ইথিওপিয়ার সোমালি আঞ্চলিক রাজ্যের রাজধানী জিজিগায় মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট আদায়কে ঘিরে নগর প্রশাসন ও ব্যবসায়ী মহলের বিরোধ এখন কেবল একটি স্থানীয় কর-বিতর্ক নয়। বড় ব্যবসায়ী, পাইকার, আমদানিকারক ও উচ্চ লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রশাসনের টানাপোড়েনের কেন্দ্রে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—ডিজিটাল ব্যবস্থায় নথিভুক্ত বিক্রয় কি একইভাবে কর কর্তৃপক্ষের কাছে দৃশ্যমান ও যাচাইযোগ্য হবে?
এই প্রশ্নের উত্তর জিজিগার ভবিষ্যৎ করব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শহরটি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে কাগজপত্র, হাতে লেখা হিসাব ও বিচ্ছিন্ন পরিদর্শনের ওপর নির্ভর করে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা চালানো ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগও অমূলক নয়। কর প্রশাসনের প্রয়োজনে সংগৃহীত তথ্য যেন সীমাহীন বাণিজ্যিক নজরদারির হাতিয়ারে পরিণত না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
তাই প্রকৃত সমাধান ব্যবসা বনাম সরকারের মধ্যে কে জিতবে, সেই প্রশ্নে নয়। সমাধান হলো এমন একটি করব্যবস্থা তৈরি করা, যেখানে কর আদায় হবে স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর, আবার ব্যবসায়িক তথ্যের বৈধ গোপনীয়তাও সুরক্ষিত থাকবে।
ভ্যাটের প্রকৃতি বুঝতে হবে
জিজিগার বর্তমান বিতর্কে একটি মৌলিক বিষয় প্রায়ই আড়ালে চলে যাচ্ছে। ভ্যাট মূলত ভোক্তার ওপর আরোপিত একটি ভোগকর। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্রেতার কাছ থেকে ভ্যাট সংগ্রহ করে, কিন্তু সেই অর্থ ব্যবসার নিজস্ব আয় নয়। আইন অনুযায়ী তা সরকারের কাছে জমা দেওয়ার কথা।
ফলে কোনো ক্রেতা ভ্যাটসহ পণ্যের মূল্য পরিশোধ করার পর সেই লেনদেন যদি যথাযথভাবে নথিভুক্ত না হয়, তাহলে সমস্যাটি শুধু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের হিসাবের ঘাটতি নয়। এখানে ক্রেতার কাছ থেকে সংগৃহীত সরকারি রাজস্বের একটি অংশ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে পৌঁছানোর আগেই হিসাবের বাইরে চলে যাচ্ছে।
এই কারণেই বিক্রয় নথিভুক্ত করার প্রশ্নটি ভ্যাট ব্যবস্থার কেন্দ্রে থাকা উচিত। একটি ব্যবসা যদি ইতোমধ্যে পয়েন্ট-অব-সেল বা পিওএস ব্যবস্থায় বিক্রয়ের হিসাব রাখে, তাহলে সংশ্লিষ্ট করযোগ্য লেনদেনের ভ্যাটও সেই হিসাবের সঙ্গে যুক্ত থাকা যৌক্তিক।
তবে কর আদায়ের যুক্তি যতই শক্তিশালী হোক, ব্যবসায়ীদের তথ্য-গোপনীয়তার উদ্বেগকে অগ্রাহ্য করা যাবে না।
কর কর্তৃপক্ষের ক্ষমতারও সীমা থাকা দরকার

একটি আধুনিক করব্যবস্থা মানে সরকারের হাতে ব্যবসার প্রতিটি তথ্য তুলে দেওয়া নয়। ব্যবসায়ীদের সরবরাহকারী, ক্রেতা, মজুত, মূল্য নির্ধারণ, ব্যবসায়িক কৌশল এবং অন্যান্য তথ্যের মধ্যে এমন অনেক কিছু থাকে, যা সরাসরি কর নির্ধারণের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এবং যার গোপনীয়তা রক্ষা করা বৈধ।
ইথিওপিয়ার ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা কাঠামোও তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতার প্রয়োজনীয়তা প্রতিষ্ঠা করেছে। ফলে কর প্রশাসনকে স্পষ্ট করতে হবে—কোন তথ্য সংগ্রহ করা হবে, কেন তা প্রয়োজন, কারা তা দেখতে পারবে, কতদিন সংরক্ষণ করা হবে এবং অননুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এখানে একটি মৌলিক পার্থক্য বজায় রাখা জরুরি। করযোগ্য বিক্রয় গোপন করা আর বৈধ বাণিজ্যিক তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা এক বিষয় নয়। একটি কার্যকর ডিজিটাল করব্যবস্থা এই দুই বিষয়কে আলাদা করতে সক্ষম হতে হবে।
ডিজিটাল ব্যবস্থা কেন প্রয়োজন
আধুনিক ভ্যাট ব্যবস্থার কার্যকারিতা অনেকাংশে নির্ভর করে লেনদেনের নির্ভরযোগ্য নথি, বিক্রয় ও করের হিসাবের মধ্যে সামঞ্জস্য এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিরীক্ষার সক্ষমতার ওপর। ইথিওপিয়া ইতোমধ্যে ইলেকট্রনিক ইনভয়েস ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব ডিজিটালাইজেশনের দিকে এগিয়েছে। জাতীয় ভ্যাট কাঠামোতেও প্রযুক্তিনির্ভর কর-অনুবর্তিতার গুরুত্ব বাড়ছে।
এই পরিবর্তনের যুক্তি শুধু বেশি কর আদায় নয়। ডিজিটাল রেকর্ড থাকলে কর প্রশাসন সহজে বিক্রয়ের তথ্য যাচাই করতে পারে, ঘোষিত আয় ও প্রকৃত লেনদেনের মধ্যে অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করতে পারে এবং ঝুঁকিভিত্তিক নিরীক্ষা চালাতে পারে।
আন্তর্জাতিক কর গবেষণাতেও ইলেকট্রনিক ইনভয়েস ও ইলেকট্রনিক বিক্রয় রেকর্ডের মাধ্যমে লেনদেন অনুসরণ এবং বিক্রয় ও ভ্যাট রিপোর্টিং উন্নত করার সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। ফলে জিজিগার মতো দ্রুত সম্প্রসারিত বাণিজ্যিক শহরে শুধু ম্যানুয়াল হিসাব ও বিচ্ছিন্ন পরিদর্শনের ওপর নির্ভর করা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নাও হতে পারে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, ডিজিটাল ব্যবস্থা কর কর্মকর্তার ব্যক্তিগত বিবেচনার ওপর নির্ভরতা কমাতে পারে। যে ব্যবস্থায় লেনদেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেকর্ড হয়, পরিবর্তনের ইতিহাস সংরক্ষিত থাকে এবং কে কখন কী পরিবর্তন করেছে তার তথ্য পাওয়া যায়, সেখানে ইচ্ছামতো হিসাব বদলানোর সুযোগ তুলনামূলকভাবে কম।
এটি শুধু রাজস্বের বিষয় নয়। করব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়লে সৎ ব্যবসায়ীরাও উপকৃত হন। যারা নিয়ম মেনে কর দেন, তাদের সঙ্গে যারা বিক্রয় গোপন করে বা কর এড়িয়ে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা নেয়, তাদের পার্থক্য স্পষ্ট হয়।

কর সংস্কারকে দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থার অংশও হতে হবে
কর ব্যবস্থায় অতিরিক্ত ব্যক্তিনির্ভরতা একটি কাঠামোগত ঝুঁকি তৈরি করে। কর নির্ধারণ বা সমন্বয়ের ক্ষেত্রে যদি নিয়মের চেয়ে ব্যক্তিগত আলোচনা ও বিবেচনার ভূমিকা বেশি হয়, তাহলে বৈষম্য, পক্ষপাত বা দুর্নীতির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। এর অর্থ এই নয় যে কোনো নির্দিষ্ট কর্মকর্তা বা ব্যবসায়ী অনিয়ম করছেন। বরং ব্যবস্থাটিই এমন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ডিজিটাল রেকর্ডের সবচেয়ে বড় সুবিধাগুলোর একটি এখানেই। একটি লেনদেনের পরিবর্তন যদি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নথিভুক্ত হয় এবং প্রতিটি সংশোধনের সঙ্গে সময়, ব্যক্তি ও কারণ সংরক্ষিত থাকে, তাহলে প্রশাসনিক জবাবদিহি বাড়ে।
তবে প্রযুক্তি নিজে কোনো জাদুকাঠি নয়। দুর্বল নিয়ম, অপর্যাপ্ত নিরাপত্তা বা অস্পষ্ট দায়িত্বের মধ্যে ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করলেই স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে না। বরং প্রযুক্তির পাশাপাশি তথ্য সুরক্ষা, নিরীক্ষা, আপিল এবং সংশোধনের সুস্পষ্ট নিয়মও প্রয়োজন।
জিজিগার ক্ষেত্রে সমস্যাটি আরও বিস্তৃত
জিজিগার ভ্যাট সমস্যাকে শুধু শহরের দোকান ও পিওএস মেশিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখলে মূল সমস্যার একটি বড় অংশ বাদ পড়ে যাবে। শহরটি সীমান্তবর্তী বাণিজ্যিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। ফলে পণ্যের সরবরাহশৃঙ্খলের শুরুতেই যদি নিয়মভঙ্গ হয়, তার প্রভাব পরে পাইকারি ও খুচরা বাজারেও পড়তে পারে।
কোনো পণ্য যথাযথ কাস্টমস প্রক্রিয়া ছাড়া শহরে প্রবেশ করলে এবং পরে তার বিক্রয়ও অসম্পূর্ণভাবে নথিভুক্ত হলে রাজস্ব ক্ষতি একাধিক স্তরে ঘটতে পারে—আমদানির পর্যায়ে একবার এবং অভ্যন্তরীণ বিক্রয়ের পর্যায়ে আবার।
এর ফলে বৈধ ব্যবসা আরও বড় সমস্যায় পড়ে। যে আমদানিকারক নিয়ম মেনে পণ্য খালাস করেন, হিসাব রাখেন, চালান দেন এবং ভ্যাট পরিশোধ করেন, তিনি এমন ব্যবসায়ীর সঙ্গে সমান শর্তে প্রতিযোগিতা করতে পারেন না, যিনি সরবরাহশৃঙ্খলের গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো এড়িয়ে যান।
তাই জিজিগার জন্য কার্যকর ভ্যাট সংস্কারকে কাস্টমস, আমদানি নথি, পাইকারি স্থানান্তর, ইনভয়েস এবং চূড়ান্ত বিক্রয়ের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। অভ্যন্তরীণ কর তদারকি ও সীমান্ত বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণকে আলাদা করে দেখলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন।
সংঘাতের বদলে আলোচনার কাঠামো
বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ হতে পারে একটি স্থায়ী ব্যবসা-প্রশাসন ভ্যাট ফোরাম গঠন করা। এতে নগর প্রশাসন, আঞ্চলিক কর কর্তৃপক্ষ, বড় ও ছোট ব্যবসা, হিসাবরক্ষক, আইনজীবী এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করা যেতে পারে।
এই ফোরামের উদ্দেশ্য ভ্যাট দিতে হবে কি না, সেই প্রশ্নকে আবার আলোচনায় তোলা নয়। আইন অনুযায়ী কর পরিশোধের বাধ্যবাধকতা বহাল রেখেই কীভাবে তা বাস্তবসম্মত, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিগতভাবে কার্যকর করা যায়—আলোচনার কেন্দ্র হওয়া উচিত সেটি।
পরিবর্তনও ধাপে ধাপে করা দরকার। শুরুতেই সব ব্যবসার ওপর একই ধরনের প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়ার বদলে উচ্চ লেনদেনকারী এবং ইতোমধ্যে ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহারকারী ভ্যাট-নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে পিওএস-সংযুক্ত রিপোর্টিং পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করা যেতে পারে।
এতে প্রশাসন বাস্তব প্রযুক্তিগত সমস্যা শনাক্ত করার সুযোগ পাবে। ব্যবসায়ীরাও নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর সময় পাবেন। পরীক্ষামূলক পর্যায়ের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে পরে ছোট ব্যবসা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্য ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে।
ভুল ও প্রতারণাকে একই চোখে দেখা যাবে না
ডিজিটাল করব্যবস্থা চালুর সময় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অনিচ্ছাকৃত ভুল এবং ইচ্ছাকৃত কর ফাঁকির মধ্যে পার্থক্য করা। সফটওয়্যারের ত্রুটি, হিসাবরক্ষণে সীমাবদ্ধতা বা প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে কোনো ব্যবসার তথ্য ভুল হলে তাকে সংশোধনের সুযোগ দিতে হবে।
অন্যদিকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিক্রয় গোপন করা, হিসাব পরিবর্তন করা বা কর এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা হলে আইনি ব্যবস্থা প্রয়োজন। একটি ন্যায়সংগত ব্যবস্থা দুই ধরনের ঘটনাকে একইভাবে শাস্তি দিলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আস্থা তৈরি হবে না।
একইভাবে নিরীক্ষাও ঝুঁকিভিত্তিক ও তথ্যনির্ভর হওয়া উচিত। প্রত্যেক ব্যবসাকে একই মাত্রায় সন্দেহের চোখে দেখার বদলে ডেটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে অস্বাভাবিক লেনদেন বা উচ্চ ঝুঁকির ক্ষেত্র চিহ্নিত করা বেশি কার্যকর।
নাগরিকের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ
করব্যবস্থা শুধু কর কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীর বিষয় নয়। ভোক্তারাও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একজন ক্রেতা ভ্যাট প্রদান করলে তার বৈধ চালান বা রসিদ পাওয়ার অধিকার রয়েছে। সেই নথি শুধু সরকারের রাজস্ব হিসাবের জন্য নয়; পণ্য ফেরত, মূল্য নিয়ে বিরোধ, ওয়ারেন্টি কিংবা অন্যান্য ভোক্তা-অধিকার সংক্রান্ত সমস্যায় এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হতে পারে।
তাই নাগরিকদেরও প্রতিটি প্রাসঙ্গিক কেনাকাটায় বৈধ রসিদ চাওয়ার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। এতে লেনদেনের একটি আনুষ্ঠানিক রেকর্ড তৈরি হয় এবং ভ্যাট ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বাড়ে।
তবে নাগরিকের কাছ থেকে কর আদায়ের পাশাপাশি রাষ্ট্রকেও দেখাতে হবে সেই অর্থ কোথায় যাচ্ছে। রাস্তা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা, অগ্নিনিরাপত্তা ও বিচারব্যবস্থার মতো জনসেবার সঙ্গে করের সম্পর্ক দৃশ্যমান না হলে করদাতার আস্থা দুর্বল হতে পারে।
কর হলো সামাজিক চুক্তির অংশ
জিজিগার বর্তমান বিরোধকে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে পরিণত করা কোনো পক্ষের জন্যই লাভজনক হবে না। শহরের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য দক্ষ উদ্যোক্তা যেমন প্রয়োজন, তেমনি ব্যবসার জন্য কার্যকর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানও প্রয়োজন।
একটি শহর যদি বৈধভাবে পর্যাপ্ত রাজস্ব সংগ্রহ করতে না পারে, তাহলে দ্রুত নগরায়ণ, অবকাঠামোর চাপ, বেকারত্ব ও নিরাপত্তার মতো সমস্যার মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়ে। সেই অর্থে বৈধ কর পরিশোধ শুধু হিসাবরক্ষণের একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি একটি শহরের সঙ্গে তার ব্যবসায়ী ও নাগরিকদের সামাজিক চুক্তির অংশ।
কিন্তু সেই চুক্তি একতরফা হতে পারে না। রাষ্ট্রকে কর আদায়ের অধিকার প্রয়োগের পাশাপাশি সংগৃহীত অর্থের সুরক্ষা, ব্যবহারের স্বচ্ছতা এবং ব্যবসায়িক তথ্যের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে।
জিজিগার সামনে তাই একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ রয়েছে। বর্তমান ভ্যাট-বিরোধকে যদি শুধু প্রশাসনিক নির্দেশ বনাম ব্যবসায়ীদের আপত্তি হিসেবে দেখা হয়, তাহলে অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হতে পারে। কিন্তু এটিকে যদি করব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কারের সূচনা হিসেবে দেখা হয়, তাহলে একই সংঘাত একটি আধুনিক, অধিক স্বচ্ছ এবং তুলনামূলকভাবে কম দুর্নীতিপ্রবণ বাণিজ্যিক পরিবেশ তৈরির পথ খুলে দিতে পারে।
মূল নীতি শেষ পর্যন্ত স্পষ্ট: ভোক্তার কাছ থেকে বৈধভাবে সংগ্রহ করা ভ্যাট ব্যবসার নিজস্ব অর্থ নয়। সেটি সঠিকভাবে নথিভুক্ত ও রাষ্ট্রের কাছে জমা দিতে হবে। কিন্তু সেই দায়িত্ব বাস্তবায়নের পদ্ধতিও হতে হবে ন্যায়সংগত, স্বচ্ছ, নিরাপদ এবং জবাবদিহিমূলক।
জিজিগার আসল পরীক্ষা সেখানেই—কত বেশি কর আদায় হলো, শুধু তা নয়; বরং এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করা গেল কি না, যেখানে সরকার রাজস্ব পায়, ব্যবসা ন্যায্য পরিবেশে প্রতিযোগিতা করে, ভোক্তা তার অধিকার রক্ষা করতে পারে এবং কারও বৈধ বাণিজ্যিক গোপনীয়তা অকারণে ঝুঁকির মুখে পড়ে না।
লেখক: আদান হুসেইন (Adan Hussein), পিএইচডি, জিজিগা বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক, গবেষক, প্রশিক্ষক ও ফ্রিল্যান্স লেখক।
আদান হুসেইন 


















