০৭:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
হরমুজ প্রণালিতে টোলের আশঙ্কা, বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি বাড়ার শঙ্কা টোকিওর অফিসে ফিরছে কর্মীরা, বৈশ্বিক বড় শহরগুলোর মধ্যে শূন্যপদ সর্বনিম্ন ‘নো সারপ্রাইজেস আইন’ই কি শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যব্যয় বাড়াচ্ছে? নিজের মতো করে সিনেমার পুরোনো ঘরানা বদলাচ্ছেন দুই নারী নির্মাতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরিভাষায় ইংরেজি বাদ দিতে চায় চীন, লক্ষ্য প্রযুক্তিতে ‘ভাষার ক্ষমতা’ বাড়ানো উদ্ভাবনই ভবিষ্যৎ নির্ধারণের মূল শক্তি, প্রযুক্তিতে নতুন যুগের পথে চীন তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যেই জলবায়ু সংকট মোকাবিলার বিরোধিতা, তীব্র সমালোচনায় রিচার্ড টাইস ২৪ বছর বয়সে স্ট্রোক, এবার ঘুমের শ্বাসকষ্ট শনাক্তে ৭৫ মিলিয়ন ডলারের স্মার্ট আংটি চীনের এআই অবকাঠামোর শক্তি, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রনির্ভরতায় বড় ঝুঁকি উত্তর কোরিয়া শক্তিশালী, কমছে মার্কিন সমর্থন: নতুন নিরাপত্তা বাস্তবতায় দক্ষিণ কোরিয়া

ইদলিবে সিরিয়ার সামরিক বিমানঘাঁটিতে ইসরায়েলের ৮ দফা হামলা, বাড়ছে তুরস্ক-ইসরায়েল উত্তেজনা

সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইদলিব প্রদেশের আবু দুহুর সামরিক বিমানঘাঁটির রানওয়েতে আট দফা হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, ভোরে চালানো এসব হামলায় বিমানঘাঁটির অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

সিরিয়ার একটি সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান বিমানঘাঁটির রানওয়েকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। সিরিয়ার নতুন কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে থাকা ঘাঁটিটি বর্তমানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাহিনী পাহারা দিচ্ছে।

তুরস্কের সামরিক প্রতিনিধিদলের সফরের পর হামলা

সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিমানঘাঁটিতে তুরস্কের একটি সামরিক প্রতিনিধিদল সফর করেছিল। ঘাঁটিটি পুনরায় চালুর উদ্যোগের অংশ হিসেবে ওই সফর হয়েছিল বলে জানিয়েছে পর্যবেক্ষণ সংস্থাটি। এর কয়েক দিনের মধ্যেই ইসরায়েলি হামলার ঘটনা ঘটল।

আবু দুহুর বিমানঘাঁটি ২০১২ সাল থেকেই কার্যত বন্ধ। সিরিয়ার দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের সময় ঘাঁটিটি বিভিন্ন পক্ষের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ২০১৮ সালের শেষ দিকে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর কাছ থেকে ইদলিবের বড় অংশ পুনর্দখলের পর ঘাঁটিটি বাশার আল-আসাদের বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে যায়। পরবর্তী সময়ে সিরিয়ার নতুন কর্তৃপক্ষ ক্ষমতায় এসে বিমানঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নেয়।

সিরিয়ায় ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলা

বাশার আল-আসাদের পতনের পর সিরিয়ায় ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা আরও জোরদার হয়েছে। দেশটির সাবেক সেনাবাহিনীর সামরিক সরঞ্জাম ও স্থাপনা লক্ষ্য করে ইসরায়েল শত শত বিমান হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, এসব হামলার উদ্দেশ্য হলো সাবেক সিরীয় বাহিনীর সামরিক সম্পদ নতুন কর্তৃপক্ষের হাতে পড়া ঠেকানো।

এর পাশাপাশি সিরিয়ার ভূখণ্ডে ইসরায়েলি সেনাদের অনুপ্রবেশও বেড়েছে। গোলান মালভূমির বাইরে জাতিসংঘ-নিয়ন্ত্রিত নিরস্ত্রীকরণ বাফার অঞ্চলেও ইসরায়েলি সেনাদের উপস্থিতি তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব এসব পদক্ষেপকে সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার লঙ্ঘন হিসেবে নিন্দা করেছেন।

Can Israel and Turkey Avoid a Conflict in Syria? | RANE Worldview

গোলান মালভূমি নিয়ে দীর্ঘ বিরোধ

১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে সিরিয়ার কাছ থেকে গোলান মালভূমির অধিকাংশ দখল করে নেয় ইসরায়েল। পরে অঞ্চলটি নিজেদের সঙ্গে সংযুক্ত করার ঘোষণা দেয় তারা। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ওই সংযুক্তিকে স্বীকৃতি দেয়নি।

সিরিয়ার নতুন সরকার ধারাবাহিকভাবে ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতার প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। দামেস্কে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা ইসরায়েলি উত্তেজনা কমাতে ফ্রান্সের সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান জানান।

সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখারও নিন্দা করেছেন। তিনি ১৯৭৪ সালের সীমারেখার বাইরে ইসরায়েলের দখলকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে অবিলম্বে ও নিঃশর্ত সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

তবে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ গত সপ্তাহে জানিয়েছেন, দামেস্কের প্রত্যাহারের দাবি সত্ত্বেও সিরিয়ায় ইসরায়েলি সেনাদের অবস্থান অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

তুরস্কের সঙ্গে উত্তেজনাও বাড়ছে

সিরিয়ায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান তুরস্কের সঙ্গেও উত্তেজনা বাড়িয়েছে। সিরিয়ার নতুন কর্তৃপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র তুরস্ক ইসরায়েলের সিরিয়া ও লেবাননে হামলার তীব্র সমালোচনা করেছে। গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধেরও কঠোর বিরোধিতা করে আসছে আঙ্কারা।

আবু দুহুর বিমানঘাঁটিতে সর্বশেষ হামলার বিষয়ে এএফপির প্রশ্নের জবাবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিতে টোলের আশঙ্কা, বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি বাড়ার শঙ্কা

ইদলিবে সিরিয়ার সামরিক বিমানঘাঁটিতে ইসরায়েলের ৮ দফা হামলা, বাড়ছে তুরস্ক-ইসরায়েল উত্তেজনা

০৫:৫৬:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইদলিব প্রদেশের আবু দুহুর সামরিক বিমানঘাঁটির রানওয়েতে আট দফা হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, ভোরে চালানো এসব হামলায় বিমানঘাঁটির অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

সিরিয়ার একটি সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান বিমানঘাঁটির রানওয়েকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। সিরিয়ার নতুন কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে থাকা ঘাঁটিটি বর্তমানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাহিনী পাহারা দিচ্ছে।

তুরস্কের সামরিক প্রতিনিধিদলের সফরের পর হামলা

সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিমানঘাঁটিতে তুরস্কের একটি সামরিক প্রতিনিধিদল সফর করেছিল। ঘাঁটিটি পুনরায় চালুর উদ্যোগের অংশ হিসেবে ওই সফর হয়েছিল বলে জানিয়েছে পর্যবেক্ষণ সংস্থাটি। এর কয়েক দিনের মধ্যেই ইসরায়েলি হামলার ঘটনা ঘটল।

আবু দুহুর বিমানঘাঁটি ২০১২ সাল থেকেই কার্যত বন্ধ। সিরিয়ার দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের সময় ঘাঁটিটি বিভিন্ন পক্ষের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ২০১৮ সালের শেষ দিকে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর কাছ থেকে ইদলিবের বড় অংশ পুনর্দখলের পর ঘাঁটিটি বাশার আল-আসাদের বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে যায়। পরবর্তী সময়ে সিরিয়ার নতুন কর্তৃপক্ষ ক্ষমতায় এসে বিমানঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নেয়।

সিরিয়ায় ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলা

বাশার আল-আসাদের পতনের পর সিরিয়ায় ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা আরও জোরদার হয়েছে। দেশটির সাবেক সেনাবাহিনীর সামরিক সরঞ্জাম ও স্থাপনা লক্ষ্য করে ইসরায়েল শত শত বিমান হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, এসব হামলার উদ্দেশ্য হলো সাবেক সিরীয় বাহিনীর সামরিক সম্পদ নতুন কর্তৃপক্ষের হাতে পড়া ঠেকানো।

এর পাশাপাশি সিরিয়ার ভূখণ্ডে ইসরায়েলি সেনাদের অনুপ্রবেশও বেড়েছে। গোলান মালভূমির বাইরে জাতিসংঘ-নিয়ন্ত্রিত নিরস্ত্রীকরণ বাফার অঞ্চলেও ইসরায়েলি সেনাদের উপস্থিতি তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব এসব পদক্ষেপকে সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার লঙ্ঘন হিসেবে নিন্দা করেছেন।

Can Israel and Turkey Avoid a Conflict in Syria? | RANE Worldview

গোলান মালভূমি নিয়ে দীর্ঘ বিরোধ

১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে সিরিয়ার কাছ থেকে গোলান মালভূমির অধিকাংশ দখল করে নেয় ইসরায়েল। পরে অঞ্চলটি নিজেদের সঙ্গে সংযুক্ত করার ঘোষণা দেয় তারা। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ওই সংযুক্তিকে স্বীকৃতি দেয়নি।

সিরিয়ার নতুন সরকার ধারাবাহিকভাবে ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতার প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। দামেস্কে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা ইসরায়েলি উত্তেজনা কমাতে ফ্রান্সের সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান জানান।

সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখারও নিন্দা করেছেন। তিনি ১৯৭৪ সালের সীমারেখার বাইরে ইসরায়েলের দখলকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে অবিলম্বে ও নিঃশর্ত সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

তবে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ গত সপ্তাহে জানিয়েছেন, দামেস্কের প্রত্যাহারের দাবি সত্ত্বেও সিরিয়ায় ইসরায়েলি সেনাদের অবস্থান অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

তুরস্কের সঙ্গে উত্তেজনাও বাড়ছে

সিরিয়ায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান তুরস্কের সঙ্গেও উত্তেজনা বাড়িয়েছে। সিরিয়ার নতুন কর্তৃপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র তুরস্ক ইসরায়েলের সিরিয়া ও লেবাননে হামলার তীব্র সমালোচনা করেছে। গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধেরও কঠোর বিরোধিতা করে আসছে আঙ্কারা।

আবু দুহুর বিমানঘাঁটিতে সর্বশেষ হামলার বিষয়ে এএফপির প্রশ্নের জবাবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।