যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির ম্যানচেস্টারে প্রতিবছর আয়োজিত জনপ্রিয় সংগীত ও শিল্প উৎসব বনরু ২০২৭ সালে অনুষ্ঠিত হবে না। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, উৎসবটি আগামী বছর একটি ‘অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বিরতি’ নিচ্ছে। ২০০২ সাল থেকে প্রায় প্রতিবছর জুন মাসে অনুষ্ঠিত হয়ে আসা এই উৎসবের ভক্তদের জন্য খবরটি নিঃসন্দেহে হতাশার।
কেন বিরতি নিচ্ছে বনরু
আয়োজকদের ভাষ্য, টানা কয়েক বছর প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উৎসবের মূল আয়োজনস্থল ও অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক চাপ পড়েছে। তাই ২০২৭ সালে উৎসব আয়োজন না করে পুরো আয়োজনস্থলকে বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারের সুযোগ দেওয়া হবে।
আয়োজকেরা জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের উৎসবের আগে মাঠ ও মূল আয়োজনকেন্দ্রের উন্নয়নে বিপুল অর্থ ও শ্রম ব্যয় করা হয়েছিল। পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা উন্নত করার পাশাপাশি প্রায় ৪ দশমিক ৫ মাইল নতুন সড়ক এবং ১৩৫ একর নতুন ঘাসের জমি তৈরি করা হয়। এসব ব্যবস্থার ফলে ভারী বৃষ্টির প্রভাব মোকাবিলায় আয়োজনস্থলের সক্ষমতা বাড়লেও টানা ঝড়-বৃষ্টির কারণে আরও সময় প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

বারবার বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আবহাওয়া
বনরুর ইতিহাসে প্রতিকূল আবহাওয়া নতুন কিছু নয়। ২০২০ সালে মহামারির কারণে উৎসব বাতিল করা হয়েছিল। ২০২১ সালে মহামারির উদ্বেগের কারণে আয়োজনটি জুন থেকে সেপ্টেম্বরে সরিয়ে নেওয়া হলেও পরে ঘূর্ণিঝড় ইডার প্রভাবে প্রবল বৃষ্টিতে পুরো মাঠ কর্দমাক্ত হয়ে যাওয়ায় সেটিও বাতিল করতে হয়।
২০২৫ সালেও উৎসব নির্ধারিত সময়েই শুরু হয়েছিল। কিন্তু টানা ভারী বৃষ্টির কারণে শেষ পর্যন্ত বাকি আয়োজন বাতিল করা হয়। এতে হাজার হাজার দর্শক নির্ধারিত সময়ের আগেই উৎসবস্থল ছেড়ে যেতে বাধ্য হন।
২০২৬ সালেও পুরোপুরি স্বস্তি মেলেনি
২০২৬ সালের জুনে বনরু আবারও সফলভাবে ফিরে আসে। নোয়া কাহান, টেডেস্কি ট্রাকস ব্যান্ড, মাউন্টেন গ্রাস ইউনিট, প্যাশন পিট, মডেস্ট মাউস ও টার্নস্টাইলসহ বহু শিল্পী এতে অংশ নেন।
তবে শেষ দিনেও ঝড়ের কারণে পুরো আয়োজনস্থল খালি করতে হয়েছিল এবং কয়েকজন শিল্পীর পরিবেশনা বাতিল করা হয়। ফলে বিপুল অবকাঠামোগত উন্নয়ন সত্ত্বেও আবহাওয়ার ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি।

২০২৭ সালের আয়োজন নিয়ে আগেই ছিল জল্পনা
সাধারণত বনরুর পরবর্তী বছরের আয়োজনের তারিখ বেশ আগেই ঘোষণা করা হয়। ২০২৬ সালের আয়োজনের তারিখও আগের বছরের জুলাইয়ে জানানো হয়েছিল। কিন্তু ২০২৭ সালের তারিখ আগস্ট পর্যন্ত ঘোষণা না হওয়ায় ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।
এরই মধ্যে উৎসবটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি পডকাস্টের উপস্থাপক আয়োজকদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, কেন ২০২৭ সালের তারিখ ঘোষণা করা হচ্ছে না। তখন তাকে জানানো হয়েছিল, আয়োজকেরা অন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কাজ করছেন।
গত বছরের বৃষ্টিজনিত বিপর্যয়ের পর আয়োজকেরা দর্শকদের মতামতও নিয়েছিলেন। উৎসবটি কয়েক সপ্তাহ পিছিয়ে গ্রীষ্মের শেষ দিকে আয়োজন করা হলে দর্শকেরা অংশ নেবেন কি না, কিংবা সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে অক্টোবরের শুরুতে আয়োজন করা হলে আগ্রহ থাকবে কি না—এমন প্রশ্নও করা হয়েছিল।
আয়োজকদের আশা, এক বছরের এই বিরতির পর বনরু আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরবে। তবে ২০২৭ সালের পর উৎসবটি ঠিক কোন সময়ে এবং কীভাবে ফিরবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















