মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। এর মধ্যেই মিসরের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নিয়েছে চীনের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান জে-১৬। এই মহড়ায় মিসরের রাফাল যুদ্ধবিমানের সঙ্গে চীনা যুদ্ধবিমানগুলোর সমন্বিত যুদ্ধ প্রশিক্ষণ হয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় চীনের সামরিক উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
চীনের বড় সামরিক বহর মিসরে
চীনের গণমুক্তি ফৌজের বিমানবাহিনী সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক মোতায়েন শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে জে-১৬ যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি ইউ-২০ আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান, কে-জে-৫০০ আগাম সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণ বিমান এবং জেড-২০ সামরিক হেলিকপ্টারও মোতায়েন করা হয়েছে।
এই বহরের মিসরে পৌঁছানোকে চীনের মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সামরিক তৎপরতার গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের পর আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি যখন অত্যন্ত সংবেদনশীল, তখন চীনের এমন সামরিক তৎপরতা আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।

৬ হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি
চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনা বিমানগুলো প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে নয় ঘণ্টারও বেশি সময় উড়ে মিসরে পৌঁছেছে। এই দীর্ঘ যাত্রায় বিমানগুলো চারটি দেশের আকাশসীমা অতিক্রম করেছে বলে জানানো হলেও কোন কোন দেশের ওপর দিয়ে তারা উড়েছে, তা প্রকাশ করা হয়নি।
এ ছাড়া তাদের উড্ডয়নপথ ইরান কিংবা পারস্য উপসাগরের কোনো দেশের কাছাকাছি ছিল কি না, সেটিও স্পষ্ট করা হয়নি।
রাফালের সঙ্গে জে-১৬
মিসরের রাফাল যুদ্ধবিমানের সঙ্গে জে-১৬-এর যৌথ প্রশিক্ষণ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। রাফাল ইউরোপের অন্যতম উন্নত বহুমুখী যুদ্ধবিমান, অন্যদিকে জে-১৬ চীনের তৈরি ভারী বহুমুখী যুদ্ধবিমান। দুই দেশের বিমানবাহিনীর যৌথ মহড়ায় এসব যুদ্ধবিমানের অংশগ্রহণ তাদের পারস্পরিক সামরিক সহযোগিতার পরিধি তুলে ধরেছে।
এই ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুদ্ধবিমান পরিচালনা, আকাশযুদ্ধ, সমন্বিত অভিযান এবং বিভিন্ন ধরনের সামরিক পরিস্থিতিতে পারস্পরিক সহযোগিতার সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়।

মধ্যপ্রাচ্যে চীনের নতুন ভূমিকা
চীনের এই সামরিক তৎপরতা এমন সময়ে সামনে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বার্থের পাশাপাশি চীন যে অঞ্চলটির নিরাপত্তা ও সামরিক পরিস্থিতির ওপরও নজর বাড়াচ্ছে, সাম্প্রতিক এই মহড়া তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।
মিসরের সঙ্গে যৌথ বিমান মহড়ার মাধ্যমে চীন একই সঙ্গে নিজের যুদ্ধবিমান ও সহায়ক সামরিক ব্যবস্থার সক্ষমতা প্রদর্শনের সুযোগ পেয়েছে। দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করে একটি পূর্ণাঙ্গ বিমানবহর নিয়ে মহড়ায় অংশ নেওয়াও চীনের দূরপাল্লার সামরিক অভিযান পরিচালনার সক্ষমতার দিকটি সামনে এনেছে।
চীনা যুদ্ধবিমান ও মিসরের রাফালের এই যৌথ মহড়া তাই শুধু দুই দেশের সামরিক প্রশিক্ষণ নয়; মধ্যপ্রাচ্যে বদলে যাওয়া সামরিক সমীকরণেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
চীনের জে-১৬ যুদ্ধবিমান ও মিসরের রাফালকে ঘিরে যৌথ মহড়া মধ্যপ্রাচ্যে চীনের সামরিক উপস্থিতি এবং দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নতুন মাত্রা তুলে ধরেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















