০৫:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
মধ্যযুগের স্বাস্থ্য রহস্য: নোংরা ও রোগের যুগেও কীভাবে সুস্থ থাকতেন মানুষ ১৯২৬ সালের ব্রিটিশ সাধারণ ধর্মঘট: ১৭ লাখ শ্রমিকের ঐক্য, তবু কেন পরাজয়ের ইতিহাস ড্রোন যুদ্ধের সূচনা: ১৮৪৯ সালের ভেনিস অবরোধ থেকে আধুনিক যুদ্ধের ভয়াবহ রূপ প্লাস্টিকের আবিষ্কার: ১৯শ শতকের পরীক্ষাগার থেকে ২০শ শতকের বিপ্লব রানি এলিজাবেথ দ্বিতীয়: সাম্রাজ্যের পতন থেকে আধুনিক ব্রিটেন—৭০ বছরের ইতিহাসে এক অটল নেতৃত্ব দাসত্বের অন্ধকার ভেঙে স্বাধীনতার কণ্ঠ: ফ্রেডেরিক ডগলাস ও আমেরিকার অসম স্বাধীনতার গল্প প্রাচীন রোমে ‘কাল্ট’ সংস্কৃতি থেকে খ্রিস্টধর্মের উত্থান: কীভাবে বদলে গেল ধর্মীয় মানচিত্র মধ্যযুগে নোংরা নয়, পরিকল্পিত ছিল টয়লেট ব্যবস্থা—ইউরোপের অজানা পরিচ্ছন্নতার ইতিহাস নওগাঁয় একই পরিবারের চারজনের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার ১৮.৫৭ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে শুরু হলো এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-১২৪)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অগাস্ট ২০২৪
  • 127

শ্রী নিখিলনাথ রায়

সম্মুখে একটি যৎসামান্য বুরুজ নির্মাণ করিয়া, তাহাতে কামানসকল রক্ষা করা হইল। ক্লাইব বামভাগের সৈন্যদিগের কতক অংশকে অগ্রসর হইয়া ৪ শত হস্ত দূরে দুইটি ইষ্টকের পাঁজার পশ্চাদ্ভাগে অবস্থিতি করিতে আদেশ দিলেন। বেলা আট ঘটিকার সময় প্রথমে সিনফ্রের অধীন সৈন্যগণ গোলা- বৃষ্টি আরম্ভ করিল। ইংরেজেরাও তাহার প্রতিবর্ষণ করিলেন। তিন ঘণ্টা কাল গোলায় গোলায় যুদ্ধ চলিল। ক্লাইব কোনরূপ সুবিধা বুঝিতে না পারিয়া, সৈন্যদিগ্রকে পশ্চাৎ হাঁটয়া আম্রকুঞ্জমধ্যে প্রবেশ করিতে আদেশ দিলেন এবং অন্যান্য সামরিক কর্মচারীর সহিত পরামর্শ করিয়া, রাত্রিযোগে নবাবকে আক্রমণ করিবার ইচ্ছা করিলেন। এই সময়ে এক পশলা বৃষ্টি হওয়ায়, নবাবের সমস্ত বারুদ ভিজিয়া যায়।

ইংরেজেরা আপনাদিগের বারুদ আবরণ-দ্বারা রক্ষা করিতে সমর্থ হইয়া- ছিলেন। বারুদ ভিজিয়া যাওয়ায়, নবাবকে বিলক্ষণ ক্ষতিগ্রস্ত হইতে হয়। ইংরেজ-সৈন্য আম্রকাননে প্রবিষ্ট হইতেছে দেখিয়া নবাবের প্রধান সেনাপতি মীরমদন এক দল, অশ্বারোহী সৈন্যসহ কুঞ্জাভিমুখে অগ্রসর হইলেন; কিন্তু অধিক দূর যাইতে না যাইতেই ইংরেজদিগের একটি গোলা আসিয়া তাঁহাকে সাংঘাতিকরূপে আহত করিল; ইহাতে নবাবসৈন্য অত্যন্ত সন্ত্রস্ত হইয়া পড়িল। মীরমদনের পশ্চাদ্ভাগে হিন্দুবীর মোহনলাল অবস্থিতি করিতেছিলেন। তিনি তাহাদিগকে উৎসাহিত করিয়া, ইংরেজদিগকে মথিত করিবার জন্য মহাবেগে ধাবিত হইলেন। তাঁহার আক্রমণে ইংরেজসৈনঙ্গীণ অস্থির হইয়া ক্রমশঃ কুঞ্জমধ্যে প্রবিষ্ট হইতে লাগিল।

ইতিমধ্যে এক মহা ব্যাপার উপস্থিত হইল মীরমদনের পতন-সংবাদ শ্রবণ করিয়া, সিরাজ অত্যন্ত ব্যাকুল হইয়া পড়েন। তিনি ইতিকর্তব্যতাবিমূঢ় হইয়া মীরজাফরকে আহ্বানপূর্ব্বক তাহার পদতলে উষ্ণীষ রক্ষা করিয়া, এই আসন্ন বিপদ হইতে উদ্ধার করিবার জন্ত প্রার্থনা করেন। মীরজাফর সে দিবস নবাবকে যুদ্ধে ক্ষান্ত হইতে পরামর্শ দিলেন। বিশ্বাসঘাতকের পরামর্শে সিরাজ মোহনলালকে প্রতিনিবৃত্ত হইতে বলিয়া পাঠাইলেন। মোহনলাল তাঁহার কথার কর্ণপাত না করিয়া উত্তর দিলেন যে এক্ষণে প্রতিনিবৃত্ত হইলে, আর কিছুতেই জয়ের আশা থাকিবে না।

সিরাজ মীরজাফরকে মোহনলালের কথা জানাইলে, মীরজাফর উত্তর করিলেন যে, তিনি নবাবকে সময়োচিত সৎপরামর্শই দিয়াছেন; এক্ষণে নবাবের যাহা ইচ্ছা করিতে পারেন। রায়দুর্লভও তাঁহাকে মুর্শিদাবাদ যাইতে পরামর্শ দিলেন। মীরজাফরের এইরূপ উত্তর শুনিয়া সিরাজ আরও ভীত হইয়া পড়িলেন, এবং পুনর্ব্বার মোহনলালকে প্রতিনিবৃত্ত হইতে আদেশ পাঠাইলেন। নবাবের বারংবার আদেশে মোহনলাল বিরক্ত হইয়া যেই প্রতিনিবৃত্ত হইতে আরম্ভ করিলেন, অমনি নবাবসৈন্যগণ চতুৰ্দ্দিকে ছত্রভঙ্গ হইয়া পড়িল। ইংরেজ সৈন্য সুযোগ বুঝিয়া আম্রকুঞ্জ হইতে বহির্গত হইয়া, মহাবেগে নবাবসৈন্যের উপর পতিত হইল। এস্থলে ইংরেজ ঐতিহাসিকগণ ক্লাইবের সম্বন্ধে এক কৌতুকাবহ ঘটনার উল্লেখ করিয়া থাকেন।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যযুগের স্বাস্থ্য রহস্য: নোংরা ও রোগের যুগেও কীভাবে সুস্থ থাকতেন মানুষ

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-১২৪)

১১:০০:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অগাস্ট ২০২৪

শ্রী নিখিলনাথ রায়

সম্মুখে একটি যৎসামান্য বুরুজ নির্মাণ করিয়া, তাহাতে কামানসকল রক্ষা করা হইল। ক্লাইব বামভাগের সৈন্যদিগের কতক অংশকে অগ্রসর হইয়া ৪ শত হস্ত দূরে দুইটি ইষ্টকের পাঁজার পশ্চাদ্ভাগে অবস্থিতি করিতে আদেশ দিলেন। বেলা আট ঘটিকার সময় প্রথমে সিনফ্রের অধীন সৈন্যগণ গোলা- বৃষ্টি আরম্ভ করিল। ইংরেজেরাও তাহার প্রতিবর্ষণ করিলেন। তিন ঘণ্টা কাল গোলায় গোলায় যুদ্ধ চলিল। ক্লাইব কোনরূপ সুবিধা বুঝিতে না পারিয়া, সৈন্যদিগ্রকে পশ্চাৎ হাঁটয়া আম্রকুঞ্জমধ্যে প্রবেশ করিতে আদেশ দিলেন এবং অন্যান্য সামরিক কর্মচারীর সহিত পরামর্শ করিয়া, রাত্রিযোগে নবাবকে আক্রমণ করিবার ইচ্ছা করিলেন। এই সময়ে এক পশলা বৃষ্টি হওয়ায়, নবাবের সমস্ত বারুদ ভিজিয়া যায়।

ইংরেজেরা আপনাদিগের বারুদ আবরণ-দ্বারা রক্ষা করিতে সমর্থ হইয়া- ছিলেন। বারুদ ভিজিয়া যাওয়ায়, নবাবকে বিলক্ষণ ক্ষতিগ্রস্ত হইতে হয়। ইংরেজ-সৈন্য আম্রকাননে প্রবিষ্ট হইতেছে দেখিয়া নবাবের প্রধান সেনাপতি মীরমদন এক দল, অশ্বারোহী সৈন্যসহ কুঞ্জাভিমুখে অগ্রসর হইলেন; কিন্তু অধিক দূর যাইতে না যাইতেই ইংরেজদিগের একটি গোলা আসিয়া তাঁহাকে সাংঘাতিকরূপে আহত করিল; ইহাতে নবাবসৈন্য অত্যন্ত সন্ত্রস্ত হইয়া পড়িল। মীরমদনের পশ্চাদ্ভাগে হিন্দুবীর মোহনলাল অবস্থিতি করিতেছিলেন। তিনি তাহাদিগকে উৎসাহিত করিয়া, ইংরেজদিগকে মথিত করিবার জন্য মহাবেগে ধাবিত হইলেন। তাঁহার আক্রমণে ইংরেজসৈনঙ্গীণ অস্থির হইয়া ক্রমশঃ কুঞ্জমধ্যে প্রবিষ্ট হইতে লাগিল।

ইতিমধ্যে এক মহা ব্যাপার উপস্থিত হইল মীরমদনের পতন-সংবাদ শ্রবণ করিয়া, সিরাজ অত্যন্ত ব্যাকুল হইয়া পড়েন। তিনি ইতিকর্তব্যতাবিমূঢ় হইয়া মীরজাফরকে আহ্বানপূর্ব্বক তাহার পদতলে উষ্ণীষ রক্ষা করিয়া, এই আসন্ন বিপদ হইতে উদ্ধার করিবার জন্ত প্রার্থনা করেন। মীরজাফর সে দিবস নবাবকে যুদ্ধে ক্ষান্ত হইতে পরামর্শ দিলেন। বিশ্বাসঘাতকের পরামর্শে সিরাজ মোহনলালকে প্রতিনিবৃত্ত হইতে বলিয়া পাঠাইলেন। মোহনলাল তাঁহার কথার কর্ণপাত না করিয়া উত্তর দিলেন যে এক্ষণে প্রতিনিবৃত্ত হইলে, আর কিছুতেই জয়ের আশা থাকিবে না।

সিরাজ মীরজাফরকে মোহনলালের কথা জানাইলে, মীরজাফর উত্তর করিলেন যে, তিনি নবাবকে সময়োচিত সৎপরামর্শই দিয়াছেন; এক্ষণে নবাবের যাহা ইচ্ছা করিতে পারেন। রায়দুর্লভও তাঁহাকে মুর্শিদাবাদ যাইতে পরামর্শ দিলেন। মীরজাফরের এইরূপ উত্তর শুনিয়া সিরাজ আরও ভীত হইয়া পড়িলেন, এবং পুনর্ব্বার মোহনলালকে প্রতিনিবৃত্ত হইতে আদেশ পাঠাইলেন। নবাবের বারংবার আদেশে মোহনলাল বিরক্ত হইয়া যেই প্রতিনিবৃত্ত হইতে আরম্ভ করিলেন, অমনি নবাবসৈন্যগণ চতুৰ্দ্দিকে ছত্রভঙ্গ হইয়া পড়িল। ইংরেজ সৈন্য সুযোগ বুঝিয়া আম্রকুঞ্জ হইতে বহির্গত হইয়া, মহাবেগে নবাবসৈন্যের উপর পতিত হইল। এস্থলে ইংরেজ ঐতিহাসিকগণ ক্লাইবের সম্বন্ধে এক কৌতুকাবহ ঘটনার উল্লেখ করিয়া থাকেন।