০৬:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
বৌদ্ধ ধর্মীয় সাধনাকেন্দ্রে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিমান হামলা, নিহত ১৪ উপসাগরীয় যুদ্ধে সমুদ্রশক্তি: নৌবাহিনী ছাড়া যে বিজয় সম্ভব ছিল না সংস্কৃতি যখন অর্থনৈতিক অবকাঠামো প্রবালপ্রাচীর রক্ষায় বিজ্ঞান ও শিল্পকে একসঙ্গে এগোতে হবে অল্প বয়সের খ্যাতি কেন শিশু তারকাদের ঠেলে দেয় আসক্তির ঝুঁকিতে মোদির শক্তিমান ভাবমূর্তির পর এবার ‘জেন জি’ ঘরানায় কেন? বাত্তামবাংয়ের সাঙ্গকে নদীর তীরে এক ফনমের প্রাচীন মন্দিরের মুগ্ধতা ইয়েমেনের কাছে তেলবাহী ট্যাংকার ছিনতাই, ফের সক্রিয় সোমালি জলদস্যুরা ছয় বছর পর যুক্তরাজ্যে ফিরছেন হ্যারি-মেগান, নেপথ্যে মেগানের নতুন অভিনয়ের চাকরি ফিলিস্তিনে এক সপ্তাহ: সৌন্দর্য, আতিথেয়তা আর দখলদারত্বের বাস্তবতা

বাংলাদেশে শিল্পখাতে বড় ধাক্কা, দুই বছরে বন্ধ ৪৫৭ কারখানা; কর্মসংস্থানে বাড়ছে শঙ্কা

বাংলাদেশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে একের পর এক কারখানা বন্ধ, উৎপাদন কমানো এবং শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনা বাড়ছে। গ্যাস-বিদ্যুতের দীর্ঘ সংকট, কমে যাওয়া ক্রয়াদেশ, আর্থিক দুরবস্থা, ব্যাংকঋণের চাপ এবং শ্রম অসন্তোষের কারণে শিল্প খাতে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়া কারখানার পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ বা সীমিত করছে। ফলে কর্মসংস্থান সংকটও ক্রমেই গভীর হচ্ছে।

কারখানা বন্ধের হিসাব কেন এক নয়

শিল্প পুলিশ, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বিজিএমইএর সদস্য অন্তত ৮০টি কারখানায় প্রায় ১৯ হাজার ১৮৮ শ্রমিক চাকরিচ্যুত বা ছাঁটাই হয়েছেন। একই সময়ে শিল্প পুলিশ, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর তথ্যের ভিত্তিতে ২৭টি কারখানা বন্ধের তথ্য পাওয়া গেছে।

তবে এই সংখ্যা দিয়ে পুরো শিল্প খাতের চিত্র পাওয়া যায় না। কারণ স্থায়ী বন্ধ, অনির্দিষ্টকালের বন্ধ, সাময়িক উৎপাদন স্থগিত এবং শ্রমিক ছাঁটাইয়ের হিসাব সব ক্ষেত্রে একইভাবে সংরক্ষণ করা হয় না। ফলে বিভিন্ন সময়ের ও ভিন্ন পরিধির পরিসংখ্যানকে সরাসরি যোগ করা সঠিক নয়।

তিন শিল্পাঞ্চলে সাত মাসে বন্ধ ৯৫ কারখানা

শিল্প পুলিশভিত্তিক হিসাবে, গত সাত মাসে গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া-ধামরাই এবং নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী অঞ্চলে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে ৯৫টি কারখানা। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন প্রায় ৬১ হাজার ৮৮১ শ্রমিক-কর্মচারী।

এর মধ্যে গাজীপুরে বন্ধ হয়েছে ৫৪টি, নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদীতে ২৩টি এবং সাভার-আশুলিয়া-ধামরাই এলাকায় ১৮টি তৈরি পোশাক কারখানা। শুধু গাজীপুরেই বন্ধ হওয়া কারখানাগুলোতে প্রায় ৪৫ হাজার ৭৩২ শ্রমিক-কর্মচারী কর্মহীন হয়েছেন।

প্রকাশ্য তথ্যে গাজীপুরে বন্ধ হওয়া কারখানার মধ্যে টিএমএস অ্যাপারেলস, নায়াগ্রা টেক্সটাইল, মাহমুদ জিন্স, হার্ডি টু এক্সেল, পলিকন লিমিটেড, অ্যাপারেল প্লাস, টিআরজেড ও দ্য ডেল্টা নিটের নাম রয়েছে। সাভার-আশুলিয়া-ধামরাই এলাকায় জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশন, বেস্ট ওয়ান সোয়েটার, এমএস সোয়েটার, সাভার স্পোর্টসওয়্যারসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে।

দুই বছরে স্থায়ীভাবে বন্ধ ৪৫৭ শিল্প ইউনিট

আরও দীর্ঘ সময়ের হিসাবে, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশের সাতটি প্রধান শিল্পাঞ্চলে ৪৫৭টি শিল্প ইউনিট স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিজিএমইএর ১০৮টি, বিকেএমইএর ৩৫টি, বিটিএমএর ৮টি এবং বেপজার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১৯টি শিল্প ইউনিট। বাকি ২৮৭টি ছিল পোশাকবহির্ভূত শিল্প।

এই বন্ধের পেছনে কমে যাওয়া ক্রয়াদেশ, মালিকদের আর্থিক সংকট, শ্রম অস্থিরতা ও জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি ব্যাংকঋণের জটিলতা, কাঁচামালের সংকট, কারখানা স্থানান্তর, বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়া এবং ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মতো কারণও উঠে এসেছে।

গ্যাস সংকটে উৎপাদন ব্যাহত

স্থায়ীভাবে বন্ধের বাইরে এখন নতুন করে চাপ তৈরি করেছে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট। আগস্টের শুরুতে গাজীপুরে গ্যাসের দীর্ঘ সংকটে প্রায় ১৭ থেকে ২০ শতাংশ শিল্পকারখানা তিন থেকে চার দিনের জন্য উৎপাদন বন্ধ বা ছুটিতে যায়। বিভিন্ন হিসাবে ক্ষতিগ্রস্ত কারখানার সংখ্যা ৭০০ থেকে ৮০০ পর্যন্ত।

ময়মনসিংহের ভালুকা শিল্পাঞ্চলেও ২০ আগস্ট তীব্র গ্যাস সংকটে ২০টি কারখানার শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়। শিল্প পুলিশের হিসাবে, ময়মনসিংহ শিল্পাঞ্চলের ২৯৩টি কারখানার মধ্যে ৯৯টি গ্যাসচালিত। এসব কারখানার প্রায় সবই বর্তমানে সংকটে রয়েছে। প্রধান কারখানাগুলোতে উৎপাদন গড়ে ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে বলে শিল্প পুলিশ জানিয়েছে।

সাময়িক ছুটি থেকে স্থায়ী বন্ধের ঝুঁকি

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের মতে, স্থায়ী বন্ধ, সাময়িক ছুটি ও উৎপাদন কমিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে আলাদা করে দেখা জরুরি। দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে উৎপাদন কমলেও শ্রমিকের বেতন, ব্যাংকঋণের কিস্তি ও অন্যান্য স্থায়ী ব্যয় বহন করতে হচ্ছে কারখানাগুলোকে। বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করলে উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়ছে।

বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেলের মতে, দীর্ঘদিন উৎপাদন ব্যাহত হলে সাময়িক বন্ধও একসময় আর্থিক সংকটে পরিণত হতে পারে। এতে শ্রমিক ছাঁটাই এবং স্থায়ীভাবে কারখানা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

চার ধরনের সংকট

বর্তমান পরিস্থিতিতে শিল্পখাতের সংকটকে চারভাবে দেখা যায়—স্থায়ীভাবে বন্ধ কারখানা, অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ প্রতিষ্ঠান, সাময়িক উৎপাদন বন্ধ বা ছুটি এবং চালু থাকা অবস্থায় শ্রমিক ছাঁটাই। ফলে শুধু বন্ধ কারখানার সংখ্যা দিয়ে কর্মসংস্থান সংকটের পূর্ণ চিত্র পাওয়া যায় না।

কারখানা বন্ধের প্রভাবও শুধু শ্রমিকের চাকরিতে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে শ্রমিকের পরিবার, বাড়িভাড়া, সন্তানের পড়াশোনা, ঋণ, স্থানীয় দোকানপাট, পরিবহন ও আশপাশের ক্ষুদ্র অর্থনীতি। বকেয়া বেতন ও আইনগত পাওনা নিয়ে দীর্ঘ অনিশ্চয়তা তৈরি হলে সংকট আরও তীব্র হয়।

বাংলাদেশের শিল্পখাতে তাই এখন শুধু নতুন বিনিয়োগ নয়, বিদ্যমান কারখানা ও কর্মসংস্থান ধরে রাখাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশের শিল্পখাতে বন্ধের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। দুই বছরে ৪৫৭ শিল্প ইউনিট স্থায়ীভাবে বন্ধের পাশাপাশি গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বহু কারখানায়। এতে কর্মসংস্থান নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা।

কারখানা বন্ধ, কর্মসংস্থান সংকট

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, কমে যাওয়া ক্রয়াদেশ ও আর্থিক চাপে বাংলাদেশে শিল্পকারখানা বন্ধ ও শ্রমিক ছাঁটাই বাড়ছে। দুই বছরে স্থায়ীভাবে বন্ধ ৪৫৭ শিল্প ইউনিট।

জনপ্রিয় সংবাদ

বৌদ্ধ ধর্মীয় সাধনাকেন্দ্রে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিমান হামলা, নিহত ১৪

বাংলাদেশে শিল্পখাতে বড় ধাক্কা, দুই বছরে বন্ধ ৪৫৭ কারখানা; কর্মসংস্থানে বাড়ছে শঙ্কা

০৪:৩৭:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে একের পর এক কারখানা বন্ধ, উৎপাদন কমানো এবং শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনা বাড়ছে। গ্যাস-বিদ্যুতের দীর্ঘ সংকট, কমে যাওয়া ক্রয়াদেশ, আর্থিক দুরবস্থা, ব্যাংকঋণের চাপ এবং শ্রম অসন্তোষের কারণে শিল্প খাতে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, স্থায়ীভাবে বন্ধ হওয়া কারখানার পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ বা সীমিত করছে। ফলে কর্মসংস্থান সংকটও ক্রমেই গভীর হচ্ছে।

কারখানা বন্ধের হিসাব কেন এক নয়

শিল্প পুলিশ, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বিজিএমইএর সদস্য অন্তত ৮০টি কারখানায় প্রায় ১৯ হাজার ১৮৮ শ্রমিক চাকরিচ্যুত বা ছাঁটাই হয়েছেন। একই সময়ে শিল্প পুলিশ, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর তথ্যের ভিত্তিতে ২৭টি কারখানা বন্ধের তথ্য পাওয়া গেছে।

তবে এই সংখ্যা দিয়ে পুরো শিল্প খাতের চিত্র পাওয়া যায় না। কারণ স্থায়ী বন্ধ, অনির্দিষ্টকালের বন্ধ, সাময়িক উৎপাদন স্থগিত এবং শ্রমিক ছাঁটাইয়ের হিসাব সব ক্ষেত্রে একইভাবে সংরক্ষণ করা হয় না। ফলে বিভিন্ন সময়ের ও ভিন্ন পরিধির পরিসংখ্যানকে সরাসরি যোগ করা সঠিক নয়।

তিন শিল্পাঞ্চলে সাত মাসে বন্ধ ৯৫ কারখানা

শিল্প পুলিশভিত্তিক হিসাবে, গত সাত মাসে গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া-ধামরাই এবং নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী অঞ্চলে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে ৯৫টি কারখানা। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন প্রায় ৬১ হাজার ৮৮১ শ্রমিক-কর্মচারী।

এর মধ্যে গাজীপুরে বন্ধ হয়েছে ৫৪টি, নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদীতে ২৩টি এবং সাভার-আশুলিয়া-ধামরাই এলাকায় ১৮টি তৈরি পোশাক কারখানা। শুধু গাজীপুরেই বন্ধ হওয়া কারখানাগুলোতে প্রায় ৪৫ হাজার ৭৩২ শ্রমিক-কর্মচারী কর্মহীন হয়েছেন।

প্রকাশ্য তথ্যে গাজীপুরে বন্ধ হওয়া কারখানার মধ্যে টিএমএস অ্যাপারেলস, নায়াগ্রা টেক্সটাইল, মাহমুদ জিন্স, হার্ডি টু এক্সেল, পলিকন লিমিটেড, অ্যাপারেল প্লাস, টিআরজেড ও দ্য ডেল্টা নিটের নাম রয়েছে। সাভার-আশুলিয়া-ধামরাই এলাকায় জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশন, বেস্ট ওয়ান সোয়েটার, এমএস সোয়েটার, সাভার স্পোর্টসওয়্যারসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে।

দুই বছরে স্থায়ীভাবে বন্ধ ৪৫৭ শিল্প ইউনিট

আরও দীর্ঘ সময়ের হিসাবে, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশের সাতটি প্রধান শিল্পাঞ্চলে ৪৫৭টি শিল্প ইউনিট স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিজিএমইএর ১০৮টি, বিকেএমইএর ৩৫টি, বিটিএমএর ৮টি এবং বেপজার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১৯টি শিল্প ইউনিট। বাকি ২৮৭টি ছিল পোশাকবহির্ভূত শিল্প।

এই বন্ধের পেছনে কমে যাওয়া ক্রয়াদেশ, মালিকদের আর্থিক সংকট, শ্রম অস্থিরতা ও জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি ব্যাংকঋণের জটিলতা, কাঁচামালের সংকট, কারখানা স্থানান্তর, বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়া এবং ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মতো কারণও উঠে এসেছে।

গ্যাস সংকটে উৎপাদন ব্যাহত

স্থায়ীভাবে বন্ধের বাইরে এখন নতুন করে চাপ তৈরি করেছে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট। আগস্টের শুরুতে গাজীপুরে গ্যাসের দীর্ঘ সংকটে প্রায় ১৭ থেকে ২০ শতাংশ শিল্পকারখানা তিন থেকে চার দিনের জন্য উৎপাদন বন্ধ বা ছুটিতে যায়। বিভিন্ন হিসাবে ক্ষতিগ্রস্ত কারখানার সংখ্যা ৭০০ থেকে ৮০০ পর্যন্ত।

ময়মনসিংহের ভালুকা শিল্পাঞ্চলেও ২০ আগস্ট তীব্র গ্যাস সংকটে ২০টি কারখানার শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়। শিল্প পুলিশের হিসাবে, ময়মনসিংহ শিল্পাঞ্চলের ২৯৩টি কারখানার মধ্যে ৯৯টি গ্যাসচালিত। এসব কারখানার প্রায় সবই বর্তমানে সংকটে রয়েছে। প্রধান কারখানাগুলোতে উৎপাদন গড়ে ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে বলে শিল্প পুলিশ জানিয়েছে।

সাময়িক ছুটি থেকে স্থায়ী বন্ধের ঝুঁকি

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের মতে, স্থায়ী বন্ধ, সাময়িক ছুটি ও উৎপাদন কমিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে আলাদা করে দেখা জরুরি। দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে উৎপাদন কমলেও শ্রমিকের বেতন, ব্যাংকঋণের কিস্তি ও অন্যান্য স্থায়ী ব্যয় বহন করতে হচ্ছে কারখানাগুলোকে। বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করলে উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়ছে।

বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেলের মতে, দীর্ঘদিন উৎপাদন ব্যাহত হলে সাময়িক বন্ধও একসময় আর্থিক সংকটে পরিণত হতে পারে। এতে শ্রমিক ছাঁটাই এবং স্থায়ীভাবে কারখানা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

চার ধরনের সংকট

বর্তমান পরিস্থিতিতে শিল্পখাতের সংকটকে চারভাবে দেখা যায়—স্থায়ীভাবে বন্ধ কারখানা, অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ প্রতিষ্ঠান, সাময়িক উৎপাদন বন্ধ বা ছুটি এবং চালু থাকা অবস্থায় শ্রমিক ছাঁটাই। ফলে শুধু বন্ধ কারখানার সংখ্যা দিয়ে কর্মসংস্থান সংকটের পূর্ণ চিত্র পাওয়া যায় না।

কারখানা বন্ধের প্রভাবও শুধু শ্রমিকের চাকরিতে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে শ্রমিকের পরিবার, বাড়িভাড়া, সন্তানের পড়াশোনা, ঋণ, স্থানীয় দোকানপাট, পরিবহন ও আশপাশের ক্ষুদ্র অর্থনীতি। বকেয়া বেতন ও আইনগত পাওনা নিয়ে দীর্ঘ অনিশ্চয়তা তৈরি হলে সংকট আরও তীব্র হয়।

বাংলাদেশের শিল্পখাতে তাই এখন শুধু নতুন বিনিয়োগ নয়, বিদ্যমান কারখানা ও কর্মসংস্থান ধরে রাখাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশের শিল্পখাতে বন্ধের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। দুই বছরে ৪৫৭ শিল্প ইউনিট স্থায়ীভাবে বন্ধের পাশাপাশি গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বহু কারখানায়। এতে কর্মসংস্থান নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা।

কারখানা বন্ধ, কর্মসংস্থান সংকট

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, কমে যাওয়া ক্রয়াদেশ ও আর্থিক চাপে বাংলাদেশে শিল্পকারখানা বন্ধ ও শ্রমিক ছাঁটাই বাড়ছে। দুই বছরে স্থায়ীভাবে বন্ধ ৪৫৭ শিল্প ইউনিট।