০৩:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬
সামরিক ভাষার নীরব বিস্তার: ভদ্রতার আড়ালে বদলে যাচ্ছে নাগরিক সংস্কৃতি ট্রাম্পের বড় ইঙ্গিত: সাত বছর পর তুরস্কের জন্য আবারও খুলতে পারে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনির শেষযাত্রায় লাখো মানুষের ঢল, প্রতিশোধের স্লোগানে উত্তাল তেহরান ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে কারা হেফাজতে ৬১ মৃত্যু, ৬০ শতাংশই বিচারাধীন বন্দি: আসক অ্যাংলো-স্যাক্সনদের উত্থানঃ ব্রিটিশ জাতিগোষ্টি ও তাদের রাষ্ট্র শুরু হওয়ার আগের দিনগুলো বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র ১০ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ সাভারে এনসিপির সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ৪; ঘটনার তদন্তে পুলিশ কুষ্টিয়ায় ব্রাজিল সমর্থকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের ২৫০ বছর: যেভাবে দীর্ঘ সংঘাতের পর জন্ম নিল যুক্তরাষ্ট্র আপডেটেড দৃষ্টিতে আলেকজান্ডার: বিজেতার গৌরবের আড়ালে উঠে এলো নির্মম বাস্তবতা

সাপ নিয়ে কিছু প্রবাদ ও কুসংস্কার (পর্ব-৪)

  • Sarakhon Report
  • ০২:১৪:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৪
  • 146

শিবলী আহম্মেদ সুজন

বিষক্রিয়ার তীব্রতা কমে এলে বা নির্দিষ্ট প্রতিবেশতাত্ত্বিক প্রভাবে ও শারীরবৃত্তীয় প্রতিরোধ বা সংশোধন কলাকৌশলের ঘাত-প্রতিঘাতে থেমে যাওয়া হৃৎপিণ্ডকে আবার সক্রিয় হয়ে উঠতে দেখা গেছে। এ জন্য অধুনা শুধু হৃৎপিণ্ড বন্ধ হয়ে যাওয়াতেই মৃত্যুর সংজ্ঞা টানা হয় না।

বরং প্রাণীর সামগ্রিক শারীরবৃত্তীয় অচলাবস্থার ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়। হিন্দুধর্মমতে, সাপে কাটা মৃত ব্যক্তিকে না পুড়িয়ে জলে ভাসিয়ে দেওয়ার প্রথা প্রচলিত আছে। মনসামঙ্গল কাব্যের লখিন্দরের বেলায়ও তা-ই হয়েছিল। ব্যাপারটা বিজ্ঞানসম্মতও বটে।

এই অবস্থায় কেউ কেউ বেঁচেও উঠেছে বলে শোনা যায়। এই অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান থেকেই হয়তো অনেক সময় মৃতজনের দেহে ঠান্ডা জিনিস প্রয়োগ করে ওঝাদের কৃতকার্য হতে দেখা গেছে। মানবদেহে তড়িতাঘাতের মতো হিমাঘাতেরও (কোল্ড শক) যথেষ্ট শারীরবৃত্তীয় প্রভাব রয়েছে।

এ ধরনের সফলতার ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় সেই কৃতী সাপুড়ে বা ওঝাকে নিয়ে হইচই পড়ে যাওয়াই স্বাভাবিক। তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। আবার এও শোনা গেছে, সাপে কাটা মৃত ব্যক্তির লাশ কবরে নষ্ট হয় না। যেভাবে কবরে রাখা হয় সেভাবেই থাকে।

এর কোনো বৈজ্ঞানিক যুক্তি নেই। তবে এমনটা হতে পারে, বিশেষ কোনো প্রাতিবেশিক অবস্থা (ঠান্ডা মাটির অস্বাভাবিক গঠনবিন্যাস, পচন অণুজীবের অনুপস্থিতি) সেই সাপে কাটা রোগীর দেহ দ্রুত পচনে সহায়ক না-ও হতে পারে। তবে ব্যাপারটা অনন্তকাল ধরে চলবে মনে করার কারণ নেই।

সাপে কাটা রোগীকে বাঁচানোর জন্য কোথাও কোথাও কড়িতে মন্ত্র পড়ে ছেড়ে দেওয়ার কাহিনির প্রচলন আছে। কিন্তু সেটা অবাস্তব কেচ্ছারই নামান্তর। কড়ি মাথায় দিয়ে ছেড়ে দেওয়া সাপে রোগীর ক্ষতস্থানে মুখ লাগিয়ে নামাজনে নেওয়ার ব্যাপারটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। সেখানে ভেলকিবাজির মতো কিছু থাকতে পারে। ব্যাপারটা সম্ভব হতে পারে, কেবল কিছুটা সাপুড়ের পোষা সাপের মাধ্যমেই।

প্রখ্যাত লেখক রেজাউর রহমানএর বইয়ের সহায়তায় এই রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে।

সাপ নিয়ে কিছু প্রবাদ ও কুসংস্কার (পর্ব-৩)

সাপ নিয়ে কিছু প্রবাদ ও কুসংস্কার (পর্ব-৩)

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

সামরিক ভাষার নীরব বিস্তার: ভদ্রতার আড়ালে বদলে যাচ্ছে নাগরিক সংস্কৃতি

সাপ নিয়ে কিছু প্রবাদ ও কুসংস্কার (পর্ব-৪)

০২:১৪:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৪

শিবলী আহম্মেদ সুজন

বিষক্রিয়ার তীব্রতা কমে এলে বা নির্দিষ্ট প্রতিবেশতাত্ত্বিক প্রভাবে ও শারীরবৃত্তীয় প্রতিরোধ বা সংশোধন কলাকৌশলের ঘাত-প্রতিঘাতে থেমে যাওয়া হৃৎপিণ্ডকে আবার সক্রিয় হয়ে উঠতে দেখা গেছে। এ জন্য অধুনা শুধু হৃৎপিণ্ড বন্ধ হয়ে যাওয়াতেই মৃত্যুর সংজ্ঞা টানা হয় না।

বরং প্রাণীর সামগ্রিক শারীরবৃত্তীয় অচলাবস্থার ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়। হিন্দুধর্মমতে, সাপে কাটা মৃত ব্যক্তিকে না পুড়িয়ে জলে ভাসিয়ে দেওয়ার প্রথা প্রচলিত আছে। মনসামঙ্গল কাব্যের লখিন্দরের বেলায়ও তা-ই হয়েছিল। ব্যাপারটা বিজ্ঞানসম্মতও বটে।

এই অবস্থায় কেউ কেউ বেঁচেও উঠেছে বলে শোনা যায়। এই অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান থেকেই হয়তো অনেক সময় মৃতজনের দেহে ঠান্ডা জিনিস প্রয়োগ করে ওঝাদের কৃতকার্য হতে দেখা গেছে। মানবদেহে তড়িতাঘাতের মতো হিমাঘাতেরও (কোল্ড শক) যথেষ্ট শারীরবৃত্তীয় প্রভাব রয়েছে।

এ ধরনের সফলতার ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় সেই কৃতী সাপুড়ে বা ওঝাকে নিয়ে হইচই পড়ে যাওয়াই স্বাভাবিক। তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। আবার এও শোনা গেছে, সাপে কাটা মৃত ব্যক্তির লাশ কবরে নষ্ট হয় না। যেভাবে কবরে রাখা হয় সেভাবেই থাকে।

এর কোনো বৈজ্ঞানিক যুক্তি নেই। তবে এমনটা হতে পারে, বিশেষ কোনো প্রাতিবেশিক অবস্থা (ঠান্ডা মাটির অস্বাভাবিক গঠনবিন্যাস, পচন অণুজীবের অনুপস্থিতি) সেই সাপে কাটা রোগীর দেহ দ্রুত পচনে সহায়ক না-ও হতে পারে। তবে ব্যাপারটা অনন্তকাল ধরে চলবে মনে করার কারণ নেই।

সাপে কাটা রোগীকে বাঁচানোর জন্য কোথাও কোথাও কড়িতে মন্ত্র পড়ে ছেড়ে দেওয়ার কাহিনির প্রচলন আছে। কিন্তু সেটা অবাস্তব কেচ্ছারই নামান্তর। কড়ি মাথায় দিয়ে ছেড়ে দেওয়া সাপে রোগীর ক্ষতস্থানে মুখ লাগিয়ে নামাজনে নেওয়ার ব্যাপারটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। সেখানে ভেলকিবাজির মতো কিছু থাকতে পারে। ব্যাপারটা সম্ভব হতে পারে, কেবল কিছুটা সাপুড়ের পোষা সাপের মাধ্যমেই।

প্রখ্যাত লেখক রেজাউর রহমানএর বইয়ের সহায়তায় এই রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে।

সাপ নিয়ে কিছু প্রবাদ ও কুসংস্কার (পর্ব-৩)

সাপ নিয়ে কিছু প্রবাদ ও কুসংস্কার (পর্ব-৩)