প্রত্যাশার চেয়ে শক্তিশালী অর্থনৈতিক পারফরম্যান্সের কারণে ২০২৬ সালের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে সিঙ্গাপুর। দেশটির বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ২ থেকে ৪ শতাংশের সীমা থেকে বাড়িয়ে ৪.৫ থেকে ৫.৫ শতাংশ করেছে। একই সঙ্গে সিঙ্গাপুরের শেয়ারবাজার নিয়েও আশাবাদ তৈরি হয়েছে। জেপিমরগ্যান চেজ বলেছে, অনুকূল পরিস্থিতিতে স্ট্রেইটস টাইমস সূচক বা এসটিআই আগামী ১২ মাসে ৭,০০০ পয়েন্টে পৌঁছাতে পারে।
প্রথমার্ধের শক্তিশালী পারফরম্যান্স
১১ আগস্ট সিঙ্গাপুরের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় পূর্বাভাস সংশোধনের ঘোষণা দেয়। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে প্রত্যাশার চেয়ে ভালো অর্থনৈতিক কার্যক্রম এবং বছরের বাকি সময়ে বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিনিয়োগ ব্যয়ের গতি বাড়ার সম্ভাবনাকে এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর পরদিনই জেপিমরগ্যান সিঙ্গাপুরের শেয়ারগুলোর লক্ষ্যমাত্রা বাড়ায়। প্রতিষ্ঠানটির মতে, শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সিঙ্গাপুর ডলারের মূল্যবৃদ্ধি এবং উন্নত দেশগুলোর তুলনায় স্থানীয় শেয়ারের মূল্যায়নগত ব্যবধান কমার সম্ভাবনা বাজারকে আরও এগিয়ে নিতে পারে।
বুলিশ পরিস্থিতিতে এসটিআই ৭,০০০ পয়েন্টে উঠতে পারে বলে মনে করছে জেপিমরগ্যান। ১১ আগস্টের সমাপনী অবস্থানের তুলনায় এটি প্রায় ২২ শতাংশ বৃদ্ধির সম্ভাবনা। ২০২৬ সালে এরই মধ্যে এসটিআই ২৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে এবং হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচককেও ছাড়িয়ে গেছে।

প্রযুক্তি ও আবাসন খাতে ভিন্ন চিত্র
তবে অর্থনীতির সব খাতে একই ধরনের পরিস্থিতি নেই। গ্রাফিকস কার্ড ও গুরুত্বপূর্ণ কম্পিউটার যন্ত্রাংশের সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সিঙ্গাপুরে তালিকাভুক্ত পিসি পার্টনার গ্রুপ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে গ্রাফিকস কার্ডের সরবরাহ আরও কমতে পারে। বিশেষ করে কম দামের গ্রাফিকস কার্ডে ঘাটতি বাড়লে কম্পিউটার তৈরির খরচ এবং শেষ পর্যন্ত বাজারদরও বাড়তে পারে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবকাঠামোর জন্য উন্নত চিপ ও মেমোরির বাড়তি চাহিদা এই সংকটের অন্যতম কারণ বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পিসি পার্টনার জানিয়েছে, গ্রাফিকস মেমোরি চিপের ব্যয় বাড়ায় দ্বিতীয়ার্ধে গ্রাফিকস কার্ডের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
আবাসন খাতে আবার শক্তিশালী চিত্র দেখা গেছে। সিটি ডেভেলপমেন্টস লিমিটেডের প্রথমার্ধের নিট মুনাফা ২৩১ শতাংশ বেড়ে ৩০১.৬ মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলারে পৌঁছেছে। রাজস্বও ৬১.১ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ২.৭২ বিলিয়ন ডলার। বিপরীতে হোটেল প্রপার্টিজ লিমিটেড ৩৯.১ মিলিয়ন ডলার নিট লোকসান করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়া, ভাড়া বেড়ে যাওয়া এবং ভ্রমণ চাহিদায় চাপ এর ওপর প্রভাব ফেলেছে।

শপির আয় নিয়ে আশাবাদ
সিঙ্গাপুরভিত্তিক সি লিমিটেডও শপির আয় নিয়ে পূর্বাভাস বাড়িয়েছে। ২০২৬ সালে শপির সমন্বিত সুদ, কর, অবচয় ও পরিশোধ-পূর্ব আয় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, যা আগের পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি। দ্বিতীয় প্রান্তিকে শপির বিজ্ঞাপন থেকে আয় ৭০ শতাংশ বেড়েছে।
এদিকে সিংটেলের অন্তর্নিহিত নিট মুনাফা ২১ শতাংশ বেড়েছে, যদিও এককালীন লাভের প্রভাব না থাকায় মোট নিট মুনাফা কমেছে। সেমকর্প অন্তর্বর্তী লভ্যাংশও বাড়িয়েছে এবং বছরের দ্বিতীয়ার্ধে গ্যাস, বিদ্যুৎ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা সেন্টার ব্যবসায় উন্নতির আশা করছে।
বাজারের পরবর্তী নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের দিকে। ২০ আগস্ট প্রকাশিত হবে ২৮ ও ২৯ জুলাইয়ের বৈঠকের কার্যবিবরণী। সুদের হার নিয়ে নীতিনির্ধারকদের অবস্থান ডলারের পাশাপাশি বৈশ্বিক শেয়ারবাজারের গতিপথেও প্রভাব ফেলতে পারে।
সিঙ্গাপুরের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৪.৫–৫.৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। শক্তিশালী অর্থনীতি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিনিয়োগের জোয়ারে এসটিআই ৭,০০০ পয়েন্টে পৌঁছানোর সম্ভাবনা দেখছে জেপিমরগ্যান।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















