০১:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
পার্কিনসনের চিকিৎসা: ওষুধের সীমা পেরিয়ে নতুন পথের সন্ধান ভারতের ধর্মের সুরে রাজনীতি: সায়নী ঘোষের বার্তা, বিভাজনের ভাষা না সহাবস্থানের রাজপথ? দিদি বনাম দিদি: পশ্চিমবঙ্গের ভোটে নিঃশব্দ লড়াইয়ের অদৃশ্য রাজনীতি পশ্চিমবঙ্গের ভোটের শেষ লড়াইয়ের আগে প্রচারের মাঠে বিজেপির মুখের সংকট: পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে নেতৃত্বহীনতার প্রশ্নে নতুন বিতর্ক ইন্দোনেশিয়ার লোককথা থেকে বিশ্বমঞ্চে: ‘পারা পেরাসুক’ ছবির সাফল্যের গল্প শৌখিন অ্যাকুয়ারিয়ামের ‘ সাপুসাপু ‘ মাছ এখন ইন্দোনেশিয়ার বিপদ ইরান যুদ্ধের ধাক্কা: অন্তত আট মাস ভোগান্তিতে ব্রিটিশ অর্থনীতি, সতর্ক করলেন সরকার আমেরিকায় হাম ফিরে আসছে: টিকাদানে শিথিলতা, সামনে আরও বড় স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা ৩০ হাজার হামলা, তবু জয় নেই: ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল কি সত্যিই এগিয়ে?

হিউএনচাঙ (পর্ব-৮)

  • Sarakhon Report
  • ০৯:০০:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৫
  • 114

সত্যেন্দ্রকুমার বসু 

সুচুয়ানের রাজধানী চেংটু শহরে আরও অনেক পলাতক সন্ন্যাসী ও পণ্ডিতদের সঙ্গে তাঁদের দেখা হল। কুঙ হুইসসস্থর মঠে এঁদের সঙ্গে হিউএনচাঙ নানা বৌদ্ধশাস্ত্র পাঠ করে দু-তিন বছর কাটালেন। যে কোনো বিষয় একবার পড়লেই তিনি অধিগত করতে পারতেন। তাঁর অসাধারণ শাস্ত্রজ্ঞান ও বিচারশক্তির খ্যাতি দেশময় রাষ্ট্র হল। যদিও তিনি মহাযান সূত্রগুলির দিকেই বেশি আকৃষ্ট ছিলেন তবু হীনযানের অভিধর্ম- কোষশাস্ত্র ইত্যাদিও অধ্যয়ন করেন।

এইজন্যেই মধ্য এশিয়া আর ভারতবর্ষ পর্যটনের সময়ে তিনি নানা মতাবলম্বী পণ্ডিতদের সঙ্গে যে অসংখ্য বিচার করেন সেসব বিচারে সকল বৌদ্ধশাস্ত্রেরই বচন উদ্ধার করবার শক্তি থাকায় তিনি অসাধারণ পাণ্ডিত্যের আর বিচারশক্তির পরিচয় দিতে সক্ষম হন।

কুড়ি বৎসর বয়সে হিউএনচাঙ সম্পূর্ণরূপে সন্ন্যাস গ্রহণ করেন। এই সময় থেকে তিনি ‘ধর্মগুরু’ নামে পরিচিত হন। সুচুয়ান ত্যাগ করে এখন তিনি নতুন রাজবংশের রাজধানী চাং-আনে আসেন। এর পাঁচ শত বৎসর আগে কাশগর ও ভারতের বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা এখানে মঠ স্থাপন ক’রে মহাযান ও হীনযানের অসংখ্য ধর্মগ্রন্থ সংস্কৃত থেকে চীন ভাষায় অনূদিত করতে আরম্ভ করেছিলেন।

হিউএনচাঙের সময়েও এখানে বৌদ্ধশাস্ত্রের অনেক উপদেষ্টা ছিলেন কিন্তু এঁরা সকলে এক মতাবলম্বী ছিলেন না। প্রত্যেকেই একটা আলাদা মতের অনুসরণ করতেন। হিউএনচাঙের জীবনীলেখক বলেন, ধর্মগুরু বুঝতে পারলেন যে, এইসব পণ্ডিতদের প্রত্যেকেই বিশিষ্ট জ্ঞানী ছিলেন। কিন্তু তিনি যখন শাস্ত্রের সঙ্গে এঁদের মতবাদ মিলিয়ে দেখতে চেষ্টা করলেন তখন দেখলেন যে, নানা শাস্ত্রের নানা মত। কোন্টা খাঁটি তা বোঝা অসম্ভব হল। তখন তিনি মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলেন যে, তিনি পশ্চিমদেশে (ভারতবর্ষ) পর্যটন করে নিজের সন্দেহ ভঞ্জন করবেন।

চলবে

হিউএনচাঙ (পর্ব-৭)

হিউএনচাঙ (পর্ব-৭)

পার্কিনসনের চিকিৎসা: ওষুধের সীমা পেরিয়ে নতুন পথের সন্ধান

হিউএনচাঙ (পর্ব-৮)

০৯:০০:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৫

সত্যেন্দ্রকুমার বসু 

সুচুয়ানের রাজধানী চেংটু শহরে আরও অনেক পলাতক সন্ন্যাসী ও পণ্ডিতদের সঙ্গে তাঁদের দেখা হল। কুঙ হুইসসস্থর মঠে এঁদের সঙ্গে হিউএনচাঙ নানা বৌদ্ধশাস্ত্র পাঠ করে দু-তিন বছর কাটালেন। যে কোনো বিষয় একবার পড়লেই তিনি অধিগত করতে পারতেন। তাঁর অসাধারণ শাস্ত্রজ্ঞান ও বিচারশক্তির খ্যাতি দেশময় রাষ্ট্র হল। যদিও তিনি মহাযান সূত্রগুলির দিকেই বেশি আকৃষ্ট ছিলেন তবু হীনযানের অভিধর্ম- কোষশাস্ত্র ইত্যাদিও অধ্যয়ন করেন।

এইজন্যেই মধ্য এশিয়া আর ভারতবর্ষ পর্যটনের সময়ে তিনি নানা মতাবলম্বী পণ্ডিতদের সঙ্গে যে অসংখ্য বিচার করেন সেসব বিচারে সকল বৌদ্ধশাস্ত্রেরই বচন উদ্ধার করবার শক্তি থাকায় তিনি অসাধারণ পাণ্ডিত্যের আর বিচারশক্তির পরিচয় দিতে সক্ষম হন।

কুড়ি বৎসর বয়সে হিউএনচাঙ সম্পূর্ণরূপে সন্ন্যাস গ্রহণ করেন। এই সময় থেকে তিনি ‘ধর্মগুরু’ নামে পরিচিত হন। সুচুয়ান ত্যাগ করে এখন তিনি নতুন রাজবংশের রাজধানী চাং-আনে আসেন। এর পাঁচ শত বৎসর আগে কাশগর ও ভারতের বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা এখানে মঠ স্থাপন ক’রে মহাযান ও হীনযানের অসংখ্য ধর্মগ্রন্থ সংস্কৃত থেকে চীন ভাষায় অনূদিত করতে আরম্ভ করেছিলেন।

হিউএনচাঙের সময়েও এখানে বৌদ্ধশাস্ত্রের অনেক উপদেষ্টা ছিলেন কিন্তু এঁরা সকলে এক মতাবলম্বী ছিলেন না। প্রত্যেকেই একটা আলাদা মতের অনুসরণ করতেন। হিউএনচাঙের জীবনীলেখক বলেন, ধর্মগুরু বুঝতে পারলেন যে, এইসব পণ্ডিতদের প্রত্যেকেই বিশিষ্ট জ্ঞানী ছিলেন। কিন্তু তিনি যখন শাস্ত্রের সঙ্গে এঁদের মতবাদ মিলিয়ে দেখতে চেষ্টা করলেন তখন দেখলেন যে, নানা শাস্ত্রের নানা মত। কোন্টা খাঁটি তা বোঝা অসম্ভব হল। তখন তিনি মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলেন যে, তিনি পশ্চিমদেশে (ভারতবর্ষ) পর্যটন করে নিজের সন্দেহ ভঞ্জন করবেন।

চলবে

হিউএনচাঙ (পর্ব-৭)

হিউএনচাঙ (পর্ব-৭)