যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় ১৮ বছর বয়সী এক কিশোর তার প্রেমিকাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর মরদেহ সরিয়ে ফেলা ও অপরাধের আলামত নষ্ট করতে নিজের মায়ের সাহায্য নিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কারোলিন হেইনৎস নামে নিহত তরুণী ছিলেন পেনওয়েস্ট ক্যালিফোর্নিয়ার প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী ফুটবল দলের খেলোয়াড়। বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ২৪ মিনিটের দিকে ক্যালিফোর্নিয়া পাবলিক লাইব্রেরির কাছে একটি জিপ গাড়ির পেছনের অংশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছাননি, খোঁজ শুরু পরিবারের
পুলিশ জানিয়েছে, হেইনৎস বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছাননি—এমন খবর পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার খোঁজ শুরু করে।
তদন্তে জানা যায়, এর কয়েক ঘণ্টা আগে নর্থ স্ট্র্যাবেন এলাকায় প্রেমিক রয়েস মোসারের বাবার বাড়ির বাইরে দুজনের দেখা হয়েছিল। সেখানে কথা বলার সময় কোনো এক পর্যায়ে মোসার ক্ষুব্ধ হয়ে বাড়ির ভেতরে চলে যায়।

পুলিশের অভিযোগ, সে সেখান থেকে রান্নাঘরের একটি বড় ছুরি নিয়ে এসে হেইনৎসের বুকে আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে ধারণা তদন্তকারীদের।
ওয়াশিংটন কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি জেসন ওয়ালশ বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি দুজনের ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সম্পর্কজনিত বিরোধ থেকে ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
মরদেহ গাড়িতে, এরপর মায়ের বাড়িতে
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যার পর মোসার হেইনৎসের মরদেহ জিপ গাড়ির পেছনের অংশে রেখে মায়ের বাড়ির দিকে রওনা হয়।
বেলসভিল এলাকায় মায়ের বাড়িতে পৌঁছানোর পর র্যাচেল মোসার গাড়িটি পরিষ্কার করতে জীবাণুনাশক ও অন্যান্য পরিষ্কারক সামগ্রী ব্যবহার করেন। তিনি ছেলেকে হাতমোজা দেন এবং তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে গাড়ি নিয়ে যেতে বলেন।
এরপর মা ও ছেলে জিপ গাড়িটি ক্যালিফোর্নিয়া পাবলিক লাইব্রেরির কাছে রেখে আসে। গাড়ির ভেতর তখনও হেইনৎসের মরদেহ ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পরে র্যাচেল ছেলেকে আবার নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে মোসার তার পোশাক পরিষ্কার করে এবং গোসল করে বলে তদন্তকারীদের দাবি।
মা-ছেলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ

হত্যার ঘটনায় রয়েস মোসারের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড, আলামত নষ্ট করা, মরদেহের প্রতি অবমাননা, আলামত নষ্ট করার ষড়যন্ত্র, মরদেহের প্রতি অবমাননার ষড়যন্ত্র এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তার মা র্যাচেল মোসারের বিরুদ্ধে পলাতক ব্যক্তিকে আইনের হাত থেকে বাঁচাতে সহায়তা, আলামত নষ্ট করা, মরদেহের প্রতি অবমাননা, আলামত নষ্ট করার ষড়যন্ত্র, মরদেহের প্রতি অবমাননার ষড়যন্ত্র এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
শুক্রবার সকাল পর্যন্ত মা ও ছেলে কোনো আইনজীবী নিয়েছেন কি না, কিংবা আদালত তাদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করেছে কি না, তা স্পষ্ট হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ে শোকের ছায়া
হেইনৎসের মৃত্যুর ঘটনায় পেনওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় গভীর শোক প্রকাশ করেছে। এক বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, প্রথম বর্ষের এই শিক্ষার্থী ও ফুটবল খেলোয়াড়ের আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায় মর্মাহত।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হেইনৎসের পরিবার, বন্ধু, সতীর্থ এবং তার জীবনের সঙ্গে যুক্ত সবার প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। একই সঙ্গে শোকাহত শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায়ের সদস্যদের পাশে থাকার কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















