১১:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে বাংলাদেশ, অংশগ্রহণে আপত্তি নেই ইমরান খানের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পাকিস্তানের প্রতি সাবেক ক্রিকেট অধিনায়কদের আহ্বান লুকানো পেটের চর্বি হৃদ্‌যন্ত্রকে দ্রুত বুড়িয়ে দিতে পারে, বলছে নতুন গবেষণা মানুষের শিশুর মতোই গান শেখে তরুণ ফিঞ্চ পাখি গাজায় ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ নিহত ৩ নারীর শরীর নিয়ে মন্তব্য করার অধিকার কারও নেই, বললেন নাইমাল খাওয়ার তালেবান শাসনে আফগানিস্তান: বিবাহবিচ্ছেদ থেকে স্মার্টফোন, সর্বত্র নিয়ন্ত্রণের ছায়া ওয়েলসের সর্বোচ্চ পর্বতে লাইন নিয়ে তুমুল বিতর্ক, ‘এটা তো বিনোদনকেন্দ্র নয়’ আফগানিস্তানের বাণিজ্যপথ বদলে যাচ্ছে, বড় ঝুঁকিতে পাকিস্তানের শিল্প-বাণিজ্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অভিবাসন নিয়ম: বিদেশি শিক্ষার্থীদের ১৫ সেপ্টেম্বরের আগেই ফিরতে বলছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-১৩২)

  • Sarakhon Report
  • ১২:০০:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৫
  • 138

শশাঙ্ক মণ্ডল

অনেক উঁচু থেকে নীচে ঝাপ দেয় সন্ন্যাসীরা; ঝাঁপ দেবার আগে সন্ন্যাসীরা গলায় মালা ফুল, সব কিছু তলার ভক্তদের উদ্দেশ্যে ছুড়ে দেয় ঐ সব জিনিস সংগ্রহ করে উপস্থিত মানুষেরা পরম ভক্তি ভরে। একমনে দেবতার নাম স্মরণ করে অনেক উপর থেকে নীচে ঝাঁপ দেয় অনেক সময় নীচে জাল ধরে রাখে অনেক মানুষ। জালের ওপর সন্ন্যাসীরা পড়ে। কখনও কাঁটার ওপর ঝাঁপ দেয় একে কাটা ঝাঁপ বলা হয়। এ ভাবে নানা রকম পরীক্ষায় সন্ন্যাসীরা উত্তীর্ণ হয়। চড়ক দণ্ডের মাথায় বাঁশ বেঁধে দু প্রান্তে দু জন সন্ন্যাসী ঝুলে পড়ে এবং নানা রকম শারীরিক কসরত দেখাতে থাকে।

সন্ন্যাস গ্রহণের দিনগুলি সমস্ত সন্ন্যাসী সাংসারিক জীবনের সমস্ত দায়িত্ব থেকে নিজেদেরকে মুক্ত করে রাখে, বাড়িতে থাকে না। সকলে মিলে রান্না করে এবং নিরামিষ আহার গ্রহণ করে। নিজেরাই মাটির পাত্রে আতপ চাল রান্না করে নেয়। ঝাপান অনুষ্ঠানের পরে তারা মাটির কুমির ভাঙে। আগে থেকে একটা মাটির কুমির তারা তৈরি করে রাখে। কুমির মূর্তির সামনে কচ্ছপের মূর্তি আবার হনুমানের মূর্তিও তৈরি করা হয়। চড়কের ঝাপানের শেষে ঐ মাটির কুমির সন্ন্যাসীরা ভেঙে ফেলে শস্য চাষের অনুষ্ঠান করে।

সুন্দরবনের নদীতে অসংখ্য কুমির এবং তার সাথে কচ্ছপের মধ্য দিয়ে হিন্দু পুরাণের অবতারের স্মৃতি এসে যুক্ত হয়। প্রকৃতির শক্তিকে জয় করে মানুষের কৃষি উৎপাদন এগিয়ে চলে। সেজন্য এর আগে শস্যদেবতা শিবের বর মানুষ গ্রহণ করেছে। কুমির পূজা কালু রায়ের পূজা সুন্দরবনের অনেক স্থানে চৈত্র মাসে অনুষ্ঠিত হয়। চড়ক উৎসবের পাশাপাশি মেলা বসে, মেলায় নানা ধরনের জিনিষপত্র নিয়ে দূর দূরান্ত থেকে দোকানদাররা যোগ দেয়।

চড়ক উৎসব আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে, সন্ন্যাসীদের নানা রকম শারীরিক কসরত, সাহস, কাঁটা ঝাপ, শাণিত অস্ত্রের ওপর ঝাপ এসবের মধ্যে দিয়ে তা লক্ষ করা যায়, সুন্দরবনের বিভিন্ন প্রান্তে কিছু চড়ক উৎসব হত যেখানে সাহসী শক্তিমানরা শিবের আশীর্বাদ পাবার জন্য সন্ন্যাসী হত। সুন্দরবনের অনেক দস্যু ডাকাত দলের লোকেরা চড়ক পূজা উপলক্ষে সন্ন্যাসী হত। এদের নানা রকম আকর্ষণীয় ক্রিয়াকলাপ সাধারণ মানুষকে মুগ্ধ করত এবং দেল উৎসবের আকর্ষণ সাংঘাতিক ভাবে বাড়িয়ে তুলত।

গাজন শব্দের মধ্যে ধর্ম প্রচারের জয়োল্লাস বা হুঙ্কার বোঝানো হয়। ঘূর্ণমান চড়ক দণ্ড বৌদ্ধ ধর্মচক্রের ইঙ্গিত দেয়, নিরামিষাশী সন্ন্যাসীদের সাথে বৌদ্ধ শ্রমণদের মধ্যে মিল খুঁজেছেন অনেকে। বৌদ্ধ সহাজিয়া মতের শেষ সাধক যোগীরা চড়ক উৎসবে সুন্দরবনের বিভিন্ন প্রান্তে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করে-এসব বিবেচনা করে অনেকে চড়কের মধ্যে প্রচ্ছন্ন বৌদ্ধ উৎসবের স্মৃতি খুঁজে পেয়েছেন।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে বাংলাদেশ, অংশগ্রহণে আপত্তি নেই

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-১৩২)

১২:০০:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৫

শশাঙ্ক মণ্ডল

অনেক উঁচু থেকে নীচে ঝাপ দেয় সন্ন্যাসীরা; ঝাঁপ দেবার আগে সন্ন্যাসীরা গলায় মালা ফুল, সব কিছু তলার ভক্তদের উদ্দেশ্যে ছুড়ে দেয় ঐ সব জিনিস সংগ্রহ করে উপস্থিত মানুষেরা পরম ভক্তি ভরে। একমনে দেবতার নাম স্মরণ করে অনেক উপর থেকে নীচে ঝাঁপ দেয় অনেক সময় নীচে জাল ধরে রাখে অনেক মানুষ। জালের ওপর সন্ন্যাসীরা পড়ে। কখনও কাঁটার ওপর ঝাঁপ দেয় একে কাটা ঝাঁপ বলা হয়। এ ভাবে নানা রকম পরীক্ষায় সন্ন্যাসীরা উত্তীর্ণ হয়। চড়ক দণ্ডের মাথায় বাঁশ বেঁধে দু প্রান্তে দু জন সন্ন্যাসী ঝুলে পড়ে এবং নানা রকম শারীরিক কসরত দেখাতে থাকে।

সন্ন্যাস গ্রহণের দিনগুলি সমস্ত সন্ন্যাসী সাংসারিক জীবনের সমস্ত দায়িত্ব থেকে নিজেদেরকে মুক্ত করে রাখে, বাড়িতে থাকে না। সকলে মিলে রান্না করে এবং নিরামিষ আহার গ্রহণ করে। নিজেরাই মাটির পাত্রে আতপ চাল রান্না করে নেয়। ঝাপান অনুষ্ঠানের পরে তারা মাটির কুমির ভাঙে। আগে থেকে একটা মাটির কুমির তারা তৈরি করে রাখে। কুমির মূর্তির সামনে কচ্ছপের মূর্তি আবার হনুমানের মূর্তিও তৈরি করা হয়। চড়কের ঝাপানের শেষে ঐ মাটির কুমির সন্ন্যাসীরা ভেঙে ফেলে শস্য চাষের অনুষ্ঠান করে।

সুন্দরবনের নদীতে অসংখ্য কুমির এবং তার সাথে কচ্ছপের মধ্য দিয়ে হিন্দু পুরাণের অবতারের স্মৃতি এসে যুক্ত হয়। প্রকৃতির শক্তিকে জয় করে মানুষের কৃষি উৎপাদন এগিয়ে চলে। সেজন্য এর আগে শস্যদেবতা শিবের বর মানুষ গ্রহণ করেছে। কুমির পূজা কালু রায়ের পূজা সুন্দরবনের অনেক স্থানে চৈত্র মাসে অনুষ্ঠিত হয়। চড়ক উৎসবের পাশাপাশি মেলা বসে, মেলায় নানা ধরনের জিনিষপত্র নিয়ে দূর দূরান্ত থেকে দোকানদাররা যোগ দেয়।

চড়ক উৎসব আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে, সন্ন্যাসীদের নানা রকম শারীরিক কসরত, সাহস, কাঁটা ঝাপ, শাণিত অস্ত্রের ওপর ঝাপ এসবের মধ্যে দিয়ে তা লক্ষ করা যায়, সুন্দরবনের বিভিন্ন প্রান্তে কিছু চড়ক উৎসব হত যেখানে সাহসী শক্তিমানরা শিবের আশীর্বাদ পাবার জন্য সন্ন্যাসী হত। সুন্দরবনের অনেক দস্যু ডাকাত দলের লোকেরা চড়ক পূজা উপলক্ষে সন্ন্যাসী হত। এদের নানা রকম আকর্ষণীয় ক্রিয়াকলাপ সাধারণ মানুষকে মুগ্ধ করত এবং দেল উৎসবের আকর্ষণ সাংঘাতিক ভাবে বাড়িয়ে তুলত।

গাজন শব্দের মধ্যে ধর্ম প্রচারের জয়োল্লাস বা হুঙ্কার বোঝানো হয়। ঘূর্ণমান চড়ক দণ্ড বৌদ্ধ ধর্মচক্রের ইঙ্গিত দেয়, নিরামিষাশী সন্ন্যাসীদের সাথে বৌদ্ধ শ্রমণদের মধ্যে মিল খুঁজেছেন অনেকে। বৌদ্ধ সহাজিয়া মতের শেষ সাধক যোগীরা চড়ক উৎসবে সুন্দরবনের বিভিন্ন প্রান্তে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করে-এসব বিবেচনা করে অনেকে চড়কের মধ্যে প্রচ্ছন্ন বৌদ্ধ উৎসবের স্মৃতি খুঁজে পেয়েছেন।