যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক শীর্ষ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অ্যান্থনি ফাউচি সিনেটের এক গুরুত্বপূর্ণ শুনানিতে প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে বারবার সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর অধিকার প্রয়োগ করেছেন। শুনানিতে তিনি মোট ১১১ বার এই সাংবিধানিক অধিকার ব্যবহার করেন। ঘটনাটি ঘিরে মার্কিন রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।
প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে সাংবিধানিক অধিকার
করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা এবং মহামারি-সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে সিনেটের শুনানিতে ফাউচিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে একাধিক প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেওয়ার পরিবর্তে তিনি পঞ্চম সংশোধনীর অধিকার প্রয়োগ করেন।
মার্কিন সংবিধানের এই বিধান অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন, যার জবাব দিলে নিজের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলায় ব্যবহারের মতো তথ্য প্রকাশিত হতে পারে।
ফাউচির এই অবস্থান শুনানিতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিশেষ করে করোনাভাইরাসের উৎস, মহামারি মোকাবিলায় সরকারি সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে আইনপ্রণেতাদের প্রশ্নের মুখে তার নীরবতা নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
কংগ্রেস অবমাননার অভিযোগের সম্ভাবনা
সিনেটের স্বরাষ্ট্র ও সরকারি বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান র্যান্ড পল জানিয়েছেন, ফাউচির বিরুদ্ধে কংগ্রেস অবমাননার অভিযোগ আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এ নিয়ে কমিটিতে ভোটও হতে পারে।
র্যান্ড পলের অভিযোগ, একজন সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার অধিকার কংগ্রেসের রয়েছে। ফাউচি ধারাবাহিকভাবে প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাওয়ায় বিষয়টি এখন কংগ্রেসের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে গড়াচ্ছে।
তবে ফাউচির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিনি তার সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন এবং আইনজীবীর পরামর্শ অনুযায়ী প্রশ্নগুলোর উত্তর না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
শুনানিতে উত্তেজনা
ফাউচির আইনজীবী ডেভিড শের্টলারও শুনানির সময় একাধিকবার হস্তক্ষেপ করেন। প্রশ্ন করার পদ্ধতি নিয়ে তিনি আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি একপর্যায়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তাকে শুনানির কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়।
ঘটনাটি শুনানির উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়। করোনাভাইরাস মহামারি নিয়ে বহুদিন ধরে চলা রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের মধ্যেই ফাউচির এই জিজ্ঞাসাবাদকে গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মহামারি নিয়ে পুরোনো বিতর্ক আবার সামনে
করোনাভাইরাস মহামারি চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের জনস্বাস্থ্য নীতিতে ফাউচি ছিলেন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তার বক্তব্য ও পরামর্শের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন সময়ে দেশটির প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
মহামারি শেষ হওয়ার পরও তার ভূমিকা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক থামেনি। বিশেষ করে ভাইরাসের উৎস, গবেষণা কার্যক্রম, সরকারি অর্থায়ন এবং মহামারি মোকাবিলার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফাউচির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সিনেটের সাম্প্রতিক শুনানিতে ১১১ বার পঞ্চম সংশোধনী প্রয়োগের ঘটনা সেই পুরোনো বিতর্ককে আবারও রাজনৈতিক অঙ্গনে সামনে নিয়ে এসেছে। এখন ফাউচির বিরুদ্ধে কংগ্রেস অবমাননার কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না, সেদিকেই নজর থাকবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















