০২:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে বাংলাদেশ, অংশগ্রহণে আপত্তি নেই ইমরান খানের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পাকিস্তানের প্রতি সাবেক ক্রিকেট অধিনায়কদের আহ্বান লুকানো পেটের চর্বি হৃদ্‌যন্ত্রকে দ্রুত বুড়িয়ে দিতে পারে, বলছে নতুন গবেষণা মানুষের শিশুর মতোই গান শেখে তরুণ ফিঞ্চ পাখি গাজায় ইসরায়েলি হামলায় শিশুসহ নিহত ৩ নারীর শরীর নিয়ে মন্তব্য করার অধিকার কারও নেই, বললেন নাইমাল খাওয়ার তালেবান শাসনে আফগানিস্তান: বিবাহবিচ্ছেদ থেকে স্মার্টফোন, সর্বত্র নিয়ন্ত্রণের ছায়া ওয়েলসের সর্বোচ্চ পর্বতে লাইন নিয়ে তুমুল বিতর্ক, ‘এটা তো বিনোদনকেন্দ্র নয়’ আফগানিস্তানের বাণিজ্যপথ বদলে যাচ্ছে, বড় ঝুঁকিতে পাকিস্তানের শিল্প-বাণিজ্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অভিবাসন নিয়ম: বিদেশি শিক্ষার্থীদের ১৫ সেপ্টেম্বরের আগেই ফিরতে বলছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২৫৭)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৫
  • 118

শ্রী নিখিলনাথ রায়

কাউন্সিল হইতেও তাঁহার সুবিধার জন্য হুকুম প্রদত্ত হইল। কান্ত বাবুর প্রায় জমিদারী ও মহাল লোক- নাথের নামে লওয়া হইত, কিন্তু কাউন্সিলে ও রাজস্বকমিটি প্রভৃতি স্থানে কর্তৃপক্ষগণ এরূপ সাহস অবলম্বন করিতেন যে, কান্ত বাবুর নিজ নামে সমস্ত কথাবার্তা চালাইতে তাঁহারা কিছুমাত্র কুণ্ঠিত হইতেন না। উপরোক্ত পত্র হইতে ইহা বেশ বুঝা যায়।

যদিও কোম্পানীর নিয়মা- মুসারে কোন সরকারী কর্মচারীর বেনিয়ান বা পেস্কারাদি কোন জমি- দারী বা ফারম ইজারা লইতে পারিত না, তথাপি লোকনাথের নামে- কান্ত বাবুকে জমিদারী মহালাদি প্রদান করিয়া, তাঁহারা অনেক সময়ে *প্রকাশ্যভাবে কান্ত বাবুর নাম করিয়া তর্ক বিতর্ক করিয়াছেন। তাঁহারা যে অনেক সময়ে ডিরেক্টর প্রভৃতির আদেশ অবহেলা করিতেন, ইহা হইতে তাহা বেশ বুঝা যায়। উপরোক্ত পত্র ও তাহার উত্তর ১৭৭৪ খৃঃ অব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে লিখিত হয়। কমল উদ্দীন ১৭৭২ খৃঃ অব্দে হিজলীর ইজারদার নিযুক্ত হয়।

পূর্ব্বে একস্থানে লিখিত হইয়াছে যে, হেষ্টিংস দুঃখ করিয়া বলিয়াছিলেন যে, কমল উদ্দীন হিজলীর ইজারা লওয়ায় কান্তের লোকসান হইতেছে। সুতরাং বুঝা যাইতেছে যে, কমল উদ্দীন ইজারদার হইবার পূর্ব্বে ও পরে কান্তের সহিত হিজলীর লবণ মহালের বিশেষ সম্বন্ধ ছিল, এবং তাঁহার লাভের যাহাতে ক্ষতি না হয়, তদ্বিষয়ে কর্তৃপক্ষগণেরও বিশেষ দৃষ্টি ছিল। কমল উদ্দীনও প্রকাশ করিয়াছে, লোকনাথ রামপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নামে হিজলীর দরইজারা লইয়াছেন।

ইত্যাদি কারণে কমল উদ্দীন স্পষ্টতঃ কান্ত বাবুর বেনামদার না হইলেও, কমলের সহিত তাঁহার যে ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ ছিল, তাহাতে অণুমাত্র সন্দেহ নাই। সুতরাং ষ্টীফেন সাহেব বেভারিজ সাহেবকে প্রমাণাভাবে যে দোষ দিয়াছেন, তাহা সঙ্গত নহে। এইরূপে আমরা দেখিতে পাই যে, তৎকালে এ দেশে যে কোন লাভকর জমি- দারী বা মহাল ছিল, কান্ত বাবুর সহিত তাহাদের বিশেষ সম্বন্ধ ছিল। হেষ্টিংসের যত্নে চঞ্চলা লক্ষ্মী অনেক লোককে পরিত্যাগ করিয়া, কান্ত বাবুকে আশ্রয় করিতে বাধ্য হন। পরিবর্তনশীলা স্রোতস্বিনীর ন্যায় ভাগ্যলক্ষ্মীও বৈচিত্র্যময়ী।

 

 

জনপ্রিয় সংবাদ

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে বাংলাদেশ, অংশগ্রহণে আপত্তি নেই

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২৫৭)

১১:০০:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৫

শ্রী নিখিলনাথ রায়

কাউন্সিল হইতেও তাঁহার সুবিধার জন্য হুকুম প্রদত্ত হইল। কান্ত বাবুর প্রায় জমিদারী ও মহাল লোক- নাথের নামে লওয়া হইত, কিন্তু কাউন্সিলে ও রাজস্বকমিটি প্রভৃতি স্থানে কর্তৃপক্ষগণ এরূপ সাহস অবলম্বন করিতেন যে, কান্ত বাবুর নিজ নামে সমস্ত কথাবার্তা চালাইতে তাঁহারা কিছুমাত্র কুণ্ঠিত হইতেন না। উপরোক্ত পত্র হইতে ইহা বেশ বুঝা যায়।

যদিও কোম্পানীর নিয়মা- মুসারে কোন সরকারী কর্মচারীর বেনিয়ান বা পেস্কারাদি কোন জমি- দারী বা ফারম ইজারা লইতে পারিত না, তথাপি লোকনাথের নামে- কান্ত বাবুকে জমিদারী মহালাদি প্রদান করিয়া, তাঁহারা অনেক সময়ে *প্রকাশ্যভাবে কান্ত বাবুর নাম করিয়া তর্ক বিতর্ক করিয়াছেন। তাঁহারা যে অনেক সময়ে ডিরেক্টর প্রভৃতির আদেশ অবহেলা করিতেন, ইহা হইতে তাহা বেশ বুঝা যায়। উপরোক্ত পত্র ও তাহার উত্তর ১৭৭৪ খৃঃ অব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে লিখিত হয়। কমল উদ্দীন ১৭৭২ খৃঃ অব্দে হিজলীর ইজারদার নিযুক্ত হয়।

পূর্ব্বে একস্থানে লিখিত হইয়াছে যে, হেষ্টিংস দুঃখ করিয়া বলিয়াছিলেন যে, কমল উদ্দীন হিজলীর ইজারা লওয়ায় কান্তের লোকসান হইতেছে। সুতরাং বুঝা যাইতেছে যে, কমল উদ্দীন ইজারদার হইবার পূর্ব্বে ও পরে কান্তের সহিত হিজলীর লবণ মহালের বিশেষ সম্বন্ধ ছিল, এবং তাঁহার লাভের যাহাতে ক্ষতি না হয়, তদ্বিষয়ে কর্তৃপক্ষগণেরও বিশেষ দৃষ্টি ছিল। কমল উদ্দীনও প্রকাশ করিয়াছে, লোকনাথ রামপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নামে হিজলীর দরইজারা লইয়াছেন।

ইত্যাদি কারণে কমল উদ্দীন স্পষ্টতঃ কান্ত বাবুর বেনামদার না হইলেও, কমলের সহিত তাঁহার যে ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ ছিল, তাহাতে অণুমাত্র সন্দেহ নাই। সুতরাং ষ্টীফেন সাহেব বেভারিজ সাহেবকে প্রমাণাভাবে যে দোষ দিয়াছেন, তাহা সঙ্গত নহে। এইরূপে আমরা দেখিতে পাই যে, তৎকালে এ দেশে যে কোন লাভকর জমি- দারী বা মহাল ছিল, কান্ত বাবুর সহিত তাহাদের বিশেষ সম্বন্ধ ছিল। হেষ্টিংসের যত্নে চঞ্চলা লক্ষ্মী অনেক লোককে পরিত্যাগ করিয়া, কান্ত বাবুকে আশ্রয় করিতে বাধ্য হন। পরিবর্তনশীলা স্রোতস্বিনীর ন্যায় ভাগ্যলক্ষ্মীও বৈচিত্র্যময়ী।