শিশুদের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগের নিষ্পত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের সঙ্গে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের সমঝোতায় পৌঁছেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম টিকটক। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, টিকটক তাৎক্ষণিকভাবে ৩০০ মিলিয়ন ডলার দেবে। বাকি ১০০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করা হবে আদালতের আদেশে এর পূর্বসূরি প্রতিষ্ঠান মিউজিক্যালি-র বিরুদ্ধে থাকা আগের একটি সম্মতিপত্র বাতিল হওয়ার পর।
২০১৯ সালের সমঝোতা থেকে সূত্রপাত
ঘটনাটির সূত্রপাত ২০১৯ সালের এক সমঝোতা থেকে। সে সময় মার্কিন ফেডারেল ট্রেড কমিশন জানিয়েছিল, টিকটক—তখন মিউজিক্যালি নামে পরিচিত—জানত যে অল্পবয়সী শিশুরা প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করছে। এরপরও শিশুদের বাবা-মায়ের অনুমতি ছাড়াই তাদের নাম, ই-মেইল ঠিকানা ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৫ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার জরিমানাও করা হয়েছিল।
শিশুদের তথ্য সংগ্রহে অভিভাবকের সম্মতি না নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তা সুরক্ষা আইন বা কপ্পা লঙ্ঘনের শামিল। ২০০০ সালে কার্যকর হওয়া এই ফেডারেল আইন শিশুদের অনলাইন তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষ সুরক্ষা নিশ্চিত করে।
২০২৪ সালে ফের আইনি পদক্ষেপ
টিকটক ও এর মূল প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে মার্কিন বিচার বিভাগ মামলা করে। অভিযোগ ছিল, প্রতিষ্ঠান দুটি শিশুদের গোপনীয়তা সুরক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি এবং বেআইনিভাবে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করেছে।
তবে এবারের সমঝোতায় আর্থিক জরিমানার বাইরে টিকটকের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা স্পষ্ট করেনি বিচার বিভাগ। সংস্থাটি অবশ্য উল্লেখ করেছে, ২০২৪ সালে মামলা হওয়ার পর টিকটকের কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।
অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারী শনাক্তে ব্যবস্থা
টিকটক জানিয়েছে, ১৩ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীরা বয়স সম্পর্কে ভুল তথ্য দিলে তাদের শনাক্ত করতে প্রতিষ্ঠানটি উন্নত বয়স যাচাই ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরি করেছে। এ কাজে শত শত কর্মীকে অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারী শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে ইতোমধ্যে কয়েক হাজার অপ্রাপ্তবয়স্ক অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলা হয়েছে।
শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে আইনি চাপ
টিকটকের বিরুদ্ধে এই সমঝোতা এমন এক সময়ে হলো, যখন শিশুদের নিরাপত্তা ও অনলাইন গোপনীয়তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আইনি চাপ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য একই শিশু গোপনীয়তা আইনের আওতায় মেটার বিরুদ্ধেও মামলা করেছে।
এ ছাড়া ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়ার অকল্যান্ডের একটি ফেডারেল আদালতে মামলার মুখোমুখি। কপ্পা এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
শিশুদের তথ্য সুরক্ষা নিয়ে অতীতেও বড় অঙ্কের জরিমানার নজির রয়েছে। ২০১৯ সালে ইউটিউবকে ১৭০ মিলিয়ন ডলার এবং ২০২২ সালে এপিক গেমসকে ২৭৫ মিলিয়ন ডলার দিতে হয়েছিল।
টিকটকের সঙ্গে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের এই সমঝোতা শিশুদের অনলাইন গোপনীয়তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান আইনি পদক্ষেপগুলোর মধ্যে অন্যতম বড় ঘটনা হিসেবে সামনে এসেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















