০৮:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
সাইনসবুরির দোকানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভুল শনাক্তকরণ, বন্ধ হলো মুখ স্ক্যান ব্যবস্থা খরা মোকাবিলার জরুরি পরিকল্পনা প্রকাশে ব্রিটিশ সরকারের ‘নিরাপত্তা’ যুক্তি, বাড়ছে উদ্বেগ ‘হিরোস’ ও ‘ন্যাশভিল’-খ্যাত অভিনেত্রী হেইডেন প্যানেটিয়েরে ৩৬ বছর বয়সে মারা গেছেন ইউরোভিশন ২০২৭: রাজধানী সোফিয়াকে হারিয়ে আয়োজক হচ্ছে কৃষ্ণসাগরের শহর বুর্গাস ভ্রমণে হালকা ব্যাগ? না, বরং বেশি করে সঙ্গে নিন! আফগান নারীদের পাশে দাঁড়ানো মানে শুধু অধিকার রক্ষা নয়, ভবিষ্যৎ আফগানিস্তানকে বাঁচিয়ে রাখা হোয়াইট হাউসের বিশাল বলরুম নির্মাণে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি চাইলেন ট্রাম্প ইরান চুক্তির পথে বাধা দিলে ওমানে বোমা হামলার হুমকি ট্রাম্পের এআইয়ের দৌড়ে জৈব অস্ত্রের ভয়: বিপদ আসার আগেই বিশ্বকে কেন প্রস্তুত হতে হবে ঋষভ পন্তের বিশ্বরেকর্ড, টেস্টে দ্রুততম ১০০ ছক্কার মাইলফলক

‘নো সারপ্রাইজেস আইন’ই কি শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যব্যয় বাড়াচ্ছে?

২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে কার্যকর হওয়া ‘নো সারপ্রাইজেস আইন’ ছিল সাধারণ রোগীদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তির পদক্ষেপ। জরুরি চিকিৎসা নিতে গিয়ে চিকিৎসাসেবার কোনো অংশ বীমার আওতার বাইরে থাকায় যে অপ্রত্যাশিত বিপুল বিলের মুখোমুখি হতে হতো, এই আইন সেই ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দেয়। কিন্তু চার বছর পর দেখা যাচ্ছে, রোগীকে আকস্মিক চিকিৎসা বিল থেকে রক্ষা করার এই ব্যবস্থাই উল্টো পুরো স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে।

যে সমস্যা সমাধানের জন্য আইনটি করা হয়েছিল

ধরা যাক, একজন বীমাধারী রোগী পা ভেঙে জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য হাসপাতালে গেলেন। চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত বেশির ভাগ সেবাদাতা তার বীমার আওতায় থাকলেও একজন চিকিৎসক যদি বীমা প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কের বাইরে থাকেন, তাহলে রোগীর হাতে পরে হাজার হাজার ডলারের বিল আসতে পারে।

আগে যুক্তরাষ্ট্রে এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটত। ‘নো সারপ্রাইজেস আইন’ এই দায় রোগীর কাঁধ থেকে সরিয়ে বীমা প্রতিষ্ঠান ও নেটওয়ার্কের বাইরের চিকিৎসকদের মধ্যে অর্থ পরিশোধের বিরোধ মেটানোর ব্যবস্থা করে।

ফলে কোটি কোটি ডলারের অপ্রত্যাশিত চিকিৎসা ব্যয় থেকে বহু মার্কিন নাগরিক সুরক্ষা পেয়েছেন।

বিরোধ মেটানোর ব্যবস্থাতেই তৈরি হয়েছে নতুন সমস্যা

আইনটির অধীনে কোনো চিকিৎসক মনে করলে যে বীমা প্রতিষ্ঠান তার সেবার জন্য যথেষ্ট অর্থ দিচ্ছে না, তাহলে বিষয়টি সালিশি প্রক্রিয়ায় যেতে পারে। সেখানে বীমা প্রতিষ্ঠান এবং চিকিৎসক—দুই পক্ষই নিজেদের প্রস্তাবিত ন্যায্য মূল্য জানায়। এরপর একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান দুই প্রস্তাবের মধ্যে একটিকে বেছে নেয়।

অর্থাৎ, মাঝামাঝি কোনো মূল্য নির্ধারণের সুযোগ নেই। যে পক্ষ হারে, তাকেই সালিশি প্রতিষ্ঠানের খরচও বহন করতে হয়।

তাত্ত্বিকভাবে এই ব্যবস্থা দুই পক্ষকেই যুক্তিসংগত প্রস্তাব দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করার কথা। কিন্তু বাস্তবে ঘটছে তার উল্টো।

প্রত্যাশার চেয়ে বহুগুণ বেড়েছে মামলা

সরকার বছরে প্রায় ১৭ হাজার বিরোধ সালিশি ব্যবস্থায় যাবে বলে ধারণা করেছিল। কিন্তু ২০২৫ সালে এমন মামলার সংখ্যা প্রায় ২৬ লাখে পৌঁছায়।

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, চিকিৎসকরাই এসব বিরোধে প্রায় সব সময় জয়ী হচ্ছেন। প্রায় ৮৫ শতাংশ ক্ষেত্রে চিকিৎসাসেবাদাতারা জয় পেয়েছেন। শুধু ২০২৫ সালেই এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চিকিৎসাসেবাদাতারা প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার অর্থ পেয়েছেন।

কিছু ক্ষেত্রে পাওয়া অর্থ প্রচলিত চিকিৎসা ব্যয়ের তুলনায় এতটাই বেশি যে তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

কয়েকটি ঘটনায় অস্বাভাবিক অর্থ পাওয়ার তথ্য

সাম্প্রতিক কয়েকটি অনুসন্ধানে এমন কিছু ঘটনা উঠে এসেছে, যেখানে চিকিৎসকদের পাওয়া অর্থ ছিল প্রচলিত হারের তুলনায় অবিশ্বাস্য রকম বেশি।

নিউ জার্সির এক প্লাস্টিক সার্জন কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্তন ছোট করার অস্ত্রোপচারের জন্য প্রচলিত হারের প্রায় ৩০ গুণ অর্থ পেয়েছেন। পেনসিলভানিয়ার একটি স্নায়ু অস্ত্রোপচার প্রতিষ্ঠান এমন একটি রোগ নির্ণয়মূলক চিকিৎসার জন্য ৩ লাখ ৩০ হাজার ডলার পেয়েছে, যার সাধারণ খরচ ২ হাজার ৭০০ ডলারেরও কম। আবার কিছু অস্ত্রোপচার সহকারী এমন অর্থ পেয়েছেন, যা সার্জনদের পারিশ্রমিকের ২৫ গুণেরও বেশি।

আসল ভয় পরোক্ষ প্রভাব নিয়ে

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থায় দেওয়া অর্থ এখনো যুক্তরাষ্ট্রের মোট স্বাস্থ্যব্যয়ের বিশাল অংশ নয়। কিন্তু এর পরোক্ষ প্রভাব আরও বড় হতে পারে।

বীমার আওতায় থাকা হাসপাতাল ও চিকিৎসকরাও এখন বীমা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দর-কষাকষিতে সালিশি ব্যবস্থায় পাওয়া বড় অঙ্কের অর্থকে চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।

একজন চিকিৎসক বীমা প্রতিষ্ঠানকে কার্যত বলতে পারেন, তাকে যদি তার চাওয়া অর্থের কাছাকাছি পারিশ্রমিক না দেওয়া হয়, তাহলে তিনি বীমা নেটওয়ার্কের বাইরে চলে যাবেন এবং সালিশি প্রক্রিয়ায় বেশি অর্থ পাওয়ার চেষ্টা করবেন।

এমন প্রবণতা ব্যাপক আকারে ঘটছে—এমন চূড়ান্ত প্রমাণ এখনো নেই। তবে বর্তমান আর্থিক কাঠামো এই সম্ভাবনাকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগও দিচ্ছে না।

No Surprises Act arbitration rule changes may not stop big payouts | STAT

বাড়ছে সালিশি ব্যবস্থার খরচও

শুধু চিকিৎসকদের বেশি অর্থ দেওয়াই সমস্যা নয়। প্রতিটি বিরোধের জন্য সালিশি প্রতিষ্ঠানও অর্থ পায়। বিরোধের সংখ্যা দ্রুত বাড়ায় সেই খরচও বেড়ে যাচ্ছে।

গবেষকদের হিসাবে, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসেই এসব সালিশি ফি বাবদ প্রায় ৮৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার খরচ হয়েছে। আইনটি কার্যকর হওয়ার প্রথম তিন বছরে মোট যত অর্থ খরচ হয়েছিল, মাত্র ছয় মাসের এই ব্যয় তার কাছাকাছি।

শেষ পর্যন্ত চাপ পড়তে পারে রোগীর ওপর

চিকিৎসকদের পারিশ্রমিক বাড়লে এবং বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর সালিশি ব্যয় বেড়ে গেলে সেই অর্থ শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের কাছ থেকেই আদায় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অর্থাৎ, রোগীরা হয়তো আর জরুরি চিকিৎসার পর হঠাৎ করে ১২ হাজার ডলারের বিল হাতে পাবেন না। কিন্তু বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো বাড়তি ব্যয় পুষিয়ে নিতে মাসিক বীমা প্রিমিয়াম বাড়িয়ে দিতে পারে।

এর প্রভাব ইতোমধ্যেই ২০২৭ সালের বীমা মূল্য নির্ধারণ নিয়ে আলোচনায় দেখা যাচ্ছে। কয়েকটি বীমা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার বাড়তি খরচ আগামী বছরের বীমা মূল্য বাড়ানোর অন্যতম কারণ হতে পারে। বাণিজ্যিক স্বাস্থ্যব্যয় আগামী বছর প্রায় ৯ শতাংশ বাড়তে পারে—এমন পূর্বাভাসেও এই বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থাকে সম্ভাব্য কারণগুলোর একটি হিসেবে ধরা হয়েছে।

আইনটি বাতিল নয়, প্রয়োজন সংস্কার

তার মানে এই নয় যে ‘নো সারপ্রাইজেস আইন’ খারাপ আইন। বরং এটি এমন একটি বাস্তব সমস্যা সমাধান করেছে, যার কারণে বহু মার্কিন নাগরিক জরুরি চিকিৎসার পর ভয়াবহ আর্থিক সংকটে পড়তেন।

সমস্যা হলো, আইনটির বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থায় এমন কিছু ফাঁক তৈরি হয়েছে, যা চিকিৎসাসেবাদাতাদের অস্বাভাবিক বেশি অর্থ পাওয়ার সুযোগ করে দিতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন, ব্যবস্থাটি বিভিন্ন পক্ষ নিজেদের সুবিধার জন্য ব্যবহার করছে। তাই আইনটির মূল সুরক্ষা বজায় রেখেই এর দুর্বলতা দূর করা জরুরি।

কারণ রোগীকে আকস্মিক চিকিৎসা বিল থেকে রক্ষা করার একটি ভালো উদ্যোগ যদি শেষ পর্যন্ত বীমার খরচ বাড়িয়ে দেয়, তাহলে তার বোঝাও আবার সেই রোগীর কাঁধেই ফিরে আসবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাইনসবুরির দোকানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভুল শনাক্তকরণ, বন্ধ হলো মুখ স্ক্যান ব্যবস্থা

‘নো সারপ্রাইজেস আইন’ই কি শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যব্যয় বাড়াচ্ছে?

০৬:৪৯:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে কার্যকর হওয়া ‘নো সারপ্রাইজেস আইন’ ছিল সাধারণ রোগীদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তির পদক্ষেপ। জরুরি চিকিৎসা নিতে গিয়ে চিকিৎসাসেবার কোনো অংশ বীমার আওতার বাইরে থাকায় যে অপ্রত্যাশিত বিপুল বিলের মুখোমুখি হতে হতো, এই আইন সেই ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দেয়। কিন্তু চার বছর পর দেখা যাচ্ছে, রোগীকে আকস্মিক চিকিৎসা বিল থেকে রক্ষা করার এই ব্যবস্থাই উল্টো পুরো স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে।

যে সমস্যা সমাধানের জন্য আইনটি করা হয়েছিল

ধরা যাক, একজন বীমাধারী রোগী পা ভেঙে জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য হাসপাতালে গেলেন। চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত বেশির ভাগ সেবাদাতা তার বীমার আওতায় থাকলেও একজন চিকিৎসক যদি বীমা প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কের বাইরে থাকেন, তাহলে রোগীর হাতে পরে হাজার হাজার ডলারের বিল আসতে পারে।

আগে যুক্তরাষ্ট্রে এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটত। ‘নো সারপ্রাইজেস আইন’ এই দায় রোগীর কাঁধ থেকে সরিয়ে বীমা প্রতিষ্ঠান ও নেটওয়ার্কের বাইরের চিকিৎসকদের মধ্যে অর্থ পরিশোধের বিরোধ মেটানোর ব্যবস্থা করে।

ফলে কোটি কোটি ডলারের অপ্রত্যাশিত চিকিৎসা ব্যয় থেকে বহু মার্কিন নাগরিক সুরক্ষা পেয়েছেন।

বিরোধ মেটানোর ব্যবস্থাতেই তৈরি হয়েছে নতুন সমস্যা

আইনটির অধীনে কোনো চিকিৎসক মনে করলে যে বীমা প্রতিষ্ঠান তার সেবার জন্য যথেষ্ট অর্থ দিচ্ছে না, তাহলে বিষয়টি সালিশি প্রক্রিয়ায় যেতে পারে। সেখানে বীমা প্রতিষ্ঠান এবং চিকিৎসক—দুই পক্ষই নিজেদের প্রস্তাবিত ন্যায্য মূল্য জানায়। এরপর একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান দুই প্রস্তাবের মধ্যে একটিকে বেছে নেয়।

অর্থাৎ, মাঝামাঝি কোনো মূল্য নির্ধারণের সুযোগ নেই। যে পক্ষ হারে, তাকেই সালিশি প্রতিষ্ঠানের খরচও বহন করতে হয়।

তাত্ত্বিকভাবে এই ব্যবস্থা দুই পক্ষকেই যুক্তিসংগত প্রস্তাব দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করার কথা। কিন্তু বাস্তবে ঘটছে তার উল্টো।

প্রত্যাশার চেয়ে বহুগুণ বেড়েছে মামলা

সরকার বছরে প্রায় ১৭ হাজার বিরোধ সালিশি ব্যবস্থায় যাবে বলে ধারণা করেছিল। কিন্তু ২০২৫ সালে এমন মামলার সংখ্যা প্রায় ২৬ লাখে পৌঁছায়।

সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, চিকিৎসকরাই এসব বিরোধে প্রায় সব সময় জয়ী হচ্ছেন। প্রায় ৮৫ শতাংশ ক্ষেত্রে চিকিৎসাসেবাদাতারা জয় পেয়েছেন। শুধু ২০২৫ সালেই এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চিকিৎসাসেবাদাতারা প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার অর্থ পেয়েছেন।

কিছু ক্ষেত্রে পাওয়া অর্থ প্রচলিত চিকিৎসা ব্যয়ের তুলনায় এতটাই বেশি যে তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

কয়েকটি ঘটনায় অস্বাভাবিক অর্থ পাওয়ার তথ্য

সাম্প্রতিক কয়েকটি অনুসন্ধানে এমন কিছু ঘটনা উঠে এসেছে, যেখানে চিকিৎসকদের পাওয়া অর্থ ছিল প্রচলিত হারের তুলনায় অবিশ্বাস্য রকম বেশি।

নিউ জার্সির এক প্লাস্টিক সার্জন কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্তন ছোট করার অস্ত্রোপচারের জন্য প্রচলিত হারের প্রায় ৩০ গুণ অর্থ পেয়েছেন। পেনসিলভানিয়ার একটি স্নায়ু অস্ত্রোপচার প্রতিষ্ঠান এমন একটি রোগ নির্ণয়মূলক চিকিৎসার জন্য ৩ লাখ ৩০ হাজার ডলার পেয়েছে, যার সাধারণ খরচ ২ হাজার ৭০০ ডলারেরও কম। আবার কিছু অস্ত্রোপচার সহকারী এমন অর্থ পেয়েছেন, যা সার্জনদের পারিশ্রমিকের ২৫ গুণেরও বেশি।

আসল ভয় পরোক্ষ প্রভাব নিয়ে

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থায় দেওয়া অর্থ এখনো যুক্তরাষ্ট্রের মোট স্বাস্থ্যব্যয়ের বিশাল অংশ নয়। কিন্তু এর পরোক্ষ প্রভাব আরও বড় হতে পারে।

বীমার আওতায় থাকা হাসপাতাল ও চিকিৎসকরাও এখন বীমা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দর-কষাকষিতে সালিশি ব্যবস্থায় পাওয়া বড় অঙ্কের অর্থকে চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।

একজন চিকিৎসক বীমা প্রতিষ্ঠানকে কার্যত বলতে পারেন, তাকে যদি তার চাওয়া অর্থের কাছাকাছি পারিশ্রমিক না দেওয়া হয়, তাহলে তিনি বীমা নেটওয়ার্কের বাইরে চলে যাবেন এবং সালিশি প্রক্রিয়ায় বেশি অর্থ পাওয়ার চেষ্টা করবেন।

এমন প্রবণতা ব্যাপক আকারে ঘটছে—এমন চূড়ান্ত প্রমাণ এখনো নেই। তবে বর্তমান আর্থিক কাঠামো এই সম্ভাবনাকে একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগও দিচ্ছে না।

No Surprises Act arbitration rule changes may not stop big payouts | STAT

বাড়ছে সালিশি ব্যবস্থার খরচও

শুধু চিকিৎসকদের বেশি অর্থ দেওয়াই সমস্যা নয়। প্রতিটি বিরোধের জন্য সালিশি প্রতিষ্ঠানও অর্থ পায়। বিরোধের সংখ্যা দ্রুত বাড়ায় সেই খরচও বেড়ে যাচ্ছে।

গবেষকদের হিসাবে, ২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসেই এসব সালিশি ফি বাবদ প্রায় ৮৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার খরচ হয়েছে। আইনটি কার্যকর হওয়ার প্রথম তিন বছরে মোট যত অর্থ খরচ হয়েছিল, মাত্র ছয় মাসের এই ব্যয় তার কাছাকাছি।

শেষ পর্যন্ত চাপ পড়তে পারে রোগীর ওপর

চিকিৎসকদের পারিশ্রমিক বাড়লে এবং বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর সালিশি ব্যয় বেড়ে গেলে সেই অর্থ শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের কাছ থেকেই আদায় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অর্থাৎ, রোগীরা হয়তো আর জরুরি চিকিৎসার পর হঠাৎ করে ১২ হাজার ডলারের বিল হাতে পাবেন না। কিন্তু বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো বাড়তি ব্যয় পুষিয়ে নিতে মাসিক বীমা প্রিমিয়াম বাড়িয়ে দিতে পারে।

এর প্রভাব ইতোমধ্যেই ২০২৭ সালের বীমা মূল্য নির্ধারণ নিয়ে আলোচনায় দেখা যাচ্ছে। কয়েকটি বীমা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার বাড়তি খরচ আগামী বছরের বীমা মূল্য বাড়ানোর অন্যতম কারণ হতে পারে। বাণিজ্যিক স্বাস্থ্যব্যয় আগামী বছর প্রায় ৯ শতাংশ বাড়তে পারে—এমন পূর্বাভাসেও এই বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থাকে সম্ভাব্য কারণগুলোর একটি হিসেবে ধরা হয়েছে।

আইনটি বাতিল নয়, প্রয়োজন সংস্কার

তার মানে এই নয় যে ‘নো সারপ্রাইজেস আইন’ খারাপ আইন। বরং এটি এমন একটি বাস্তব সমস্যা সমাধান করেছে, যার কারণে বহু মার্কিন নাগরিক জরুরি চিকিৎসার পর ভয়াবহ আর্থিক সংকটে পড়তেন।

সমস্যা হলো, আইনটির বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থায় এমন কিছু ফাঁক তৈরি হয়েছে, যা চিকিৎসাসেবাদাতাদের অস্বাভাবিক বেশি অর্থ পাওয়ার সুযোগ করে দিতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন, ব্যবস্থাটি বিভিন্ন পক্ষ নিজেদের সুবিধার জন্য ব্যবহার করছে। তাই আইনটির মূল সুরক্ষা বজায় রেখেই এর দুর্বলতা দূর করা জরুরি।

কারণ রোগীকে আকস্মিক চিকিৎসা বিল থেকে রক্ষা করার একটি ভালো উদ্যোগ যদি শেষ পর্যন্ত বীমার খরচ বাড়িয়ে দেয়, তাহলে তার বোঝাও আবার সেই রোগীর কাঁধেই ফিরে আসবে।