১১:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
আমেরিকা বিক্রির হাওয়া: ডলার দুর্বল, স্বর্ণে ঝুঁকছে বিশ্ব বিনিয়োগ শবে বরাত আজ রাতে, ক্ষমা ও ভাগ্য নির্ধারণের পবিত্র রজনী বিজ্ঞানে ভর করে ভবিষ্যৎ গড়ছে আমিরাত, বিশ্ব নেতৃত্বের পথে জ্ঞানই শক্তি মারদানি থ্রি: শক্তিশালী শুরু, কিন্তু শেষ পর্যন্ত হোঁচট ইউরোপই সন্ত্রাস লালনের প্রধান ঘাঁটি হয়ে উঠেছে: ইউরোপীয় সিদ্ধান্তের কড়া জবাব বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর আইসিসির দ্বিমুখী নীতির কড়া সমালোচনা কামরান আকমলের, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটে অনড় থাকার আহ্বান অন্তর্বর্তী সরকার কর্মচারীদের বেতন বাড়াতে অর্থ বরাদ্দ দেবে: সালেহউদ্দিন সংস্কার উদ্যোগের স্বীকৃতিতে ঘাটতি: টিআইবির মূল্যায়ন প্রশ্নবিদ্ধ করলেন অর্থ উপদেষ্টা সারকারি ক্রয় কমিটির অনুমোদন, আসছে মৌসুমে কৃষির জন্য বিপুল সার আমদানি লক্ষ্মীপুরে অবৈধ ছয়টি নির্বাচনী সিলসহ ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

প্রাচীন ভারতে গণিতচর্চা (পর্ব-১১৪)

  • Sarakhon Report
  • ০৩:৫৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ মার্চ ২০২৫
  • 138

প্রদীপ কুমার মজুমদার

টেলরের পরেই রোসেনের নাম করতে হয়। প্রকৃতপক্ষে রোসেন টেলরের কথাই পুনরুক্তি করেছেন। পারসীক শব্দ হিন্দিসাই আরবী শব্দ হান্দাসা যার অর্থ জ্যামিতি। এবং এটি হিন্দু সংখ্যা সংক্রান্ত বিষয় উল্লেখ করতে গিয়ে বলা হয়েছে। যতদূর মনে হয় রোসেন এ মন্তব্য মহম্মদ ইবন মুসা অল খারেজমীর লেখা দেখে করেছেন। খারেজমী এক জায়গায় বলেছেন “বৃত্তের ব্যাসকে ৩ই দিয়ে গুণ করলে বৃত্তের পরিধি পাওয়া যাবে। অবশ্য এটি দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত হলেও এটি স্বপ্ন মান নয়।

জ্যামিতিবিদগণ (আহল অল হান্দাসা) আরও দুটি পদ্ধতি জানেন। তাদের মধ্যে একটি হচ্ছে ব্যাসকে ব্যাস দিয়ে গুণ করে ঐ ফলকে দশ দিয়ে গুণ করে মূল নিলে বৃত্তের পরিধি পাওয়া যাবে। অন্য পদ্ধতি হচ্ছে ব্যাসকে ৬২৮৩২০/২০০০০ দিয়ে গুণ করলে বৃত্তের পরিধি পাওয়া যাবে। এই প্রসঙ্গে বলা প্রয়োজন যে খোয়ারজমী ওয়াল আল-নাজুম মিনহাম এবং আহল অল হান্দাসা শব্দ দুটি ব্যবহার করেছেন।

এথেকে অনেকে মনে করেন ওয়াল-অল-নাজুম মিনহাম বলতে খোয়ারজমী জ্যামিতিবিদদের মধ্যে জ্যোতির্বিদ কথাটি বলতে চেয়েছেন। কিন্তু রোসেন মনে করেন বাগদাদের সভায় যে জ্যোতির্বিদ ও গণিতবিদ এসেছিলেন তাকে উদ্দেশ্য করে তিনি এ শব্দটি প্রয়োগ করেছেন। রোসেন তাঁর এই অনুমানের পিছনে যে যুক্তিটি খাড়া করেছেন সেটি হ’ল আহল অল হান্দাসা এবং ওয়াল অল নাজুম মিনহাম সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পদ্ধতি বা ঐ জাতের কিছু ভারতীয় গণিত গ্রন্থে দেখতে পাওয়া যায়।

এছাড়াও তিনি বলেছেন এ ব্যাপারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোন পদ্ধতি ভারতীয় গ্রন্থে ছিল না। তা ছাড়াও রোসেন আরও যুক্তি-তর্ক দিয়ে প্রমাণ করবার চেষ্টা করেছেন যে হান্দাসা বা হিন্দিসা ভারতীয় গণিত বা ভারতের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত শব্দকেই বোঝান হয়ে থাকে।

(চলবে)

প্রাচীন ভারতে গণিতচর্চা (পর্ব-১১৩)

প্রাচীন ভারতে গণিতচর্চা (পর্ব-১১৩)

জনপ্রিয় সংবাদ

আমেরিকা বিক্রির হাওয়া: ডলার দুর্বল, স্বর্ণে ঝুঁকছে বিশ্ব বিনিয়োগ

প্রাচীন ভারতে গণিতচর্চা (পর্ব-১১৪)

০৩:৫৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ মার্চ ২০২৫

প্রদীপ কুমার মজুমদার

টেলরের পরেই রোসেনের নাম করতে হয়। প্রকৃতপক্ষে রোসেন টেলরের কথাই পুনরুক্তি করেছেন। পারসীক শব্দ হিন্দিসাই আরবী শব্দ হান্দাসা যার অর্থ জ্যামিতি। এবং এটি হিন্দু সংখ্যা সংক্রান্ত বিষয় উল্লেখ করতে গিয়ে বলা হয়েছে। যতদূর মনে হয় রোসেন এ মন্তব্য মহম্মদ ইবন মুসা অল খারেজমীর লেখা দেখে করেছেন। খারেজমী এক জায়গায় বলেছেন “বৃত্তের ব্যাসকে ৩ই দিয়ে গুণ করলে বৃত্তের পরিধি পাওয়া যাবে। অবশ্য এটি দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত হলেও এটি স্বপ্ন মান নয়।

জ্যামিতিবিদগণ (আহল অল হান্দাসা) আরও দুটি পদ্ধতি জানেন। তাদের মধ্যে একটি হচ্ছে ব্যাসকে ব্যাস দিয়ে গুণ করে ঐ ফলকে দশ দিয়ে গুণ করে মূল নিলে বৃত্তের পরিধি পাওয়া যাবে। অন্য পদ্ধতি হচ্ছে ব্যাসকে ৬২৮৩২০/২০০০০ দিয়ে গুণ করলে বৃত্তের পরিধি পাওয়া যাবে। এই প্রসঙ্গে বলা প্রয়োজন যে খোয়ারজমী ওয়াল আল-নাজুম মিনহাম এবং আহল অল হান্দাসা শব্দ দুটি ব্যবহার করেছেন।

এথেকে অনেকে মনে করেন ওয়াল-অল-নাজুম মিনহাম বলতে খোয়ারজমী জ্যামিতিবিদদের মধ্যে জ্যোতির্বিদ কথাটি বলতে চেয়েছেন। কিন্তু রোসেন মনে করেন বাগদাদের সভায় যে জ্যোতির্বিদ ও গণিতবিদ এসেছিলেন তাকে উদ্দেশ্য করে তিনি এ শব্দটি প্রয়োগ করেছেন। রোসেন তাঁর এই অনুমানের পিছনে যে যুক্তিটি খাড়া করেছেন সেটি হ’ল আহল অল হান্দাসা এবং ওয়াল অল নাজুম মিনহাম সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পদ্ধতি বা ঐ জাতের কিছু ভারতীয় গণিত গ্রন্থে দেখতে পাওয়া যায়।

এছাড়াও তিনি বলেছেন এ ব্যাপারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোন পদ্ধতি ভারতীয় গ্রন্থে ছিল না। তা ছাড়াও রোসেন আরও যুক্তি-তর্ক দিয়ে প্রমাণ করবার চেষ্টা করেছেন যে হান্দাসা বা হিন্দিসা ভারতীয় গণিত বা ভারতের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত শব্দকেই বোঝান হয়ে থাকে।

(চলবে)

প্রাচীন ভারতে গণিতচর্চা (পর্ব-১১৩)

প্রাচীন ভারতে গণিতচর্চা (পর্ব-১১৩)