১১:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
পার্কিনসনের চিকিৎসা: ওষুধের সীমা পেরিয়ে নতুন পথের সন্ধান ভারতের ধর্মের সুরে রাজনীতি: সায়নী ঘোষের বার্তা, বিভাজনের ভাষা না সহাবস্থানের রাজপথ? দিদি বনাম দিদি: পশ্চিমবঙ্গের ভোটে নিঃশব্দ লড়াইয়ের অদৃশ্য রাজনীতি পশ্চিমবঙ্গের ভোটের শেষ লড়াইয়ের আগে প্রচারের মাঠে বিজেপির মুখের সংকট: পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে নেতৃত্বহীনতার প্রশ্নে নতুন বিতর্ক ইন্দোনেশিয়ার লোককথা থেকে বিশ্বমঞ্চে: ‘পারা পেরাসুক’ ছবির সাফল্যের গল্প শৌখিন অ্যাকুয়ারিয়ামের ‘ সাপুসাপু ‘ মাছ এখন ইন্দোনেশিয়ার বিপদ ইরান যুদ্ধের ধাক্কা: অন্তত আট মাস ভোগান্তিতে ব্রিটিশ অর্থনীতি, সতর্ক করলেন সরকার আমেরিকায় হাম ফিরে আসছে: টিকাদানে শিথিলতা, সামনে আরও বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা ৩০ হাজার হামলা, তবু জয় নেই: ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল কি সত্যিই এগিয়ে?

প্রাচীন ভারতে গণিতচর্চা (পর্ব-৬৩)

  • Sarakhon Report
  • ১০:১০:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৫
  • 58

প্রদীপ কুমার মজুমদার

অসুবিধার কথা বলতে গেলে প্রধানত একটি অসুবিধার কথাই মনে আসে। সেটি হচ্ছে-এই পদ্ধতিতে একই শব্দের সাহায্যে নানা ধরণের সংখ্যা নির্দেশ করতে পারে। যেমন ধরা যাক “পঙক্তি” শব্দটি। এটিতে পাঁচটি পাদ আছে এবং প্রতিটি পাদে ৮টি করে অক্ষর আছে। সুতরাং মোট ৪০টি অক্ষর আছে। অতএব পড়ুক্তি -৪০ ধরা হবে। কিন্তু বেদে পাদের প্রতি লক্ষ্য রেখে পংক্তি-৫ ধরা হয়ে হয়েছে। আবার পরবর্তী কালে কোথাও কোথাও যেমন পদ্মপুরাণের পাতাল খণ্ডে পড়ুক্তি – ১০ ধরা হয়েছে।

এখানে বলা হয়েছে:

অযোধ্যায়াং মহারাজঃ পুরা পত্র ক্তিরখো বলী।
তক্ষাত্মজো রামচন্দ্রঃ সর্ব্বশূরশিরমণিঃ৪

এখানে “পঙক্তিরখ” শব্দটির অর্থ দশরথ অর্থাৎ পড়ুক্তি=১০ ধরা হয়েছে। “বিরাট” শব্দটি ঐতরেয় ব্রাহ্মণে ১০ সংখ্যা ধরা হয়েছে। কিন্তু কোথাও কোথাও বিরাট = ৩০ উল্লেখ করা হয়েছে। ঠিক এইভাবে ‘যটশতং’কে কেউ বলেন ৬০০, আবার কেউ বলেন ১০৬। সেইরূপ ‘পঞ্চশতং’কে কেউ বলেন ৫০০, আবার কেউ বলেন ১০৫।
ভারতবর্ষে কবে নাগাদ নাম সংখ্যার প্রচলন হয়েছিল তা নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে রীতিমত বিরোধ রয়েছে।

জি. আর. ক্যে মনে করেন গ্রীষ্টীয় নবম শতাব্দীতে “নাম সংখ্যা” ভারতীয় গণিতশাস্ত্রে প্রবেশ করে। ওয়েবার (বেবর) প্রমুখ ঐতিহাসিকেরা মনে করেন এই পদ্ধতি ভারতীয় গণিতশাস্ত্রে অতি প্রাচীনকাল থেকেই আছে। আমরা যদি বেদ, পুরাণ, স্মৃতি প্রভৃতি ভারতীয় গ্রন্থ পর্যালোচনা করি তাহ’লে এই সব গ্রন্থে নাম সংখ্যার প্রয়োগ ভূরি ভূরি দেখতে পাবো। বেদের মধ্যে নাম সংখ্যার উল্লেখ আছে। এ গুলির কিছু কিছু নিয়ে আলোচনা করা যাক।

(চলবে)

প্রাচীন ভারতে গণিতচর্চা (পর্ব-৬২)

প্রাচীন ভারতে গণিতচর্চা (পর্ব-৬২)

পার্কিনসনের চিকিৎসা: ওষুধের সীমা পেরিয়ে নতুন পথের সন্ধান

প্রাচীন ভারতে গণিতচর্চা (পর্ব-৬৩)

১০:১০:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৫

প্রদীপ কুমার মজুমদার

অসুবিধার কথা বলতে গেলে প্রধানত একটি অসুবিধার কথাই মনে আসে। সেটি হচ্ছে-এই পদ্ধতিতে একই শব্দের সাহায্যে নানা ধরণের সংখ্যা নির্দেশ করতে পারে। যেমন ধরা যাক “পঙক্তি” শব্দটি। এটিতে পাঁচটি পাদ আছে এবং প্রতিটি পাদে ৮টি করে অক্ষর আছে। সুতরাং মোট ৪০টি অক্ষর আছে। অতএব পড়ুক্তি -৪০ ধরা হবে। কিন্তু বেদে পাদের প্রতি লক্ষ্য রেখে পংক্তি-৫ ধরা হয়ে হয়েছে। আবার পরবর্তী কালে কোথাও কোথাও যেমন পদ্মপুরাণের পাতাল খণ্ডে পড়ুক্তি – ১০ ধরা হয়েছে।

এখানে বলা হয়েছে:

অযোধ্যায়াং মহারাজঃ পুরা পত্র ক্তিরখো বলী।
তক্ষাত্মজো রামচন্দ্রঃ সর্ব্বশূরশিরমণিঃ৪

এখানে “পঙক্তিরখ” শব্দটির অর্থ দশরথ অর্থাৎ পড়ুক্তি=১০ ধরা হয়েছে। “বিরাট” শব্দটি ঐতরেয় ব্রাহ্মণে ১০ সংখ্যা ধরা হয়েছে। কিন্তু কোথাও কোথাও বিরাট = ৩০ উল্লেখ করা হয়েছে। ঠিক এইভাবে ‘যটশতং’কে কেউ বলেন ৬০০, আবার কেউ বলেন ১০৬। সেইরূপ ‘পঞ্চশতং’কে কেউ বলেন ৫০০, আবার কেউ বলেন ১০৫।
ভারতবর্ষে কবে নাগাদ নাম সংখ্যার প্রচলন হয়েছিল তা নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে রীতিমত বিরোধ রয়েছে।

জি. আর. ক্যে মনে করেন গ্রীষ্টীয় নবম শতাব্দীতে “নাম সংখ্যা” ভারতীয় গণিতশাস্ত্রে প্রবেশ করে। ওয়েবার (বেবর) প্রমুখ ঐতিহাসিকেরা মনে করেন এই পদ্ধতি ভারতীয় গণিতশাস্ত্রে অতি প্রাচীনকাল থেকেই আছে। আমরা যদি বেদ, পুরাণ, স্মৃতি প্রভৃতি ভারতীয় গ্রন্থ পর্যালোচনা করি তাহ’লে এই সব গ্রন্থে নাম সংখ্যার প্রয়োগ ভূরি ভূরি দেখতে পাবো। বেদের মধ্যে নাম সংখ্যার উল্লেখ আছে। এ গুলির কিছু কিছু নিয়ে আলোচনা করা যাক।

(চলবে)

প্রাচীন ভারতে গণিতচর্চা (পর্ব-৬২)

প্রাচীন ভারতে গণিতচর্চা (পর্ব-৬২)