০৮:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
জেরুজালেমে সন্ন্যাসিনীকে হামলার ঘটনায় মানসিক অসুস্থতার কারণে ইহুদি ব্যক্তির খালাস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় সাত প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলা, ব্যবহৃত হলো স্পেসএক্সের কার্সর দূরবর্তী এলাকায় সেনাদের সরবরাহে চালিত গ্লাইডার ব্যবহারের কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র মহান হতে হলে কি নির্মম হতে হবে? ওডিসিউস থেকে উদারনীতির নতুন শিক্ষা এডিএইচডিতে কাজের গতি ও মনোযোগ বাড়াতে ‘বডি ডাবলিং’ কতটা কার্যকর জীবনসঙ্গীর শেষ সময়ে পাশে থাকতে পারেননি, জামিন আবেদন প্রত্যাহার চান দীপু মনি পাকিস্তানের মোটরওয়ে ব্যবস্থায় দক্ষিণাঞ্চল কেন এত পিছিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বয়স্কদের মধ্যে আরএসভি সংক্রমণে হাসপাতালে ভর্তির হার স্বাভাবিকের তুলনায় ১০ গুণ বেশি ৬৪ জেলায় ৬৪ ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী’ থাকলে মন্দ হতো না: রুমিন ফারহানা ভোটেকোশি নদীর ভয়াবহ বন্যায় ২৫৮ মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ ৯১০

বন্ধ জালিল টেক্সটাইল মিলসে আধুনিক অস্ত্র কারখানা, রপ্তানির লক্ষ্য

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ফৌজদারহাটে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা জালিল টেক্সটাইল মিলের ৫৪ দশমিক ৯৯ একর জমিতে আধুনিক অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম তৈরির কারখানা স্থাপন করবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার এ প্রকল্পের জন্য বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের অধীন জমি প্রতীকী মূল্যে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেছে সরকার।

এ উপলক্ষে মিল প্রাঙ্গণেই সরকার ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরিজের (বিওএফ) মধ্যে চুক্তি সই হয়। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, নতুন কারখানাটি দেশের অস্ত্রের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে রপ্তানিমুখী শিল্প হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।

দেশীয় চাহিদা পূরণে নতুন উদ্যোগ

সেনাপ্রধান বলেন, বাংলাদেশে তৈরি অস্ত্রের প্রতি বিভিন্ন দেশের আগ্রহ রয়েছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করা সম্ভব হলে এই শিল্প থেকে উল্লেখযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জানান, ফৌজদারহাটের পাহাড়ি এলাকাটি বেছে নেওয়ার অন্যতম কারণ চট্টগ্রাম বন্দরের কাছাকাছি অবস্থান। বন্দরের সঙ্গে সহজ যোগাযোগ আধুনিক ও অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন এবং পরিবহনে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে এই প্রকল্প দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি কৌশলগত নিরাপত্তা জোরদারে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পুরোনো শিল্পস্থানে নতুন অধ্যায়

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, বিশ্ব প্রতিরক্ষা শিল্প ও প্রযুক্তিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। তুলনামূলক কম খরচে ড্রোনসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম এখন পাওয়া যাচ্ছে এবং এসব পণ্যের চাহিদাও বাড়ছে।

তিনি বলেন, অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানির ক্ষেত্রে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেবে। তার মতে, এই উদ্যোগ বাংলাদেশের শিল্প ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামসুল ইসলাম এবং সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হক উপস্থিত ছিলেন। চুক্তি সইয়ের পর মন্ত্রী ও সেনাপ্রধান পরিত্যক্ত কারখানা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখেন এবং সেখানে গাছের চারা রোপণ করেন।

১৯৬১ সালে যাত্রা, ২০০৪ সালে বন্ধ

প্রায় ৫৫ একর জমির ওপর ১৯৬১ সালে জালিল টেক্সটাইল মিলের কার্যক্রম শুরু হয়। সুতা ও কাপড় উৎপাদনের জন্য একসময় এটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ বস্ত্রশিল্প প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ছিল। কয়েক দশক দেশের টেক্সটাইল শিল্পে ভূমিকা রাখলেও ধারাবাহিক লোকসান ও নানা সংকটে প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে।

শেষ পর্যন্ত ২০০৪ সালে মিলটির উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল পুরো এলাকা। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে এবার সেই জমি সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হলো।

একসময় দেশের বস্ত্রশিল্পের ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত এই শিল্পস্থানে এখন সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র উৎপাদনের নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জেরুজালেমে সন্ন্যাসিনীকে হামলার ঘটনায় মানসিক অসুস্থতার কারণে ইহুদি ব্যক্তির খালাস

বন্ধ জালিল টেক্সটাইল মিলসে আধুনিক অস্ত্র কারখানা, রপ্তানির লক্ষ্য

০৬:১৯:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ফৌজদারহাটে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা জালিল টেক্সটাইল মিলের ৫৪ দশমিক ৯৯ একর জমিতে আধুনিক অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম তৈরির কারখানা স্থাপন করবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার এ প্রকল্পের জন্য বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের অধীন জমি প্রতীকী মূল্যে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেছে সরকার।

এ উপলক্ষে মিল প্রাঙ্গণেই সরকার ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরিজের (বিওএফ) মধ্যে চুক্তি সই হয়। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, নতুন কারখানাটি দেশের অস্ত্রের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে রপ্তানিমুখী শিল্প হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।

দেশীয় চাহিদা পূরণে নতুন উদ্যোগ

সেনাপ্রধান বলেন, বাংলাদেশে তৈরি অস্ত্রের প্রতি বিভিন্ন দেশের আগ্রহ রয়েছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করা সম্ভব হলে এই শিল্প থেকে উল্লেখযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ জমি হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জানান, ফৌজদারহাটের পাহাড়ি এলাকাটি বেছে নেওয়ার অন্যতম কারণ চট্টগ্রাম বন্দরের কাছাকাছি অবস্থান। বন্দরের সঙ্গে সহজ যোগাযোগ আধুনিক ও অত্যাধুনিক সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন এবং পরিবহনে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে এই প্রকল্প দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি কৌশলগত নিরাপত্তা জোরদারে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পুরোনো শিল্পস্থানে নতুন অধ্যায়

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, বিশ্ব প্রতিরক্ষা শিল্প ও প্রযুক্তিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। তুলনামূলক কম খরচে ড্রোনসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম এখন পাওয়া যাচ্ছে এবং এসব পণ্যের চাহিদাও বাড়ছে।

তিনি বলেন, অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানির ক্ষেত্রে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেবে। তার মতে, এই উদ্যোগ বাংলাদেশের শিল্প ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামসুল ইসলাম এবং সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ শাহীনুল হক উপস্থিত ছিলেন। চুক্তি সইয়ের পর মন্ত্রী ও সেনাপ্রধান পরিত্যক্ত কারখানা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখেন এবং সেখানে গাছের চারা রোপণ করেন।

১৯৬১ সালে যাত্রা, ২০০৪ সালে বন্ধ

প্রায় ৫৫ একর জমির ওপর ১৯৬১ সালে জালিল টেক্সটাইল মিলের কার্যক্রম শুরু হয়। সুতা ও কাপড় উৎপাদনের জন্য একসময় এটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ বস্ত্রশিল্প প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ছিল। কয়েক দশক দেশের টেক্সটাইল শিল্পে ভূমিকা রাখলেও ধারাবাহিক লোকসান ও নানা সংকটে প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে।

শেষ পর্যন্ত ২০০৪ সালে মিলটির উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল পুরো এলাকা। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে এবার সেই জমি সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হলো।

একসময় দেশের বস্ত্রশিল্পের ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত এই শিল্পস্থানে এখন সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র উৎপাদনের নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে।