১২:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
শরতের চলচ্চিত্র উৎসবে ভোগ সম্পাদকদের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত সিনেমা মাস্কের স্পেসএক্সে ট্রাম্পের বিনিয়োগ, উঠল স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন তিন বছরে ১০০ গিগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মহাপরিকল্পনা ইন্দোনেশিয়ার চীনা যন্ত্রাংশের ওপর মার্কিন রোবট শিল্পের নির্ভরতা ফাঁস, নতুন নিষেধাজ্ঞায় বাড়ছে উদ্বেগ প্রেমের টানে কানাডা ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে, স্বপ্নের বাড়ি হারিয়েও আক্ষেপ নেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জোয়ারেও মার্কিন শেয়ারবাজারে আয় বৃদ্ধির চমক, দুই প্রতিষ্ঠানের বড় অবদান মেইল ভোটে ট্রাম্পের বিধিনিষেধে সুপ্রিম কোর্টের ছাড়, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয় ফ্লোরিডায় স্বাস্থ্যবিমার খরচে বিপাকে লাখো মানুষ, এক বছরে বীমা ছাড়লেন ৪ লাখ ৪০ হাজার এপস্টেইনকে সহায়তার মামলায় গিসলেন ম্যাক্সওয়েলের সাজা বাতিলের আবেদন খারিজ দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের নতুন তৎপরতা, ক্ষুদ্র দ্বীপে সম্ভাব্য রাডার স্থাপনা

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি কি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন শক্তির ভারসাম্যের সূচনা?

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। চুক্তির মূল কথা হলো—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

তবে এই চুক্তির তাৎপর্য শুধু পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি। কারণ, কোনো দেশ যদি যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হয়েও হামলা থেকে নিরাপদ না থাকে, তাহলে ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ওপর নির্ভর করে থাকার প্রয়োজন কতটা—সেই প্রশ্নই সামনে চলে আসে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে প্রশ্ন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের এই উদ্যোগ দেখিয়ে দিচ্ছে যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো নিজেদের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে এবং নিজেদের নিরাপত্তা আরও কার্যকরভাবে নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।

কিন্তু এখন পর্যন্ত হোয়াইট হাউস থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না আসায় ট্রাম্পের এই অবস্থান নিয়ে কিছুটা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে চুক্তিটি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নিরাপত্তা কাঠামোতে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের প্রভাব ভবিষ্যতে কতটা থাকবে, সেই প্রশ্নও নতুন করে সামনে এসেছে।

The Mecca pact isn't (at least yet) the new 'NATO of the East' - Asia Times

তিন দেশের স্বার্থ যেখানে এক জায়গায়

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা একে অপরের পরিপূরক। বিপুল অর্থসম্পদের অধিকারী সৌদি আরবের সামরিক সক্ষমতা তুরস্কের তুলনায় সীমিত। অন্যদিকে তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরেই ইউরেশিয়ার বিস্তৃত অঞ্চলে নিজের রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

পাকিস্তানের রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্রসমৃদ্ধ সামরিক বাহিনী এবং দীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতা। তবে দেশটির অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং বিদেশি অর্থনৈতিক সহায়তার প্রয়োজনও রয়েছে। ফলে তিন দেশের সক্ষমতা ও প্রয়োজন একে অপরের সঙ্গে বেশ ভালোভাবেই মিলে যায়।

এর সঙ্গে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিন্ন পরিচয়—তিন দেশই সুন্নি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ। এই ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংযোগও তাদের পারস্পরিক নিরাপত্তা সহযোগিতাকে আরও শক্ত ভিত্তি দিতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন নিরাপত্তা কাঠামোর সম্ভাবনা

মক্কা চুক্তি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে এর রাজনৈতিক গুরুত্ব অস্বীকার করার উপায় নেই। দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামো অনেকাংশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ওপর নির্ভরশীল ছিল।

TRENDS: Mecca agreement a flexible defence pact | MEO

নতুন এই চুক্তি সেই ব্যবস্থার বাইরে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর নিজেদের মধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রবণতাকে আরও স্পষ্ট করতে পারে। সৌদি আরবের অর্থনৈতিক শক্তি, তুরস্কের সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতা এবং পাকিস্তানের পারমাণবিক শক্তি—এই তিনটি উপাদান একসঙ্গে কাজ করলে আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন ধরনের শক্তির ভারসাম্য তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে এই জোটের সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয়। তিন দেশের পররাষ্ট্রনীতি, আঞ্চলিক স্বার্থ ও কৌশলগত অগ্রাধিকারে পার্থক্য রয়েছে। ফলে কেবল অভিন্ন ধর্মীয় পরিচয় বা পারস্পরিক নিরাপত্তার প্রয়োজন তাদের দীর্ঘমেয়াদে একই অবস্থানে রাখবে কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন।

তারপরও মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে—মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব আরও বেশি নিজেদের হাতে নিতে চাইছে। আর সেই প্রবণতা যদি বিস্তৃত হয়, তাহলে ভবিষ্যতের মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি আঞ্চলিক শক্তিগুলোর নিজস্ব জোটভিত্তিক নতুন একটি কাঠামো গড়ে উঠতে পারে।

মক্কা চুক্তি তাই শুধু তিন দেশের প্রতিরক্ষা সমঝোতা নয়; এটি মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য নতুন শক্তির বিন্যাসের প্রথম ধাপও হয়ে উঠতে পারে।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

শরতের চলচ্চিত্র উৎসবে ভোগ সম্পাদকদের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত সিনেমা

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি কি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন শক্তির ভারসাম্যের সূচনা?

১০:৫৪:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। চুক্তির মূল কথা হলো—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

তবে এই চুক্তির তাৎপর্য শুধু পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি। কারণ, কোনো দেশ যদি যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র হয়েও হামলা থেকে নিরাপদ না থাকে, তাহলে ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ওপর নির্ভর করে থাকার প্রয়োজন কতটা—সেই প্রশ্নই সামনে চলে আসে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে প্রশ্ন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের এই উদ্যোগ দেখিয়ে দিচ্ছে যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো নিজেদের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে এবং নিজেদের নিরাপত্তা আরও কার্যকরভাবে নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।

কিন্তু এখন পর্যন্ত হোয়াইট হাউস থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না আসায় ট্রাম্পের এই অবস্থান নিয়ে কিছুটা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে চুক্তিটি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর নিরাপত্তা কাঠামোতে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের প্রভাব ভবিষ্যতে কতটা থাকবে, সেই প্রশ্নও নতুন করে সামনে এসেছে।

The Mecca pact isn't (at least yet) the new 'NATO of the East' - Asia Times

তিন দেশের স্বার্থ যেখানে এক জায়গায়

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সামরিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা একে অপরের পরিপূরক। বিপুল অর্থসম্পদের অধিকারী সৌদি আরবের সামরিক সক্ষমতা তুরস্কের তুলনায় সীমিত। অন্যদিকে তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরেই ইউরেশিয়ার বিস্তৃত অঞ্চলে নিজের রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

পাকিস্তানের রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্রসমৃদ্ধ সামরিক বাহিনী এবং দীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতা। তবে দেশটির অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং বিদেশি অর্থনৈতিক সহায়তার প্রয়োজনও রয়েছে। ফলে তিন দেশের সক্ষমতা ও প্রয়োজন একে অপরের সঙ্গে বেশ ভালোভাবেই মিলে যায়।

এর সঙ্গে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিন্ন পরিচয়—তিন দেশই সুন্নি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ। এই ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংযোগও তাদের পারস্পরিক নিরাপত্তা সহযোগিতাকে আরও শক্ত ভিত্তি দিতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন নিরাপত্তা কাঠামোর সম্ভাবনা

মক্কা চুক্তি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে এর রাজনৈতিক গুরুত্ব অস্বীকার করার উপায় নেই। দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামো অনেকাংশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ওপর নির্ভরশীল ছিল।

TRENDS: Mecca agreement a flexible defence pact | MEO

নতুন এই চুক্তি সেই ব্যবস্থার বাইরে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর নিজেদের মধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রবণতাকে আরও স্পষ্ট করতে পারে। সৌদি আরবের অর্থনৈতিক শক্তি, তুরস্কের সামরিক ও কৌশলগত সক্ষমতা এবং পাকিস্তানের পারমাণবিক শক্তি—এই তিনটি উপাদান একসঙ্গে কাজ করলে আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন ধরনের শক্তির ভারসাম্য তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে এই জোটের সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয়। তিন দেশের পররাষ্ট্রনীতি, আঞ্চলিক স্বার্থ ও কৌশলগত অগ্রাধিকারে পার্থক্য রয়েছে। ফলে কেবল অভিন্ন ধর্মীয় পরিচয় বা পারস্পরিক নিরাপত্তার প্রয়োজন তাদের দীর্ঘমেয়াদে একই অবস্থানে রাখবে কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন।

তারপরও মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে—মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব আরও বেশি নিজেদের হাতে নিতে চাইছে। আর সেই প্রবণতা যদি বিস্তৃত হয়, তাহলে ভবিষ্যতের মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি আঞ্চলিক শক্তিগুলোর নিজস্ব জোটভিত্তিক নতুন একটি কাঠামো গড়ে উঠতে পারে।

মক্কা চুক্তি তাই শুধু তিন দেশের প্রতিরক্ষা সমঝোতা নয়; এটি মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য নতুন শক্তির বিন্যাসের প্রথম ধাপও হয়ে উঠতে পারে।