সৌন্দর্যের সংজ্ঞা যে সবার কাছে এক নয়, সেটিই যেন আবারও মনে করিয়ে দিল বিশ্বের ‘কুৎসিততম কুকুর’ প্রতিযোগিতা। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সোনোমা কাউন্টি মেলায় এ বছর বসেছিল প্রতিযোগিতাটির ৫০তম আসর। আর এবারের সেরার মুকুট জিতেছে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে উদ্ধার করা পাগ জাতের কুকুর জিন্নি লু।
প্রতিযোগিতায় জিন্নি লুর জয় অবশ্য একেবারে অপ্রত্যাশিত ছিল না। গত বছরও সে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দ্বিতীয় হয়েছিল। এবার দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কাঙ্ক্ষিত প্রথম স্থানটি নিজের করে নেয় সে।
‘অপূর্ণতাই বিশেষত্ব’
বিশ্বের ‘কুৎসিততম কুকুর’ প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য শুধু কুকুরের চেহারা নিয়ে হাস্যরস তৈরি করা নয়। বরং আশ্রয়হীন ও পরিত্যক্ত কুকুর দত্তক নেওয়ার বিষয়ে মানুষের আগ্রহ বাড়ানো এবং প্রতিটি কুকুরের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও অসম্পূর্ণতার মধ্যেও যে বিশেষ সৌন্দর্য রয়েছে, সেটিই তুলে ধরা এই আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।

প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া কুকুরগুলোর অনেকেরই চেহারা প্রচলিত সৌন্দর্যের মানদণ্ডে ব্যতিক্রমী। কারও মুখের গড়ন অস্বাভাবিক, কারও দাঁত বেরিয়ে আছে, আবার কারও শরীরে রয়েছে জন্মগত বা বয়সজনিত নানা বৈশিষ্ট্য। তবে আয়োজকদের দৃষ্টিতে এসব ত্রুটিই তাদের আলাদা করে তোলে।
অর্ধশতকে পৌঁছাল ব্যতিক্রমী আয়োজন
এ বছর প্রতিযোগিতাটি তার ৫০তম বছর পূর্ণ করেছে। পাঁচ দশক ধরে চলা এই আয়োজন এখন শুধু স্থানীয় একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং প্রাণী দত্তক নেওয়া ও প্রাণীদের প্রতি সহমর্মিতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার একটি পরিচিত আয়োজন হয়ে উঠেছে।
জিন্নি লুর বিজয় সেই বার্তাকেই আরও সামনে নিয়ে এসেছে—চেহারা যেমনই হোক, প্রতিটি প্রাণীরই ভালোবাসা, যত্ন ও একটি নিরাপদ ঘরের অধিকার রয়েছে।
বিশ্বের ‘কুৎসিততম কুকুর’ প্রতিযোগিতার এবারের বিজয়ী দক্ষিণ কোরিয়া থেকে উদ্ধার করা জিন্নি লু। গত বছর দ্বিতীয় হওয়ার পর এবার সে পেয়েছে প্রথম স্থান।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















