০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
সাগরে ১৬ ঘণ্টা ভেসে থাকার পর বাবা ও দুই ছেলেকে জীবিত উদ্ধার ব্রিটিশ ব্যবসার নীরবতা: রাজনীতিতে কথা না বলার খেসারত দিচ্ছে ব্যবসায়ীরা মোগাদিশুতে ফিরছে স্বস্তি, তবে শান্তির আড়ালে রয়ে গেছে বড় শঙ্কা জাম্বিয়ার তামার সমৃদ্ধি, কিন্তু মানুষের ঘরে স্বস্তি কোথায়? মক্কা চুক্তি: সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের নতুন প্রতিরক্ষা জোটে বদলে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ কলম্বিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে ২৬৫ মৃত্যু, উদ্ধার তৎপরতায় বৈষম্যের অভিযোগ মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক ইসলামের পতন, তবু শেষ হয়ে যায়নি মুসলিম ব্রাদারহুড ইউরোপকে এক করার অদৃশ্য কারিগর কারা? লেবার ও ব্যবসা: অ্যান্ডি বার্নহামের সামনে সম্পর্ক মেরামতের নতুন সুযোগ শান্তির কথা বলাই এখন রাশিয়ায় অপরাধ, নির্বাচনের দৌড় থেকে বাদ উদারপন্থী ইয়াব্লোকো

ইশকুল (পর্ব-২৮)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৪
  • 121

আর্কাদি গাইদার

চতুর্থ পরিচ্ছেদ

এরপর চুপ করে গেল ফেকা। এ-ব্যাপারেও ফেকা আমার চেয়ে বেশি জানে দেখে আবারও আমার রাগ ধরে গেল। আমাকেও জানতে হবে ব্যাপারটা, কিন্তু এমন কেউ নেই যার কাছ থেকে জানা যায়। মুশকিল এই যে এর বিন্দুবিসর্গও কোনো বইতে নেই। কেউ কখনও এ-বিষয়ে আমায় কিছু বলেও নি।

বাড়ি ফিরে খাওয়াদাওয়ার পর মা যখন বিশ্রাম নিতে শুয়েছেন তখন গুটিগুটি বিছানায় উঠে মা-র পাশে বসলুম। বললুম:

‘মা-মণি, আমায় উনিশ শো পাঁচ সম্বন্ধে কিছু বল না গো। অন্য ছেলেদের বাবা-মারা তো তাদের এ-সম্বন্ধে কত গল্প বলে। ফেদুকা কত মজার মজার গপ্পো জানে। আমি কিছুই জানতে পারি না, আমায় তোমরা কিছুই বল না।’

কথাটা শুনে ভুরু কুচকে মা হঠাৎ আমার দিকে ঘুরে তাকালেন। মনে হল, বুঝি আমায় বকতে যাচ্ছেন। তারপর আরও কী মনে ‘করে এমন অদ্ভুতভাবে আমার দিকে তাকালেন যেন জীবনে এই প্রথম তিনি আমায় দেখছেন।

‘উনিশ শো পাঁচ? কী বলছিস তুই?’

‘কী বলছি তা তো ভালোই জান। তুমি তো কত বড়, কত গায়ে জোর তোমার। ওই সময়ে তুমি নিশ্চয় অনেক বড় হয়ে গিয়েছিলে। আমি তো তখন এক বছরের বাচ্চা। আমার যে কিছু মনে নেই।’

‘আমি কী বলব বল? বরং তোর বাবাকে জিজ্ঞেস কর। উনি খুব ভালো গল্প বলতে পারেন। উনিশ শো পাঁচ সালে আমার যা জঘন্য দিন গেছে তোকে নিয়ে। এই ছোট্ট বাঁদরটার জন্যে কম ভুগি নি। তুই যা ছিলি না তখন, ভাবলে ভয় হয়। দিনরাত খালি চিল-চ্যাঁচাতিস। এক দণ্ড শান্তি ছিল না আমার। সারা রাত ধরে চ্যাঁচাতিস আর আমায় জালাতিস, তখন আমি কে, কোথায়-বা আছি, এসব কিছু হাশ ছিল না কি?’

কথাটা শুনে মনে একটু আঘাত পেলুম। বললুম, ‘কেন চ্যাঁচাতুম মা-মণি? বোধহয় ভয় পেয়ে, না? শুনেছি তখন নাকি গুলি চলেছিল আর কসাকরা অত্যাচার করেছিল। আমি ঘাবড়ে গিয়েছিলুম, নয়?’

 

জনপ্রিয় সংবাদ

সাগরে ১৬ ঘণ্টা ভেসে থাকার পর বাবা ও দুই ছেলেকে জীবিত উদ্ধার

ইশকুল (পর্ব-২৮)

০৮:০০:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৪

আর্কাদি গাইদার

চতুর্থ পরিচ্ছেদ

এরপর চুপ করে গেল ফেকা। এ-ব্যাপারেও ফেকা আমার চেয়ে বেশি জানে দেখে আবারও আমার রাগ ধরে গেল। আমাকেও জানতে হবে ব্যাপারটা, কিন্তু এমন কেউ নেই যার কাছ থেকে জানা যায়। মুশকিল এই যে এর বিন্দুবিসর্গও কোনো বইতে নেই। কেউ কখনও এ-বিষয়ে আমায় কিছু বলেও নি।

বাড়ি ফিরে খাওয়াদাওয়ার পর মা যখন বিশ্রাম নিতে শুয়েছেন তখন গুটিগুটি বিছানায় উঠে মা-র পাশে বসলুম। বললুম:

‘মা-মণি, আমায় উনিশ শো পাঁচ সম্বন্ধে কিছু বল না গো। অন্য ছেলেদের বাবা-মারা তো তাদের এ-সম্বন্ধে কত গল্প বলে। ফেদুকা কত মজার মজার গপ্পো জানে। আমি কিছুই জানতে পারি না, আমায় তোমরা কিছুই বল না।’

কথাটা শুনে ভুরু কুচকে মা হঠাৎ আমার দিকে ঘুরে তাকালেন। মনে হল, বুঝি আমায় বকতে যাচ্ছেন। তারপর আরও কী মনে ‘করে এমন অদ্ভুতভাবে আমার দিকে তাকালেন যেন জীবনে এই প্রথম তিনি আমায় দেখছেন।

‘উনিশ শো পাঁচ? কী বলছিস তুই?’

‘কী বলছি তা তো ভালোই জান। তুমি তো কত বড়, কত গায়ে জোর তোমার। ওই সময়ে তুমি নিশ্চয় অনেক বড় হয়ে গিয়েছিলে। আমি তো তখন এক বছরের বাচ্চা। আমার যে কিছু মনে নেই।’

‘আমি কী বলব বল? বরং তোর বাবাকে জিজ্ঞেস কর। উনি খুব ভালো গল্প বলতে পারেন। উনিশ শো পাঁচ সালে আমার যা জঘন্য দিন গেছে তোকে নিয়ে। এই ছোট্ট বাঁদরটার জন্যে কম ভুগি নি। তুই যা ছিলি না তখন, ভাবলে ভয় হয়। দিনরাত খালি চিল-চ্যাঁচাতিস। এক দণ্ড শান্তি ছিল না আমার। সারা রাত ধরে চ্যাঁচাতিস আর আমায় জালাতিস, তখন আমি কে, কোথায়-বা আছি, এসব কিছু হাশ ছিল না কি?’

কথাটা শুনে মনে একটু আঘাত পেলুম। বললুম, ‘কেন চ্যাঁচাতুম মা-মণি? বোধহয় ভয় পেয়ে, না? শুনেছি তখন নাকি গুলি চলেছিল আর কসাকরা অত্যাচার করেছিল। আমি ঘাবড়ে গিয়েছিলুম, নয়?’