চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার টানাপোড়েন কমিয়ে সম্পর্ককে একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রধান লিউ হাইশিং বলেছেন, দুই দেশের উচিত মতবিরোধ থাকলেও তা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রেখে স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তোলা।
অভিন্ন স্বার্থ বাড়ানোর আহ্বান
মঙ্গলবার বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত চীন-যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় অনানুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সংলাপে লিউ হাইশিং এ বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্র বাড়াতে হবে এবং অভিন্ন স্বার্থের পরিসর আরও বিস্তৃত করতে হবে। পারস্পরিক প্রতিযোগিতা থাকলেও তা যেন সংঘাতের দিকে না যায়, সেদিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
লিউ বলেন, দুই পক্ষের উচিত একে অপরকে শূন্য-সম খেলায় প্রতিপক্ষ হিসেবে না দেখে নিয়ন্ত্রিত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করা। মতপার্থক্য থাকলেও অভিন্ন জায়গা খুঁজে বের করার ওপর জোর দেন তিনি।

অনানুষ্ঠানিক সংলাপে প্রায় ৪০ প্রতিনিধি
এই আলোচনা চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরকারি কূটনীতি এবং বেসরকারি পর্যায়ের মতবিনিময়ের মধ্যে একটি সেতু হিসেবে কাজ করছে। এ ধরনের সংলাপের উদ্যোগ শুরু হয় ২০২৩ সালে।
দুই দিনের এবারের আলোচনায় স্থানীয় সরকার, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত ও ব্যবসায়িক মহলের সদস্যসহ প্রায় ৪০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন এশিয়া সোসাইটির সহসভাপতি জন থর্নটন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন এশিয়া সোসাইটির প্রধান ও অস্ট্রেলিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেভিন রাড এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীন ব্যবসা পরিষদের সভাপতি ক্রেগ অ্যালেন।

সামনে শি চিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফর
চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের এই নতুন বার্তাটি এমন সময়ে এসেছে, যখন চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফর সামনে রয়েছে। ২০১৫ সালের পর এটিই হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর।
বাণিজ্য, প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিযোগিতা ও মতবিরোধ চলছে। এমন পরিস্থিতিতে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে ‘নিয়ন্ত্রিত মতবিরোধ’ ও ‘স্বাভাবিক স্থিতিশীলতার’ কথা বলা দুই দেশের সম্পর্ককে সংঘাতের বদলে ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে এই আহ্বান বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে দুই দেশের মধ্যে চলমান প্রতিযোগিতা ও মতপার্থক্য কীভাবে সামাল দেওয়া হয় তার ওপর।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















