১২:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
বাবাকে কাঁদিয়ে নয়, হাসিয়েই মনে রাখেন জেনহান কোভিডের অতিরিক্ত মৃত্যু নিয়ে বিতর্কিত গবেষণা প্রত্যাহার ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেসে শক্তিশালী ভূমিকম্প, ৫৩ জনের মৃত্যু; ত্রাণের অপেক্ষায় হাজারো মানুষ ট্রাম্পের কড়া ভিসা নীতিতে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ছেন ভারত ও চীনের প্রযুক্তি প্রতিভারা ভুয়া খবরও ছড়ায় মহামারির মতো, রুখবে কীভাবে? ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই বদলে দিল জীবনের অর্থ, ৩ বার অস্ত্রোপচারের পর নতুন পথে উদ্যোক্তা ব্ল্যাকবেরির টক-মিষ্টি ঘূর্ণিতে চিজকেক ব্রাউনি শ্যালট: ছোট্ট পেঁয়াজের মিষ্টি স্বাদে বদলে যায় রান্নার জাদু হাসির গান থেকে বাক্‌স্বাধীনতার যোদ্ধা—আফ্রোমানের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন নিজের শর্তে পপতারকা, সাফল্যের নতুন গল্প স্লেয়্যাটারের

২০২৯ থেকে বদলাচ্ছে বাংলাদেশের অর্থবছর, এপ্রিল-মার্চ চক্রে যাচ্ছে সরকার

বাংলাদেশের অর্থবছরের প্রচলিত জুলাই-জুন চক্রে বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে এপ্রিল-মার্চ ভিত্তিক নতুন অর্থবছর চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। আর পরিবর্তনের প্রস্তুতির জন্য ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে নয় মাসের একটি অন্তর্বর্তীকালীন অর্থবছর হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বর্ষার আগেই অবকাঠামো উন্নয়ন শেষ করার লক্ষ্য

বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থবছর শুরু হয় ১ জুলাই এবং শেষ হয় ৩০ জুন। নতুন চক্র চালুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সূচিকে গুরুত্ব দিয়েছে সরকার।

২০২৮-২৯ থেকে বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের অর্থবছর

সরকারের বিবেচনায়, বর্তমান অর্থবছর ব্যবস্থায় জুলাই ও আগস্ট মাসে বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম চলতে থাকে। অথচ এ সময় দেশে ভারী বর্ষণ হওয়ায় অনেক প্রকল্পের কাজ বিলম্বিত হয়। এতে নির্মাণকাজের মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি জনদুর্ভোগও বাড়ে।

এ কারণে এপ্রিল থেকে মার্চ পর্যন্ত অর্থবছর চালু হলে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই অবকাঠামো উন্নয়নকাজের বড় অংশ শেষ করার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছে সরকার।

পরিবর্তনের জন্য গঠিত হবে কমিটি

অর্থবছরের নতুন চক্র কার্যকর করতে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে। এতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, আইন ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ, অর্থ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিরা থাকবেন।

এই কমিটি অর্থবছর পরিবর্তনের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নির্ধারণ করবে।

সংবিধান ও আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন

২০২৮-২৯ থেকে অর্থবছর এপ্রিল-মার্চ, ২০২৭-২৮ অর্থবছর শেষ হবে

অর্থবছরের সময়সূচি পরিবর্তন করতে শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তই যথেষ্ট হবে না। এ জন্য বাংলাদেশের সংবিধান এবং জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭-এ প্রয়োজনীয় সংশোধন আনতে হবে।

এর পাশাপাশি সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনতে হবে। নতুন অর্থবছর অনুযায়ী সরকারি আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনাগত কাঠামোও সমন্বয় করা হবে।

নয় মাসের অন্তর্বর্তী অর্থবছর

মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৭-২৮ অর্থবছর ১ জুলাই থেকে শুরু হয়ে নয় মাস পর মার্চে শেষ হবে। অর্থাৎ জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়কে একটি অন্তর্বর্তীকালীন অর্থবছর হিসেবে ধরা হবে।

এরপর ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে এপ্রিল-মার্চ চক্র পুরোপুরি কার্যকর হবে। তখন সরকারের সব কার্যক্রম নতুন অর্থবছরের সময়সূচি অনুসারে পরিচালিত হবে।

নতুন ব্যবস্থা চালু হলে সরকারি বাজেট, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের সময়সূচিতে বড় ধরনের সমন্বয় প্রয়োজন হবে। তবে সরকারের মূল লক্ষ্য থাকবে বর্ষাকালের আগেই অবকাঠামো প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে আবহাওয়াজনিত বিলম্ব কমানো।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

বাবাকে কাঁদিয়ে নয়, হাসিয়েই মনে রাখেন জেনহান

২০২৯ থেকে বদলাচ্ছে বাংলাদেশের অর্থবছর, এপ্রিল-মার্চ চক্রে যাচ্ছে সরকার

১০:৪৮:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের অর্থবছরের প্রচলিত জুলাই-জুন চক্রে বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে এপ্রিল-মার্চ ভিত্তিক নতুন অর্থবছর চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। আর পরিবর্তনের প্রস্তুতির জন্য ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে নয় মাসের একটি অন্তর্বর্তীকালীন অর্থবছর হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বর্ষার আগেই অবকাঠামো উন্নয়ন শেষ করার লক্ষ্য

বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থবছর শুরু হয় ১ জুলাই এবং শেষ হয় ৩০ জুন। নতুন চক্র চালুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সূচিকে গুরুত্ব দিয়েছে সরকার।

২০২৮-২৯ থেকে বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের অর্থবছর

সরকারের বিবেচনায়, বর্তমান অর্থবছর ব্যবস্থায় জুলাই ও আগস্ট মাসে বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম চলতে থাকে। অথচ এ সময় দেশে ভারী বর্ষণ হওয়ায় অনেক প্রকল্পের কাজ বিলম্বিত হয়। এতে নির্মাণকাজের মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি জনদুর্ভোগও বাড়ে।

এ কারণে এপ্রিল থেকে মার্চ পর্যন্ত অর্থবছর চালু হলে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই অবকাঠামো উন্নয়নকাজের বড় অংশ শেষ করার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছে সরকার।

পরিবর্তনের জন্য গঠিত হবে কমিটি

অর্থবছরের নতুন চক্র কার্যকর করতে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে। এতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, আইন ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ, অর্থ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিরা থাকবেন।

এই কমিটি অর্থবছর পরিবর্তনের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নির্ধারণ করবে।

সংবিধান ও আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন

২০২৮-২৯ থেকে অর্থবছর এপ্রিল-মার্চ, ২০২৭-২৮ অর্থবছর শেষ হবে

অর্থবছরের সময়সূচি পরিবর্তন করতে শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তই যথেষ্ট হবে না। এ জন্য বাংলাদেশের সংবিধান এবং জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭-এ প্রয়োজনীয় সংশোধন আনতে হবে।

এর পাশাপাশি সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনতে হবে। নতুন অর্থবছর অনুযায়ী সরকারি আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনাগত কাঠামোও সমন্বয় করা হবে।

নয় মাসের অন্তর্বর্তী অর্থবছর

মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৭-২৮ অর্থবছর ১ জুলাই থেকে শুরু হয়ে নয় মাস পর মার্চে শেষ হবে। অর্থাৎ জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়কে একটি অন্তর্বর্তীকালীন অর্থবছর হিসেবে ধরা হবে।

এরপর ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে এপ্রিল-মার্চ চক্র পুরোপুরি কার্যকর হবে। তখন সরকারের সব কার্যক্রম নতুন অর্থবছরের সময়সূচি অনুসারে পরিচালিত হবে।

নতুন ব্যবস্থা চালু হলে সরকারি বাজেট, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের সময়সূচিতে বড় ধরনের সমন্বয় প্রয়োজন হবে। তবে সরকারের মূল লক্ষ্য থাকবে বর্ষাকালের আগেই অবকাঠামো প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে আবহাওয়াজনিত বিলম্ব কমানো।