মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এখন শুধু ইসরায়েল, ইরান কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার পরীক্ষা নয়। এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দর্শক আছে—চীন। বিশেষ করে এশিয়ায় সম্ভাব্য সংঘাতের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র কত দ্রুত এবং কতটা শক্তি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারবে, সাম্প্রতিক কয়েক মাসের ঘটনাপ্রবাহ বেইজিংকে সেই প্রশ্নটি নতুন করে ভাবার সুযোগ দিয়েছে।
১ আগস্ট দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউএস ইউরোপিয়ান কমান্ডের কমান্ডার এবং ন্যাটোর সুপ্রিম অ্যালাইড কমান্ডার জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকিউইচ পেন্টাগনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন, আরও একটি নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার না পেলে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের নিজ ভূখণ্ডের প্রতিরক্ষা এবং ইসরায়েলের প্রতিরক্ষার মধ্যে অগ্রাধিকার বেছে নিতে হতে পারে। একজন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বিষয়টিকে সীমিত সামরিক সম্পদের স্বাভাবিক প্রতিযোগিতা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছিলেন।
কিন্তু ঘটনাটির তাৎপর্য সেখানেই শেষ নয়। বহু বছর ধরে মার্কিন কৌশলগত মহলে একই সময়ে দুটি ভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক সংঘাত মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়ে যে আলোচনা হয়েছে, এবার তা বাস্তব সামরিক পরিকল্পনার একেবারে কেন্দ্রে উঠে এসেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই সীমাবদ্ধতার হিসাব এখন কেবল ওয়াশিংটন করছে না। বেইজিংও তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
আরও স্পষ্ট সংকেত আসে ১৩ আগস্ট। জাপানের ইয়োকোসুকায় স্থায়ীভাবে মোতায়েন থাকা একমাত্র মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হয়। তার লক্ষ্য ছিল ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে প্রতিস্থাপন করা, যার মোতায়েন মে মাসে দেশে ফেরার নির্ধারিত সময়ের পরও দুই দফা বাড়ানো হয়েছিল। এর অর্থ দাঁড়ায়, সান দিয়েগোর পশ্চিমে তখন কোনো মার্কিন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ অবশিষ্ট থাকল না।
চীনের জন্য আরও কিছু তথ্যও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ মুহূর্তে কাটছাঁট করেছেন। একই সময়ে এশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরোধী ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট সেপ্টেম্বর মাসে মোতায়েন হওয়ার কথা রয়েছে। হাডসন ইনস্টিটিউটের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সেটিও প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থান না করে মধ্যপ্রাচ্যের পথে যেতে পারে।
মিসাইলের ঘাটতি কেবল অনুমান নয়
সংখ্যাগুলোও এখন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের হিসাব অনুযায়ী, টমাহক, থাড ও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত যুদ্ধের আগের পর্যায়ে ফিরিয়ে নিতে তিন বছর বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে। সাত ধরনের গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধাস্ত্রের মধ্যে অন্তত চারটির ক্ষেত্রে ইরান যুদ্ধের আগে থাকা মজুতের অর্ধেকের বেশি ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে।
সিএনএনও অভ্যন্তরীণ সাম্প্রতিক মজুত-সংক্রান্ত প্রতিবেদনের সূত্র উল্লেখ করে জানিয়েছে, মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারের কিছু অংশ ‘বিপজ্জনকভাবে কমে গেছে’। বিশেষ করে থাড প্রতিরোধী ব্যবস্থার মজুত প্রায় চার-পঞ্চমাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই ঘাটতি দ্রুত পূরণ করার সুযোগও নেই। চলতি মাসে যে সম্প্রসারণ চুক্তিগুলো হয়েছে, সেগুলোর সরবরাহ প্রায় ২০২৯ সাল পর্যন্ত গড়াতে পারে।
এখানেই ইরান যুদ্ধের একটি বড় সামরিক শিক্ষা রয়েছে। তুলনামূলকভাবে সীমিত সামরিক সক্ষমতার একটি দেশ সস্তা ড্রোন ও মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রতিরোধী অস্ত্রগুলোর মজুত এমন গতিতে কমিয়ে দিতে পেরেছে, যে গতিতে যুক্তরাষ্ট্র সেগুলো পুনরায় উৎপাদন করতে পারছে না।
তাই প্রশ্নটি আর যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত চাপের মধ্যে আছে কি না, তা নয়। উত্তর এখন স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা নানা দিক থেকে টানাপোড়েনে পড়েছে। আসল প্রশ্ন হলো, চীন এই পরিস্থিতি থেকে কী সিদ্ধান্ত নেবে।
সংকটের দুই বিপরীত পাঠ
বেইজিংয়ের সামনে অন্তত দুটি পরস্পরবিরোধী ব্যাখ্যা রয়েছে।
প্রথম ব্যাখ্যাটি হলো, অস্ত্রের ঘাটতি যুক্তরাষ্ট্রকে এশিয়ায় আরও সতর্ক করে তুলবে। সীমিত ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরোধী ব্যবস্থা থাকলে ওয়াশিংটন স্বাভাবিকভাবেই সেগুলো এমন সংঘাতের জন্য ধরে রাখতে চাইবে, যাকে সে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। ফলে চীনের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে চলা, উত্তেজনা কমিয়ে রাখা এবং পরিস্থিতিকে আরও বিস্তৃত সংঘাতে গড়াতে না দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।
২০২৬ সালের মার্কিন ন্যাশনাল ডিফেন্স স্ট্র্যাটেজিতেও ইন্দো-প্যাসিফিককে মাতৃভূমির পর দ্বিতীয় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। চীনের সঙ্গে সংঘাতের ঝুঁকি এড়িয়ে চলা এবং উত্তেজনা প্রশমনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, আর তাইওয়ানের নামও সেখানে উল্লেখ করা হয়নি। এমন একটি নীতির সঙ্গে বর্তমান অস্ত্রঘাটতি যুক্ত হলে বেইজিং ধরে নিতে পারে যে ওয়াশিংটন সংঘাত এড়াতেই বেশি আগ্রহী হবে।
কিন্তু এখানেই দ্বিতীয়, এবং সম্ভবত আরও বিপজ্জনক ব্যাখ্যাটি সামনে আসে।
যে শক্তি জানে তার সামরিক সক্ষমতা কয়েক বছরের মধ্যে পুনর্গঠিত হবে, কিন্তু এখন তা সীমিত, সে হয়তো বরং এই সময়টাকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার পুনরায় পূর্ণ হতে যদি ২০২৯ পর্যন্ত সময় লাগে, তাহলে চীনা কৌশলবিদরা যেমন এই সময়সীমা জানেন, মার্কিন কৌশলবিদরাও তা জানেন।
ফলে আগামী তিন বছর ওয়াশিংটনকে আরও নমনীয় নয়, বরং আরও তৎপর করে তুলতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র হয়তো ভবিষ্যতে নিজের অবস্থান শক্তিশালী হওয়ার অপেক্ষায় না থেকে সম্ভাব্য সংকটকে শুরুতেই নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করবে। কোনো পরিস্থিতি ধীরে ধীরে বড় হওয়ার সুযোগ দেওয়ার বদলে আগাম প্রতিরোধের প্রবণতা বাড়তে পারে।
এটাই সবচেয়ে বিপজ্জনক সম্ভাবনা। কারণ যখন একটি পক্ষের হাতে সামরিক ব্যবস্থাপনার জন্য কম অতিরিক্ত সক্ষমতা থাকে, তখন ছোট একটি ভুল হিসাবও বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
এশিয়ার দেশগুলোর জন্য কঠিন বাস্তবতা হলো, এই দুই সম্ভাবনার কোনটি বাস্তবে কার্যকর হবে তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
চাপ বাড়ানোর সহজ পথ
ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশন উল্লেখ করেছে, দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ছায়ায় অনেক সময় সুযোগসন্ধানী আগ্রাসনের ঝুঁকি বাড়ে। চীনের সামরিক নেতৃত্বে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাম্প্রতিক শুদ্ধি অভিযানও বেইজিংয়ের সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর আলাদা প্রভাব ফেলছে।
তবে চীনের আচরণকে কেবল পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের প্রস্তুতি দিয়ে ব্যাখ্যা করাও ভুল হবে। জুনে তাইওয়ানের পূর্বদিকে চীনা কোস্ট গার্ড বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং তাদের ওপর চীনের এখতিয়ার দাবি করে। এই ধরনের চাপ প্রয়োগের জন্য বিপুল পরিমাণ আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন হয় সমুদ্রপথে উপস্থিতি, টহল এবং প্রশাসনিক ও সামরিক চাপের সমন্বয়।
এখানেই বেইজিংয়ের জন্য একটি আকর্ষণীয় ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। তাইওয়ান আক্রমণ করা এখনো সহজ হয়ে যায়নি। কিন্তু সামরিক সংঘাতের নিচে থাকা নানা ধরনের চাপ—জাহাজ থামানো, সামুদ্রিক এলাকায় উপস্থিতি বাড়ানো, সীমান্তসদৃশ পরিস্থিতি তৈরি করা কিংবা ধীরে ধীরে প্রতিপক্ষের প্রতিক্রিয়ার সীমা পরীক্ষা করা—তুলনামূলকভাবে কম ব্যয়বহুল।
অর্থাৎ ওয়াশিংটন যদি সংযত হয়, চীন সুযোগ দেখতে পারে। আবার ওয়াশিংটন যদি দ্রুত ও কঠোর প্রতিক্রিয়ার পথ বেছে নেয়, তাতেও ভুল হিসাবের ঝুঁকি থাকবে।
ইতিহাসের সতর্কবার্তা
এশিয়ার ইতিহাসে এমন পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির রয়েছে। ১৯৩০-এর দশকের শেষ দিকে ব্রিটেন অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও মালয়াকে আশ্বস্ত করেছিল যে জাপান এগিয়ে এলে ব্রিটিশ প্রধান নৌবহর পূর্বদিকে পাঠানো হবে। ‘সিঙ্গাপুর স্ট্র্যাটেজি’ ছিল আন্তরিক, ব্যয়বহুল এবং বারবার রাজনৈতিকভাবে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছিল।
কিন্তু সংকটের সময় বাস্তবতা বদলে যায়। ব্রিটিশ নৌবাহিনীর জাহাজ ছিল, কিন্তু ইউরোপীয় যুদ্ধ তাদের ওপর প্রথম দাবি প্রতিষ্ঠা করেছিল। প্রতিশ্রুতির প্রকৃত পরীক্ষা হয় একবারই। ১৯৪১ সালের ডিসেম্বরে ফোর্স জেড বিমান সহায়তা ছাড়া দুটি বড় যুদ্ধজাহাজ নিয়ে এগিয়ে যায় এবং মাত্র তিন দিনের মধ্যে ধ্বংস হয়ে যায়।
আজকের প্রশ্নও তাই মার্কিন নৌবাহিনীর অস্তিত্ব নিয়ে নয়। প্রশ্ন হলো, একসঙ্গে একাধিক জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে ওয়াশিংটন কোনটিকে প্রথমে সামলাবে।
মিত্রদের নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে
এই বাস্তবতা এশিয়ার দেশগুলোর প্রতিরক্ষা নীতিতেও পরিবর্তন দাবি করছে। তাইওয়ানের মন্ত্রিসভা ২০ আগস্ট ২০২৭ সালের প্রতিরক্ষা বাজেট ১৮ শতাংশ বাড়িয়ে জিডিপির ৩ শতাংশের বেশি করার প্রস্তাব দিয়েছে। জাপানও ডিসেম্বরের মধ্যে তার তিনটি প্রধান নিরাপত্তা নথি সংশোধনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এখন তাদের লক্ষ্য শুধু যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি নিয়ে আশ্বস্ত থাকা হওয়া উচিত নয়। বরং যে সামরিক সীমাবদ্ধতা আজ যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে ফেলছে, তা নিজেদের সক্ষমতা দিয়ে যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা জরুরি।
এর একটি কার্যকর উদাহরণ ইতোমধ্যেই আছে। ৭ আগস্ট মার্কিন মিসাইল ডিফেন্স এজেন্সি রেথিয়নকে ৭৪৫ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলারের এসএম-৩ ব্লক আইআইএ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির চুক্তি দিয়েছে। এর মধ্যে ২৭৭ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করছে জাপান। যে প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাটি তৈরিতে মিতসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজও ভূমিকা রেখেছে।
এই মডেল পিএসি-৩, এসএম-৬ এবং দূরপাল্লার হামলা সক্ষমতার ক্ষেত্রেও বিস্তৃত করা যেতে পারে। মিত্রদের অর্থ যদি মিত্রদের অস্ত্রভাণ্ডার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়, তাহলে তারা কেবল মার্কিন সরবরাহ লাইনের অপেক্ষায় থাকা অংশীদার থাকবে না।
ওয়াশিংটনেরও স্বচ্ছ হতে হবে
এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো তার ইন্দো-প্যাসিফিক সামরিক উপস্থিতির একটি ন্যূনতম সীমা স্পষ্ট করা। কোনো মধ্যপ্রাচ্য সংকট বা ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের জরুরি পরিস্থিতি যেন এশিয়ায় মার্কিন উপস্থিতিকে সেই সীমার নিচে নামিয়ে না দেয়—এমন একটি প্রকাশ্য নীতি প্রয়োজন।
কারণ একই সঙ্গে ইন্দো-প্যাসিফিককে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলা এবং সেই অঞ্চলের সামরিক শক্তিকে বিশ্বের অন্য সব সংকটের জন্য ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ হিসেবে দেখা—দুটি অবস্থান একসঙ্গে টিকতে পারে না।
চীন ইতোমধ্যে এই অসঙ্গতি লক্ষ্য করেছে। এখন এশিয়ার দেশগুলোরও তা হিসাবের মধ্যে নেওয়া উচিত।
আমেরিকার সক্ষমতার যুগ যে শেষ হয়ে গেছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো এখনই ঠিক হবে না। কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটে গেছে। সেই পরিবর্তনের সংকেত কোনো তাইওয়ান সংকট থেকে আসেনি; এসেছে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে একটি ডেস্ট্রয়ারের ঘাটতি থেকে।
এটাই বেইজিংয়ের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা—যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি এখনও বিশাল, কিন্তু তা আর সীমাহীন নয়। আর সীমিত শক্তির বিশ্বে প্রতিশ্রুতির চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে কোন সংকটে সেই শক্তি প্রথমে পৌঁছায়।
থমাস ও. ফক 



















