শরীরচর্চা, প্রতিযোগিতা ও ক্রীড়া পর্যটনের বদলে যাওয়া চাহিদারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।
এশিয়ার বড় শহরগুলোতে এই প্রতিযোগিতা আরও বিস্তৃত হলে শরীরচর্চাকে কেন্দ্র করে নতুন ব্যবসা, পর্যটন এবং বিনোদন খাতের বিকাশও ঘটতে পারে।
এশিয়ায় হাইরক্সের উত্থান তাই দেখিয়ে দিচ্ছে—শরীরচর্চা এখন আর শুধু জিমের চার দেয়ালে সীমাবদ্ধ নেই; এটি ধীরে ধীরে একটি বড় প্রতিযোগিতামূলক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে পরিণত হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















