০৪:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
সাগরে ১৬ ঘণ্টা ভেসে থাকার পর বাবা ও দুই ছেলেকে জীবিত উদ্ধার ব্রিটিশ ব্যবসার নীরবতা: রাজনীতিতে কথা না বলার খেসারত দিচ্ছে ব্যবসায়ীরা মোগাদিশুতে ফিরছে স্বস্তি, তবে শান্তির আড়ালে রয়ে গেছে বড় শঙ্কা জাম্বিয়ার তামার সমৃদ্ধি, কিন্তু মানুষের ঘরে স্বস্তি কোথায়? মক্কা চুক্তি: সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের নতুন প্রতিরক্ষা জোটে বদলে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ কলম্বিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে ২৬৫ মৃত্যু, উদ্ধার তৎপরতায় বৈষম্যের অভিযোগ মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক ইসলামের পতন, তবু শেষ হয়ে যায়নি মুসলিম ব্রাদারহুড ইউরোপকে এক করার অদৃশ্য কারিগর কারা? লেবার ও ব্যবসা: অ্যান্ডি বার্নহামের সামনে সম্পর্ক মেরামতের নতুন সুযোগ শান্তির কথা বলাই এখন রাশিয়ায় অপরাধ, নির্বাচনের দৌড় থেকে বাদ উদারপন্থী ইয়াব্লোকো

ইশকুল (পর্ব-৪৬)

  • Sarakhon Report
  • ০৮:০০:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৪
  • 124

আর্কাদি গাইদার

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ

মা আমাকে এক রকম কাপড় দিয়ে টিউনিক আর ট্রাউজার্স বানিয়ে দিলেন। কাপড়টাকে বলা হত শয়তানের চামড়া।

নির্ঘাত কাপড়টা শয়তানের পিঠের চামড়া থেকে তৈরি হয়েছিল তা না হলে একদিন মঠের ফলবাগানে ফল চুরি করতে গিয়ে প্রকান্ড, জবুথবু চেহারার এক সন্ন্যাসী লাঠি হাতে আমাদের তাড়া করলে পাঁচিল টপকে হাঁচড়পাঁচড় করে পালাতে গিয়ে আমার ট্রাউজার্স’ যখন একটা বড় পেরেকে আটকে গেল তখন শত টানাটানিতেও কাপড়টা ছিাড়ল না কেন। আর এর ফলে সেদিন পেরেকে ট্রাউজার্স বেধে আমি ঝুলতে থাকলুম আর সন্ন্যাসীটা বেশ আশ মিটিয়ে আমার পিঠে সজোরে গোটা দুই লাঠির ঘা লাগাল।

আরও একটা নতুনত্ব ঘটল জীবনে। আমাদের ইশকুলের সঙ্গে একজন সামরিক অফিসার যুক্ত হলেন। আমাদের জুটল সত্যিকার রাইফেলের মতো দেখতে সব কাঠের রাইফেল। তাই নিয়ে আমাদের সামরিক কুচকাওয়াজ শুরু হল।

এক পা-ওয়ালা সেই সৈনিকটি আমাদের চিঠি এনে দেবার পর বাবার কাছ থেকে আর একটিও চিঠি পাই নি। আমার ছোট্ট বোনটা সব সময়ে বাবার চিঠির অপেক্ষায় থাকত। ফেকার বাবাকে তাঁর ডাকপিওনের ব্যাগ নিয়ে রাস্তা দিয়ে যেতে দেখলেই আমার ছোট বোনটি জানলা দিয়ে বাইরে মাথা গলিয়ে রিট্রিনে গলায় ডাকাডাকি শুরু করত:

‘সেগে’ই-কাকা, বাবা কিছু পাঠিয়েছে?’

আর ওঁর কাছ থেকে সেই একই উত্তর মিলত:

‘না, খুকি, আজ তো আসে নি। তবে কাল নিশ্চই আসবে, দেখো।’ কাল- কাল কাল। সেই কাল কিন্তু আসত না কিছুতেই।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাগরে ১৬ ঘণ্টা ভেসে থাকার পর বাবা ও দুই ছেলেকে জীবিত উদ্ধার

ইশকুল (পর্ব-৪৬)

০৮:০০:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৪

আর্কাদি গাইদার

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ

মা আমাকে এক রকম কাপড় দিয়ে টিউনিক আর ট্রাউজার্স বানিয়ে দিলেন। কাপড়টাকে বলা হত শয়তানের চামড়া।

নির্ঘাত কাপড়টা শয়তানের পিঠের চামড়া থেকে তৈরি হয়েছিল তা না হলে একদিন মঠের ফলবাগানে ফল চুরি করতে গিয়ে প্রকান্ড, জবুথবু চেহারার এক সন্ন্যাসী লাঠি হাতে আমাদের তাড়া করলে পাঁচিল টপকে হাঁচড়পাঁচড় করে পালাতে গিয়ে আমার ট্রাউজার্স’ যখন একটা বড় পেরেকে আটকে গেল তখন শত টানাটানিতেও কাপড়টা ছিাড়ল না কেন। আর এর ফলে সেদিন পেরেকে ট্রাউজার্স বেধে আমি ঝুলতে থাকলুম আর সন্ন্যাসীটা বেশ আশ মিটিয়ে আমার পিঠে সজোরে গোটা দুই লাঠির ঘা লাগাল।

আরও একটা নতুনত্ব ঘটল জীবনে। আমাদের ইশকুলের সঙ্গে একজন সামরিক অফিসার যুক্ত হলেন। আমাদের জুটল সত্যিকার রাইফেলের মতো দেখতে সব কাঠের রাইফেল। তাই নিয়ে আমাদের সামরিক কুচকাওয়াজ শুরু হল।

এক পা-ওয়ালা সেই সৈনিকটি আমাদের চিঠি এনে দেবার পর বাবার কাছ থেকে আর একটিও চিঠি পাই নি। আমার ছোট্ট বোনটা সব সময়ে বাবার চিঠির অপেক্ষায় থাকত। ফেকার বাবাকে তাঁর ডাকপিওনের ব্যাগ নিয়ে রাস্তা দিয়ে যেতে দেখলেই আমার ছোট বোনটি জানলা দিয়ে বাইরে মাথা গলিয়ে রিট্রিনে গলায় ডাকাডাকি শুরু করত:

‘সেগে’ই-কাকা, বাবা কিছু পাঠিয়েছে?’

আর ওঁর কাছ থেকে সেই একই উত্তর মিলত:

‘না, খুকি, আজ তো আসে নি। তবে কাল নিশ্চই আসবে, দেখো।’ কাল- কাল কাল। সেই কাল কিন্তু আসত না কিছুতেই।