কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জগতের অন্যতম পরিচিত গবেষক ফেই-ফেই লি জানিয়েছেন, নিজের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সময় তার মধ্যে ‘কঠোর মায়ের’ স্বভাবটি বেশ জোরালোভাবে প্রকাশ পায়।
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জননী’ হিসেবে পরিচিত ফেই-ফেই লি ২০২৪ সালে সহপ্রতিষ্ঠাতা হিসেবে ‘ওয়ার্ল্ড ল্যাবস’ গড়ে তোলেন। প্রতিষ্ঠানটি এমন উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি তৈরি করছে, যা ত্রিমাত্রিক পরিবেশকে বুঝতে এবং তার সঙ্গে পারস্পরিকভাবে কাজ করতে সক্ষম হবে।
সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ১০০ কোটি ডলারের নতুন অর্থায়ন পেয়েছে। এই অর্থায়নে প্রযুক্তি ও শিল্প খাতের একাধিক বড় প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।
তরুণ কর্মীদের নিয়ে মায়ের মতো দায়িত্ব
এক সাক্ষাৎকারে ফেই-ফেই লি বলেন, প্রতিষ্ঠানের অন্য সহপ্রতিষ্ঠাতা, প্রকৌশলী ও গবেষকদের তুলনায় তিনি বয়স ও অভিজ্ঞতায় অনেক বেশি সিনিয়র। তার সঙ্গে কাজ করা অধিকাংশ মানুষ অত্যন্ত মেধাবী হলেও তারা তুলনামূলকভাবে তরুণ।

এই পরিস্থিতিই তাকে অনেক সময় মায়ের মতো দায়িত্বশীল ভূমিকায় নিয়ে যায় বলে জানান তিনি। তবে শুধু মায়ের মতো নয়, অনেক ক্ষেত্রে নিজেকে ‘কঠোর মা’ বলেও মনে হয় তার।
ফেই-ফেই লির ভাষায়, তিনি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে উচ্চমানের প্রত্যাশা রাখেন এবং কাজের ক্ষেত্রে সেই মান বজায় রাখার বিষয়ে বেশ কঠোর।
তরুণদের শুধু চাকরি নয়, লক্ষ্য ভাবার পরামর্শ
তরুণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রকৌশল প্রতিভাদের সঙ্গে কথা বলার সময়ও তিনি অনেকটা পরামর্শদাতার ভূমিকা পালন করেন।
তার অভিজ্ঞতায়, অনেক তরুণ নিজেদের কর্মজীবনের ছোটখাটো সিদ্ধান্ত নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তিত থাকে। তাদের তিনি বরং নিজেদের প্রকৃত আগ্রহ, যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে চান তার লক্ষ্য ও মূল্যবোধ এবং সমাজে তারা কী ধরনের পরিবর্তন আনতে পারবেন—এসব বিষয়ে বেশি মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন।
ফেই-ফেই লি মনে করেন, ক্যারিয়ারের শুরুতে শুধু কোন পদে চাকরি পাওয়া যাবে বা কোন সিদ্ধান্তে তাৎক্ষণিক লাভ হবে, তা ভাবার চেয়ে দীর্ঘমেয়াদে নিজের কাজের অর্থ ও প্রভাব বোঝা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

নেতৃত্ব মানেই সবকিছু জানা নয়
তবে কঠোর নেতৃত্বের পাশাপাশি নিজের সীমাবদ্ধতার কথাও স্বীকার করেন ফেই-ফেই লি। তার মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা বা প্রধান নির্বাহী হওয়া মানেই অন্য সবার চেয়ে বেশি জ্ঞানী—এমন ধারণা বিপজ্জনক।
তিনি বলেন, উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত সমাজে অবদান রাখা এবং মানুষকে সক্ষম করে তোলা। নিজের সম্পর্কে অতিরিক্ত বড় ধারণা পোষণ করা কোনোভাবেই গঠনমূলক নয়।
তার এই বক্তব্যে নেতৃত্বের ক্ষেত্রে কঠোরতা ও বিনয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখার একটি দৃষ্টিভঙ্গিই ফুটে উঠেছে।
ফেই-ফেই লির নেতৃত্বে ‘ওয়ার্ল্ড ল্যাবস’ ত্রিমাত্রিক জগতকে বোঝার সক্ষমতা তৈরি করতে পারে এমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করছে। প্রযুক্তি খাতে এ ধরনের ‘বিশ্ব মডেল’ ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাস্তব জগতের সঙ্গে যোগাযোগের ধরন বদলে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















