০৪:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
সিঙ্গাপুরের আবর্জনা ব্যবস্থার ৬০ বছরের শিক্ষা: প্রযুক্তি বদলেছে, মানুষের অভ্যাস কতটা বদলেছে? এক দশকের মোড় ঘুরে গেল: টিভি-সংবাদপত্রকে পেছনে ফেলে বিশ্বের প্রধান সংবাদমাধ্যম এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা: শান্তির আশা নাকি নতুন অনিশ্চয়তার সূচনা? বিশ্বকাপের উন্মাদনায় এক হচ্ছে বিশ্ব, ফুটবলের ভাষায় গড়ে উঠছে সম্মান ও সহমর্মিতা সৃজনশীলতা চাই, কিন্তু কতটা সহনশীল আমরা? সিঙ্গাপুরে শিল্পচর্চা নিয়ে নতুন বিতর্ক জাপানের নগর উন্নয়ন প্রকল্পে বড় ধাক্কা, ব্যয় বৃদ্ধি ও শ্রমিক সংকটে থমকে যাচ্ছে একের পর এক পরিকল্পনা এশিয়াজুড়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ, ছয় আঞ্চলিক সংস্থার চুক্তি ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি চুক্তি: স্বস্তির বার্তা পেলেও বেশি সুবিধায় থাকতে পারে ইরান সিঙ্গাপুরে চাকরির বাজারে চাপ বাড়ছে, ছাঁটাই সর্বোচ্চ পর্যায়ে; ডিগ্রিধারীদের উদ্বেগ বেশি ভারতে ডিজেল ও বিমান জ্বালানি রপ্তানিতে বাড়ল অতিরিক্ত কর, অপরিবর্তিত পেট্রোল

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২৭০)

  • Sarakhon Report
  • ১১:০০:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ মার্চ ২০২৫
  • 126

শ্রী নিখিলনাথ রায়

পূর্ব্বে যে দেড়লক্ষ টাকার কথা বলা হইয়াছে, এ দুই লক্ষ তাহা হইতে বিভিন্ন! মণিবেগমের সেই মূল পত্র নন্দকুমারের নিকট হইতে হেষ্টিংস কিংবা তাঁহার কোনও লোক লইয়াছিলেন কি না, এই কথা কাউন্সিল হইতে জিজ্ঞাসা করা হইলে, নন্দকুমার উত্তর দেন যে, বেগম কান্ত বাবুর দ্বারা তাহা পেশ করিতে বলেন, কান্ত বাবুকে মূল পত্র -না দেওয়ায়, তিনি ইহার নকল লইতে চান। নন্দকুমার তাঁহার সমক্ষে নকল করিতে বলেন। সে দিন সন্ধ্যা হওয়ায়, তৎপর দিন লইবার কথা হয়।

কাউন্সিল হইতে এই সমস্ত বিষয়ের প্রমাণের জন্য কান্ত বাবুকে সমন দেওয়া হয়, কিন্তু হেষ্টিংসের নিষেধক্রমে তিনি প্রথমে উপস্থিত হন নাই। সুতরাং কাউন্সিলের সভ্যেরা নন্দকুমারের উপস্থাপিত অভিযোগ সম্বন্ধে আপনাদের বিবেচনানুযায়ী বিচার নিষ্পন্ন করেন। অনন্তর কাউন্সিলের অবমাননার হেতু প্রদর্শনের জন্য পুনরায় কান্তবাবুর নামে সমনপ্রেরণের জন্ম কাউন্সিলে তর্ক বিতর্ক উপস্থিত হয়। বারওয়েল সাহেব প্রথমে আপত্তি করেন। গবর্ণর জেনেরাল হেষ্টিংস সাহেব তাঁহাকে কলিকাতার সর্ব্বপ্রধান দেশীয় অধিবাসী বলিয়া, উল্লেখ করিয়া বলেন যে, সাধারণ বেনিয়ানদিগের ন্যায় তিনি গণ্য হইতে পারেন না।

এই সময়ে তিনি কান্ত বাবুর বংশমর্য্যাদার কথাও উল্লেখ করিয়াছিলেন। ক্লেভারিং সাহেব তাঁহাকে সাধারণ বেনিয়ানগণ হইতে বিভিন্ন মনে করেন নাই এবং প্রকাশ করেন যে, কান্ত বাবু যখন কোম্পানীর ইজারদার, তখন তিনি কাউন্সিলের আদেশ মানিতে বাধ্য।। বারওয়েলও তখন ইহাতে মত দেন। বারওয়েল প্রথমে আপত্তি করিলেও পরে ক্লেভারিংএর-প্রস্তাবে সম্মত হন। পরে কান্ত বাবুর নামে সমন প্রেরিত হইলে, তিনি তাঁহাদের সমক্ষে উপস্থিত হন। তাঁহাকে পূর্ব্ব সমনে উপস্থিত না হওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করায়, তিনি বলেন যে, গবর্ণর সাহেবের নিষেধক্রমে তিনি উপস্থিত হন নাই।

এতদ্দেশীয় লোকেরা গবর্ণরের আদেশের পরে কাউন্সিলের আদেশ মান্য করিয়া থাকে। গবর্ণর যদি উপস্থিত হইতে বলিতেন, তাহা হইলে তিনি কাউন্সিলের আদেশ মান্য করিতে ত্রুটি করিতেন না ইত্যাদি। কাউন্সিলের অবমাননার জন্য ক্লেভারিং সাহেব প্রস্তাব করেন যে, কান্ত বাবুকে কোন প্রকার গুরুতর শান্তি দেওয়া হউক। গবর্ণর জেনারেল বলেন যে, কান্ত বাবু, উচ্চপদস্থ বলিয়া সকলে তাঁহার সম্মান করিয়া থাকে। তাঁহার প্রতি কোন প্রকার শাস্তিবিধান হইতে পারে না। বিশেষতঃ তিনি গবর্ণর জেনারেলের কর্মচারী বলিয়া, সুপ্রীমকোর্টের সীমানিবিষ্ট ও কাউন্সিলের সীমাবহির্ভূত।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

সিঙ্গাপুরের আবর্জনা ব্যবস্থার ৬০ বছরের শিক্ষা: প্রযুক্তি বদলেছে, মানুষের অভ্যাস কতটা বদলেছে?

মুর্শিদাবাদ-কাহিনী (পর্ব-২৭০)

১১:০০:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ মার্চ ২০২৫

শ্রী নিখিলনাথ রায়

পূর্ব্বে যে দেড়লক্ষ টাকার কথা বলা হইয়াছে, এ দুই লক্ষ তাহা হইতে বিভিন্ন! মণিবেগমের সেই মূল পত্র নন্দকুমারের নিকট হইতে হেষ্টিংস কিংবা তাঁহার কোনও লোক লইয়াছিলেন কি না, এই কথা কাউন্সিল হইতে জিজ্ঞাসা করা হইলে, নন্দকুমার উত্তর দেন যে, বেগম কান্ত বাবুর দ্বারা তাহা পেশ করিতে বলেন, কান্ত বাবুকে মূল পত্র -না দেওয়ায়, তিনি ইহার নকল লইতে চান। নন্দকুমার তাঁহার সমক্ষে নকল করিতে বলেন। সে দিন সন্ধ্যা হওয়ায়, তৎপর দিন লইবার কথা হয়।

কাউন্সিল হইতে এই সমস্ত বিষয়ের প্রমাণের জন্য কান্ত বাবুকে সমন দেওয়া হয়, কিন্তু হেষ্টিংসের নিষেধক্রমে তিনি প্রথমে উপস্থিত হন নাই। সুতরাং কাউন্সিলের সভ্যেরা নন্দকুমারের উপস্থাপিত অভিযোগ সম্বন্ধে আপনাদের বিবেচনানুযায়ী বিচার নিষ্পন্ন করেন। অনন্তর কাউন্সিলের অবমাননার হেতু প্রদর্শনের জন্য পুনরায় কান্তবাবুর নামে সমনপ্রেরণের জন্ম কাউন্সিলে তর্ক বিতর্ক উপস্থিত হয়। বারওয়েল সাহেব প্রথমে আপত্তি করেন। গবর্ণর জেনেরাল হেষ্টিংস সাহেব তাঁহাকে কলিকাতার সর্ব্বপ্রধান দেশীয় অধিবাসী বলিয়া, উল্লেখ করিয়া বলেন যে, সাধারণ বেনিয়ানদিগের ন্যায় তিনি গণ্য হইতে পারেন না।

এই সময়ে তিনি কান্ত বাবুর বংশমর্য্যাদার কথাও উল্লেখ করিয়াছিলেন। ক্লেভারিং সাহেব তাঁহাকে সাধারণ বেনিয়ানগণ হইতে বিভিন্ন মনে করেন নাই এবং প্রকাশ করেন যে, কান্ত বাবু যখন কোম্পানীর ইজারদার, তখন তিনি কাউন্সিলের আদেশ মানিতে বাধ্য।। বারওয়েলও তখন ইহাতে মত দেন। বারওয়েল প্রথমে আপত্তি করিলেও পরে ক্লেভারিংএর-প্রস্তাবে সম্মত হন। পরে কান্ত বাবুর নামে সমন প্রেরিত হইলে, তিনি তাঁহাদের সমক্ষে উপস্থিত হন। তাঁহাকে পূর্ব্ব সমনে উপস্থিত না হওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করায়, তিনি বলেন যে, গবর্ণর সাহেবের নিষেধক্রমে তিনি উপস্থিত হন নাই।

এতদ্দেশীয় লোকেরা গবর্ণরের আদেশের পরে কাউন্সিলের আদেশ মান্য করিয়া থাকে। গবর্ণর যদি উপস্থিত হইতে বলিতেন, তাহা হইলে তিনি কাউন্সিলের আদেশ মান্য করিতে ত্রুটি করিতেন না ইত্যাদি। কাউন্সিলের অবমাননার জন্য ক্লেভারিং সাহেব প্রস্তাব করেন যে, কান্ত বাবুকে কোন প্রকার গুরুতর শান্তি দেওয়া হউক। গবর্ণর জেনারেল বলেন যে, কান্ত বাবু, উচ্চপদস্থ বলিয়া সকলে তাঁহার সম্মান করিয়া থাকে। তাঁহার প্রতি কোন প্রকার শাস্তিবিধান হইতে পারে না। বিশেষতঃ তিনি গবর্ণর জেনারেলের কর্মচারী বলিয়া, সুপ্রীমকোর্টের সীমানিবিষ্ট ও কাউন্সিলের সীমাবহির্ভূত।