০২:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে বাংলাদেশ, অংশগ্রহণে আপত্তি নেই ইমরান খানের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পাকিস্তানের প্রতি সাবেক ক্রিকেট অধিনায়কদের আহ্বান লুকানো পেটের চর্বি হৃদ্‌যন্ত্রকে দ্রুত বুড়িয়ে দিতে পারে, বলছে নতুন গবেষণা মানুষের শিশুর মতোই গান শেখে তরুণ ফিঞ্চ পাখি গাজায় ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ নিহত ৩ নারীর শরীর নিয়ে মন্তব্য করার অধিকার কারও নেই, বললেন নাইমাল খাওয়ার তালেবান শাসনে আফগানিস্তান: বিবাহবিচ্ছেদ থেকে স্মার্টফোন, সর্বত্র নিয়ন্ত্রণের ছায়া ওয়েলসের সর্বোচ্চ পর্বতে লাইন নিয়ে তুমুল বিতর্ক, ‘এটা তো বিনোদনকেন্দ্র নয়’ আফগানিস্তানের বাণিজ্যপথ বদলে যাচ্ছে, বড় ঝুঁকিতে পাকিস্তানের শিল্প-বাণিজ্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অভিবাসন নিয়ম: বিদেশি শিক্ষার্থীদের ১৫ সেপ্টেম্বরের আগেই ফিরতে বলছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-১৩৮)

  • Sarakhon Report
  • ১২:০০:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৫
  • 131

শশাঙ্ক মণ্ডল

পীর গোরাচাঁদ

পীর হজরত শাহ মৈয়দ আব্বাস আলি ওরফে পীর গোরাচাঁদকে ঐতিহাসিক ব্যক্তি হিসাবে অনেকে গ্রহণ করেছেন। শাহ জালালের শিষ্য হিসাবে ২৪ পরগণার হাড়োয়া বালান্দা অঞ্চলে ইসলাম ধর্ম প্রচারের দায়িত্ব তিনি গ্রহণ করেন। দেউলা বা দেবালয়ের স্বাধীন হিন্দু রাজা চন্দ্রকেতুকে ইসলামধর্মে দীক্ষিত করতে পারেন নি বটে তবে স্থানীয় এলাকার অনেক মানুষ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। হাতিয়াগড় পরগণার আকানন্দ বকানন্দের সঙ্গে যুদ্ধে আহত হন এবং ১৩৭৩ খ্রীষ্টাব্দে ১২ই ফাল্গুন মৃত্যু বরণ করেন। গোরাচাঁদের মৃত্যুকে স্মরণ করে ফকিররা এখনও গান গায়

‘গোরাচাঁদ একদিল রহিল অনেক দূর

গোরা গেল বালান্দায় একদিল আনারপুর

হেতেগড়ে যেতে গোরার মা দিয়েছে বাঁধা

হেতেগড় যায় না গোরা আছে হারামজাদা।

আকানন্দ বকানন্দ রাবণের শালা

তার সঙ্গে যুদ্ধ হইল আড়াই পক্ষ বেলা।

কি জানি আল্লার মর্জি নসিবের ফের,

চেকোবানে গোরাচাঁদের কাটা গেল ছের।।

পীর গোরাচাঁদের সময়সীমা নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে বিতর্ক আছে। তবে সকলেই স্বীকার করেছেন বঙ্গে মুসলমান অধিকার সম্পূর্ণ হয়েছিল চতুর্দশ শতকের মধ্যে আর পীর গোরাচাঁদ শাহজালাল প্রমুখ ধর্ম প্রচারকদের আবির্ভাব এ সময়েই ঘটেছিল এ প্রসঙ্গে যদুনাথ সরকার মন্তব্য করেছেন The legendary account of Muslim con- quest in the last quarter of 14th Century’ পীর গোরাচাঁদের সমাধি হাড়োয়াতে প্রতি বছর ১২ই ফাল্গুণ মেলা হয়। গৌড়ের সুলতান আব্বাস উদ্দীন শাহ গোরাচাঁদের সমাধির ওপর এক সুদৃশ্য সৌধ নির্মাণ করেন।

পীরের মাজারে দুধ দেবার অধিকারী স্থানীয় গোপালকরা এখনও দুধ দিয়ে সাজার ধুয়ে পরিষ্কার করেন উৎসবের পূর্বে। পীর গোরাচাঁদের মুস্কিল আসনের গান গেয়ে বেড়ায় ফকিররা আর তার শ্রোতা হিন্দু মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ, ২৪ পরগনা খুলনা, হুগলীতে পীরের স্মৃতিতে অসংখ্য নজরগা তৈরি হয়েছে। বসিরহাট গাঙ ধুলোট বাদুড়িয়া শাকচূড়া জয়গ্রাম হাবড়ায় শেরপুর আমডাঙ্গা কামদেবপুর প্রভৃতি স্থানে পীরের অসংখ্য আস্তানা লক্ষ করা যায় এবং এ সব স্থানে হিন্দু মুসলমান নির্বিশেষে এখনও মানত শিরণি এবং বাৎসরিক উৎসব অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে বাংলাদেশ, অংশগ্রহণে আপত্তি নেই

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-১৩৮)

১২:০০:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৫

শশাঙ্ক মণ্ডল

পীর গোরাচাঁদ

পীর হজরত শাহ মৈয়দ আব্বাস আলি ওরফে পীর গোরাচাঁদকে ঐতিহাসিক ব্যক্তি হিসাবে অনেকে গ্রহণ করেছেন। শাহ জালালের শিষ্য হিসাবে ২৪ পরগণার হাড়োয়া বালান্দা অঞ্চলে ইসলাম ধর্ম প্রচারের দায়িত্ব তিনি গ্রহণ করেন। দেউলা বা দেবালয়ের স্বাধীন হিন্দু রাজা চন্দ্রকেতুকে ইসলামধর্মে দীক্ষিত করতে পারেন নি বটে তবে স্থানীয় এলাকার অনেক মানুষ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। হাতিয়াগড় পরগণার আকানন্দ বকানন্দের সঙ্গে যুদ্ধে আহত হন এবং ১৩৭৩ খ্রীষ্টাব্দে ১২ই ফাল্গুন মৃত্যু বরণ করেন। গোরাচাঁদের মৃত্যুকে স্মরণ করে ফকিররা এখনও গান গায়

‘গোরাচাঁদ একদিল রহিল অনেক দূর

গোরা গেল বালান্দায় একদিল আনারপুর

হেতেগড়ে যেতে গোরার মা দিয়েছে বাঁধা

হেতেগড় যায় না গোরা আছে হারামজাদা।

আকানন্দ বকানন্দ রাবণের শালা

তার সঙ্গে যুদ্ধ হইল আড়াই পক্ষ বেলা।

কি জানি আল্লার মর্জি নসিবের ফের,

চেকোবানে গোরাচাঁদের কাটা গেল ছের।।

পীর গোরাচাঁদের সময়সীমা নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে বিতর্ক আছে। তবে সকলেই স্বীকার করেছেন বঙ্গে মুসলমান অধিকার সম্পূর্ণ হয়েছিল চতুর্দশ শতকের মধ্যে আর পীর গোরাচাঁদ শাহজালাল প্রমুখ ধর্ম প্রচারকদের আবির্ভাব এ সময়েই ঘটেছিল এ প্রসঙ্গে যদুনাথ সরকার মন্তব্য করেছেন The legendary account of Muslim con- quest in the last quarter of 14th Century’ পীর গোরাচাঁদের সমাধি হাড়োয়াতে প্রতি বছর ১২ই ফাল্গুণ মেলা হয়। গৌড়ের সুলতান আব্বাস উদ্দীন শাহ গোরাচাঁদের সমাধির ওপর এক সুদৃশ্য সৌধ নির্মাণ করেন।

পীরের মাজারে দুধ দেবার অধিকারী স্থানীয় গোপালকরা এখনও দুধ দিয়ে সাজার ধুয়ে পরিষ্কার করেন উৎসবের পূর্বে। পীর গোরাচাঁদের মুস্কিল আসনের গান গেয়ে বেড়ায় ফকিররা আর তার শ্রোতা হিন্দু মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ, ২৪ পরগনা খুলনা, হুগলীতে পীরের স্মৃতিতে অসংখ্য নজরগা তৈরি হয়েছে। বসিরহাট গাঙ ধুলোট বাদুড়িয়া শাকচূড়া জয়গ্রাম হাবড়ায় শেরপুর আমডাঙ্গা কামদেবপুর প্রভৃতি স্থানে পীরের অসংখ্য আস্তানা লক্ষ করা যায় এবং এ সব স্থানে হিন্দু মুসলমান নির্বিশেষে এখনও মানত শিরণি এবং বাৎসরিক উৎসব অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করে।