চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে আলোচনা এত দিন মূলত বড় ভাষাভিত্তিক মডেলকে ঘিরেই ছিল। তবে প্রযুক্তি খাতে দেশটির অগ্রগতির আরও স্পষ্ট প্রমাণ এখন পাওয়া যাচ্ছে ভিডিও তৈরির ক্ষেত্রে। এই অগ্রগতি শুধু হলিউডের জন্য চ্যালেঞ্জ নয়, বরং বিশ্বজুড়ে ভিডিও নির্মাণ ও বিনোদনশিল্পের ভবিষ্যৎও বদলে দিতে পারে।
ভিডিও তৈরিতে চীনের দাপট
বর্তমানে গুগল ছাড়া শীর্ষস্থানীয় ভিডিও তৈরির প্রায় সব ব্যবস্থাই চীনের। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ভিডিও তৈরির বিভিন্ন মান যাচাইয়ের তালিকায় শীর্ষ ১০টির মধ্যে নয়টিই চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের তৈরি।
চীনের প্রযুক্তি খাতে একের পর এক নতুন ভিডিও তৈরির ব্যবস্থা আত্মপ্রকাশ করছে। বাইটড্যান্স ও মিনিম্যাক্স গ্রুপ সম্প্রতি প্রতিদ্বন্দ্বী ভিডিও তৈরির প্রযুক্তিতে পরপর নতুন সংস্করণ এনেছে। এর আগে ‘হ্যাপি হর্স’ নামের একটি গোপনীয় ভিডিও প্রযুক্তির আকস্মিক উত্থান প্রযুক্তি দুনিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। পরে জানা যায়, এর পেছনে ছিল আলিবাবা গোষ্ঠী।
একের পর এক নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী
চীনের ভিডিও প্রযুক্তির এই প্রতিযোগিতায় কুয়াইশোর প্রযুক্তির তৈরি ক্লিং, বেইজিংভিত্তিক শেংশু প্রযুক্তির ভিডু এবং আরও বেশ কয়েকটি নতুন প্রতিষ্ঠানের তৈরি ব্যবস্থা যুক্ত হয়েছে।
ফলে ভিডিও তৈরির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে চীনে এখন বড় ধরনের প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, যেমন ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিক, এই ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব দিচ্ছে।
হলিউডের বাইরেও প্রভাব
চীনের এই দ্রুত অগ্রগতি চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রচলিত কাঠামোকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। কম খরচে এবং দ্রুত বাস্তবসম্মত ভিডিও তৈরি করার সক্ষমতা বাড়তে থাকলে বিজ্ঞাপন, বিনোদন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, শিক্ষা ও প্রচারমূলক কনটেন্ট তৈরির ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
অর্থাৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ভিডিও প্রযুক্তিতে চীনের প্রতিযোগিতা কেবল হলিউডকে নাড়া দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি বিশ্বজুড়ে দৃশ্যভিত্তিক কনটেন্ট তৈরির অর্থনীতি ও সৃজনশীলতার ধরনও পাল্টে দিতে পারে।
চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ভিডিও প্রযুক্তির উত্থান এখন তাই দেশটির প্রযুক্তিগত সক্ষমতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হয়ে উঠছে।
চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভিডিও প্রযুক্তি দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে এবং শীর্ষস্থানীয় ভিডিও তৈরির ব্যবস্থার বড় অংশই এখন চীনা প্রতিষ্ঠানের দখলে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















