০৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
জাপানের লড়াকু ড্র, নেদারল্যান্ডসকে রুখে বিশ্বকাপে আত্মবিশ্বাসী সামুরাই ব্লু রামিসা হত্যা মামলায় প্রাণভিক্ষা চাইলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শূন্য পাতার ভয় কাটিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় গাইডেড জার্নালের উত্থান জাপানে সার সংকটের আশঙ্কা, বাড়ছে কৃষি ব্যয় স্ট্রিমিংয়ে রাজত্ব, কনসার্টে শূন্যতা? দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংগীত বাজারে ইন্দোনেশিয়ার নতুন ধাঁধা ইউরোপের নতুন বার্তা: যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এগোতে চায় মিত্ররা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে বৈদ্যুতিক গাড়ি: ভবিষ্যতের শক্তি নির্ধারণ করবে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তিতে ক্ষুব্ধ ইসরাইল, চাপে নেতানিয়াহু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে অগ্রগতি হলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে প্রস্তুত ইউরোপের চার দেশ তিন চাকার যানবাহন মহাসড়কে নয়, আসছে কঠোর নীতিমালা

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-১৪৮)

  • Sarakhon Report
  • ১২:০০:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • 126

শশাঙ্ক মণ্ডল

কবিগান

অষ্টাদশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধ থেকে উনিশ শতক জুড়ে এর ব্যাপকতা লক্ষ করা গেল – সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে এমনকী বিশ শতকের তৃতীয় দশক পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য কবিওয়ালা জনচিত্তকে আলোড়িত করে তুলেছিল। ঝুমুর যাত্রা পাচালীর সাথে কবিগানের অনেক ক্ষেত্রে মিল লক্ষ করা যায়। আসরে দাঁড়িয়ে মুখে মুখে তাৎক্ষণিক গান রচয়িতাদের কবি বা কবিয়ালের সম্মান দেয় জনসাধারণ, তাদের অসাধারণ এই ক্ষমতার জন্য। চাপান উতোর এর মধ্য দিয়ে মাঝে মাঝে ভীষণ ঝগড়া এমনকী মোটা দাগের অশ্লীলতা, গালি গালাজও চলত। এজন্য গৃহস্থের বাড়িতে কবির আসর না বসে হাটেবাজারে বারোয়ারি তলায় পূজামণ্ডপে এর আসর বসানো হত।

কবিগানের বিষয়বস্তুর মধ্যে পৌরাণিক কাহিনী থেকে সমকালীন ঘটনাও স্থান পেত। দেবদেবীর লীলারস থেকে মানবীয় কামনা বাসনার প্রীতিরসে পূর্ণ হয়ে উঠত।

কবিয়ালরা সে যুগে জনশিক্ষার কিছুটা দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। ধর্ম সমাজ নীতি বিদ্যা বিষয়ক জ্ঞানদান ছিল কবিগানের লক্ষ্য। বিতর্কের মাধ্যমে যুক্তিপ্রয়োগে সত্যের উদঘাটন ছিল তাদের অন্যতম প্রধান কর্তব্য। গ্রামের অজ্ঞ অশিক্ষিত মানুষের মনে সমাজ সচেতনতা ধর্মবোধ জাগানোর লক্ষ্যে অবিচল থেকে কবিয়ালরা সে যুগে লোক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছিল। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে কলকাতা সহ অন্যান্য শহরগুলিতে কবিগানের প্রভাব কমতে থাকে কিন্তু এ সময়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকাতে তার বিস্তৃতি লক্ষ করা গিয়েছিল।

দুর্গা পূজা উপলক্ষে বা অন্য কোন উৎসব উপলক্ষে সে দিন গ্রামে গঞ্জে অনেক জমিদার কাছারি বাড়িতে কবিগানের আসর বসানো হত। খুলনা বরিশালের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে পাঁচু দত্ত, রূপা পাঠা, হরমোহন মথুর সরকারদের কবিয়াল হিসাবে নাম ছড়িয়ে পড়ে। এরা সকলে যশোর খুলনার অধিবাসী ছিল। পরবর্তী কালে নিশিকান্ত সরকাব, রামবিলাস সরকাব, মহেন্দ্র সরকার, নকুল দত্ত, প্রমুখ কবিয়ালদের নামও উল্লেখযোগ্য। রামরূপের কবিখ্যাতি বরিশাল ফরিদপুর এবং পূর্ববঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। রাম রূপ ঠাকুরের কবিগানের নমুনা-

চিতেন:

শ্যাম আসার আশা পেয়ে সখীগণ সঙ্গে

নিয়ে বিনোদিনী

-যেমন চাতকিনী পিপাসায়, তৃষিতা জল

আশায় কুঞ্জ সাজায় কমলিনী ইত্যাদি।

ধুয়া-

ফিরে যাও হে নাগর, প্যারী বিচ্ছেদে হয়ে কাতর

আছে ঘুমাইয়ে

ফিরে যাও হে শ্যাম তোমার সম্মান নিয়ে।

খুলনা জেলায় জপসা গ্রামের কবিয়াল কামিনী ও তার আত্মীয় তারাচাঁদ অসংখ্য কবিগান রচনা করেছিল এবং তার বংশ ‘কবেল’ বংশ নামে পরিচিত ও সম্মানিত হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জাপানের লড়াকু ড্র, নেদারল্যান্ডসকে রুখে বিশ্বকাপে আত্মবিশ্বাসী সামুরাই ব্লু

ব্রিটিশ রাজত্বে সুন্দরবন (পর্ব-১৪৮)

১২:০০:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

শশাঙ্ক মণ্ডল

কবিগান

অষ্টাদশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধ থেকে উনিশ শতক জুড়ে এর ব্যাপকতা লক্ষ করা গেল – সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে এমনকী বিশ শতকের তৃতীয় দশক পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য কবিওয়ালা জনচিত্তকে আলোড়িত করে তুলেছিল। ঝুমুর যাত্রা পাচালীর সাথে কবিগানের অনেক ক্ষেত্রে মিল লক্ষ করা যায়। আসরে দাঁড়িয়ে মুখে মুখে তাৎক্ষণিক গান রচয়িতাদের কবি বা কবিয়ালের সম্মান দেয় জনসাধারণ, তাদের অসাধারণ এই ক্ষমতার জন্য। চাপান উতোর এর মধ্য দিয়ে মাঝে মাঝে ভীষণ ঝগড়া এমনকী মোটা দাগের অশ্লীলতা, গালি গালাজও চলত। এজন্য গৃহস্থের বাড়িতে কবির আসর না বসে হাটেবাজারে বারোয়ারি তলায় পূজামণ্ডপে এর আসর বসানো হত।

কবিগানের বিষয়বস্তুর মধ্যে পৌরাণিক কাহিনী থেকে সমকালীন ঘটনাও স্থান পেত। দেবদেবীর লীলারস থেকে মানবীয় কামনা বাসনার প্রীতিরসে পূর্ণ হয়ে উঠত।

কবিয়ালরা সে যুগে জনশিক্ষার কিছুটা দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। ধর্ম সমাজ নীতি বিদ্যা বিষয়ক জ্ঞানদান ছিল কবিগানের লক্ষ্য। বিতর্কের মাধ্যমে যুক্তিপ্রয়োগে সত্যের উদঘাটন ছিল তাদের অন্যতম প্রধান কর্তব্য। গ্রামের অজ্ঞ অশিক্ষিত মানুষের মনে সমাজ সচেতনতা ধর্মবোধ জাগানোর লক্ষ্যে অবিচল থেকে কবিয়ালরা সে যুগে লোক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছিল। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে কলকাতা সহ অন্যান্য শহরগুলিতে কবিগানের প্রভাব কমতে থাকে কিন্তু এ সময়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকাতে তার বিস্তৃতি লক্ষ করা গিয়েছিল।

দুর্গা পূজা উপলক্ষে বা অন্য কোন উৎসব উপলক্ষে সে দিন গ্রামে গঞ্জে অনেক জমিদার কাছারি বাড়িতে কবিগানের আসর বসানো হত। খুলনা বরিশালের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে পাঁচু দত্ত, রূপা পাঠা, হরমোহন মথুর সরকারদের কবিয়াল হিসাবে নাম ছড়িয়ে পড়ে। এরা সকলে যশোর খুলনার অধিবাসী ছিল। পরবর্তী কালে নিশিকান্ত সরকাব, রামবিলাস সরকাব, মহেন্দ্র সরকার, নকুল দত্ত, প্রমুখ কবিয়ালদের নামও উল্লেখযোগ্য। রামরূপের কবিখ্যাতি বরিশাল ফরিদপুর এবং পূর্ববঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। রাম রূপ ঠাকুরের কবিগানের নমুনা-

চিতেন:

শ্যাম আসার আশা পেয়ে সখীগণ সঙ্গে

নিয়ে বিনোদিনী

-যেমন চাতকিনী পিপাসায়, তৃষিতা জল

আশায় কুঞ্জ সাজায় কমলিনী ইত্যাদি।

ধুয়া-

ফিরে যাও হে নাগর, প্যারী বিচ্ছেদে হয়ে কাতর

আছে ঘুমাইয়ে

ফিরে যাও হে শ্যাম তোমার সম্মান নিয়ে।

খুলনা জেলায় জপসা গ্রামের কবিয়াল কামিনী ও তার আত্মীয় তারাচাঁদ অসংখ্য কবিগান রচনা করেছিল এবং তার বংশ ‘কবেল’ বংশ নামে পরিচিত ও সম্মানিত হয়েছে।