তাইওয়ান শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে উন্নত সংস্করণের দুটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান পেতে যাচ্ছে। সামরিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, নতুন এই যুদ্ধবিমানগুলো চীনের পঞ্চম প্রজন্মের জে-২০ স্টেলথ যুদ্ধবিমানের মোকাবিলায় তাইওয়ানের সক্ষমতা কিছুটা বাড়াতে পারে।
তাইওয়ানের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষার নতুন যুদ্ধবিমান
নতুন এফ-১৬ ব্লক ৭০ যুদ্ধবিমান দুটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে তাইওয়ানের জন্য নির্ধারিত ৬৬টি যুদ্ধবিমানের প্রথম চালান। পুরো চুক্তির মূল্য ২৪৭ দশমিক ৩ বিলিয়ন তাইওয়ান ডলার, যা প্রায় ৭৭৬ কোটি মার্কিন ডলারের সমান।
বিমান দুটি, যার নম্বর ৬৭২৭ ও ৬৭২৮, গত ১৭ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যারোলিনার একটি উৎপাদনকেন্দ্র থেকে যাত্রা শুরু করে। এরপর শুক্রবার এগুলো হাওয়াইয়ে যায়। সেখান থেকে গুয়ামে যাওয়ার কথা রয়েছে। গুয়াম হবে তাইওয়ানে পৌঁছানোর আগে তাদের শেষ বিরতি।
এরপর যুদ্ধবিমান দুটি তাইওয়ানের পূর্বাঞ্চলীয় তাইতুং জেলার চিহহাং বিমানঘাঁটিতে পৌঁছাবে বলে তাইওয়ানের সামরিক সূত্র জানিয়েছে।
জে-২০-এর বিরুদ্ধে কতটা কার্যকর হবে
চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির হাতে থাকা জে-২০ একটি পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান। রাডারে শনাক্ত হওয়া কঠিন হওয়ায় দূরপাল্লার আকাশযুদ্ধে এটি বড় ধরনের সুবিধা দিতে পারে।
অন্যদিকে এফ-১৬ ব্লক ৭০ পুরোনো এফ-১৬ নকশার আধুনিক সংস্করণ। এতে উন্নত রাডার, বৈদ্যুতিন যুদ্ধব্যবস্থা, যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং অস্ত্র ব্যবহারের সক্ষমতা রয়েছে। ফলে তাইওয়ানের আকাশ প্রতিরক্ষায় নতুন এফ-১৬গুলো আগের সংস্করণের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে শুধু নতুন এফ-১৬ পেলেই জে-২০-এর সঙ্গে সরাসরি শক্তির ভারসাম্য তৈরি হবে—এমনটা নিশ্চিত নয়। জে-২০-এর স্টেলথ প্রযুক্তি, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং চীনের বিশাল আকাশসামরিক অবকাঠামো তাইওয়ানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।
তাইওয়ানের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ

তাইওয়ান দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের বিমানবাহিনী আধুনিক করার চেষ্টা করছে। নতুন এফ-১৬গুলো সেই প্রচেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে চীনের সামরিক শক্তি দ্রুত বাড়তে থাকায় তাইওয়ানের জন্য উন্নত যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা এবং আকাশ নজরদারি ব্যবস্থা শক্তিশালী করা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
নতুন এফ-১৬গুলো তাইওয়ানকে আকাশযুদ্ধে আরও উন্নত প্রযুক্তি দেবে। তবে চীনের জে-২০-এর সঙ্গে প্রকৃত ভারসাম্য তৈরি হবে কি না, তা নির্ভর করবে শুধু যুদ্ধবিমানের সংখ্যার ওপর নয়; পাইলটদের প্রশিক্ষণ, রাডার ও নজরদারি ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র, বৈদ্যুতিন যুদ্ধক্ষমতা এবং যুদ্ধের সামগ্রিক কৌশলের ওপরও।
তাইওয়ানে প্রথম দুটি বিমান পৌঁছানো তাইওয়ান-যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষা সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলেও, চীনের জে-২০-এর মোকাবিলায় এটি কতটা কার্যকর হবে, তার প্রকৃত পরীক্ষা হবে সম্ভাব্য সংঘাতের পরিস্থিতিতে।
তাইওয়ানের নতুন এফ-১৬ যুদ্ধবিমান চীনের জে-২০-এর সঙ্গে সরাসরি প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা না করলেও দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাকে আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি করছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















